ঢাকা মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

চট্টগ্রামের ডেভিড ইমনের ৭ সহযোগী গ্রেপ্তার

চট্টগ্রামের ডেভিড ইমনের ৭ সহযোগী গ্রেপ্তার
×

ছবি: সমকাল

হাটহাজারী (চট্টগ্রাম) সংবাদদাতা

প্রকাশ: ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১৫:০৮

চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে সাঁড়াশি অভিযান চালিয়ে ডেভিড ইমনের সাত সহযোগীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাদের কাছ থেকে একটি তলোয়ার, একটি চাপাতি, একটি ছুরি, একটি টিপছোরা ও চাঁদাবাজির কাজে ব্যবহৃত বিদেশি নম্বরসহ চারটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে।

মঙ্গলবার বেলা ১২টার দিকে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান পুলিশ সুপার মাসুদ আলম। এর আগে সোমবার রাত থেকে ২৪ ঘণ্টার অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তাররা হলেন- হাটহাজারীর খন্দকিয়া এলাকার কামরুল হাসান ওরফে সাগর (২৫), মো. রিকু (২৫), মো. মানিক (৪০), নুরুল আলম (৪০), ছিপাতলী এলাকার আহমদুল্লাহ ওরফে মাসুম মেম্বার (৪০), চিনকদণ্ডী এলাকার আহমদ রেজা শাকিল (২৫) এবং নগরীর বায়েজিদ থানাধীন জালালাবাদ এলাকার মো. তরিকুল ইসলাম ওরফে রোহিত (২০)।

পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তারদের মধ্যে আহমদ রেজা শাকিলের বিরুদ্ধে অস্ত্র, চাঁদাবাজি, অপহরণ, ডাকাতির প্রস্তুতি, হত্যাচেষ্টা ও সন্ত্রাসবিরোধী আইনসহ আটটি মামলা রয়েছে। মানিকের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য ও ডাকাতির প্রস্তুতিসহ দুটি এবং কামরুল হাসান সাগর, মো. রিকু, তরিকুল ইসলাম রোহিত ও আহমদুল্লাহ ওরফে মাসুম মেম্বারের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসবিরোধী আইনসহ তিনটি করে মামলা রয়েছে।

জেলা পুলিশ সুপার মাসুদ আলম বলেন, চট্টগ্রামের হাটহাজারী ও বায়েজিদ বোস্তামী থানা এলাকায় বিদেশি নম্বর ব্যবহার করে বিভিন্ন ব্যক্তি ও ব্যবসায়ীর কাছে রায়হান, বড় সাজ্জাদসহ অন্যান্য নাম ব্যবহার করে চাঁদা দাবি ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের ঘটনা ঘটছে। এসব ঘটনায় তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

পুলিশ জানায়, সম্প্রতি হাটহাজারীর আমানবাজার এলাকার একজন চিকিৎসকের কাছে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে হুমকি দেওয়া হয়। চাঁদা না দিলে প্রাণে মেরে ফেলা এবং ‘১০০ জন পুলিশ পাহারায় থাকলেও রক্ষা করা যাবে না’ বলে ভয়ভীতি দেখানো হয়। একইভাবে বড়দিঘীর পাড় এলাকার একজন ব্যবসায়ীকেও বিদেশি নম্বর থেকে ফোন করে চাঁদা দাবি ও হুমকি দেওয়া হয়।

পুলিশ জানায়, এসব ঘটনায় তথ্যপ্রযুক্তি বিশ্লেষণ, গোপন সূত্র এবং আগে গ্রেপ্তার হওয়া ডেভিড ইমন ও কালা মোবারককে জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে চক্রটির সদস্যদের শনাক্ত করা হয়।

তদন্তে পাওয়া তথ্যের বরাত দিয়ে পুলিশ সুপার জানান, চক্রটি নাম ও পরিচয়কে অপকৌশল হিসেবে ব্যবহার করে সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে চাঁদা দাবি করত। নিজেদের পরিচয় গোপন রাখতে বিদেশি নম্বর ও হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে ফোন করে ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়া হতো।

তিনি বলেন, ডেভিড ইমন, কালা মোবারক, বড় সাজ্জাদ ও রায়হানসহ বিভিন্ন  নাম ব্যবহার করলেও গ্রেপ্তারকৃতরা নিজেদের একটি পৃথক চাঁদাবাজ চক্র গড়ে তুলেছিল। বিভিন্ন ব্যবসায়ী ও বিত্তবান ব্যক্তির সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করে তাদের টার্গেট করা এবং পরে নাম ব্যবহার করে ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে চাঁদা আদায় করাই ছিল তাদের মূল কৌশল।

পুলিশ সুপার বলেন, এ অভিযানের মাধ্যমে চট্টগ্রামসহ আশপাশের এলাকায় সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজি অনেক কমে আসবে। পর্যায়ক্রমে অন্যান্যদের আইনের আওতায় আনা হবে।
 

আরও পড়ুন

×