বাসমতীতে সম্ভাবনার হাতছানি
ছবি: সমকাল
গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১০ মে ২০২৪ | ১২:১২ | আপডেট: ১০ মে ২০২৪ | ১৫:২৮
প্রিমিয়ার জাতের বাসমতী চাল ভারত-পাকিস্তান থেকে আমদানি করতে হয়। সুপারশপে প্রতি কেজি ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা দরে বিক্রি হয়। এ চালের বিরিয়ানি, পোলাও এবং সাদা ভাত অভিজাত শ্রেণির কাছে সমাদৃত। এ জাতের বাসমতী চাল উৎপাদন হয়েছে গোপালগঞ্জে। বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি) এর নামকরণ করেছে ব্রিধান-১০৪।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বাসমতী চালের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। সম্ভাবনাময় ব্রিধান-১০৪-এর আবাদ বাড়লে রপ্তানির মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা আয় করা সম্ভব হবে। ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের গোপালগঞ্জ আঞ্চলিক কার্যালয়ের প্রধান ও জ্যেষ্ঠ বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম এ তথ্য জানিয়েছেন।
ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের গোপালগঞ্জ আঞ্চলিক কার্যালয় সূত্র জানায়, চলতি বোরো মৌসুমে জেলায় ৩০০ শতাংশের তিনটি প্রদর্শনী প্লটে ব্রিধান-১০৪ আবাদ করা হয়। উৎপাদিত ধান কৃষি বিজ্ঞানী, সম্প্রসারণ কর্মকর্তা ও কৃষকদের সামনে কেটে মাড়াই ও ওজন করে দেখা গেছে হেক্টরপ্রতি (১ হেক্টর ২৪৮ শতাংশ) ৬.৮ টন ফলন পাওয়া গেছে। প্রচলিত জাতের ধানের চেয়ে রোগবালাই ও পোকামাকড়ের আক্রমণও কম।
সদর উপজেলার হরিদাসপুর গ্রামের কৃষক মনির গাজী ১০০ শতাংশ জমিতে এ ধানের আবাদ করেছেন। ফলন পেয়েছেন প্রায় ২.৭৫০ টন। তাঁর ক্ষেতে আশানুরূপ ফলন দেখে আশপাশের কৃষকরাও এ ধান আবাদে আগ্রহ দেখাচ্ছেন। আগামী বছর দ্বিগুণ জমিতে এ ধানের আবাদ করবেন বলে জানান এই কৃষক।
বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা সৃজন চন্দ্র দাস বলেন, এতে আধুনিক উফশী ধানের সব বৈশিষ্ট্য বিদ্যমান। এর বীজ সংরক্ষণ করা যায়। গড় জীবনকাল ১৪৭ দিন। চালের আকৃতি লম্বা ও চিকন (৭.৫ মিমি লম্বা), রং সাদা।
সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাফরোজা আক্তার বলেন, ব্রিধান-১০৪-এর বাসমতী চাল বাণিজ্যিক কৃষিতে রূপান্তর করবে। বিদেশে এর চাহিদা থাকায় রপ্তানি করে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা আয় করা সম্ভব। কৃষকের আয়ও হবে কয়েক গুণ। তাই এ ধানের আবাদ সম্প্রসারণে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে।
