ঢাকা শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬

ডুমুরিয়ায় সেই ৩০ বিঘা জমি উদ্ধার ভূমিহীনদের

ডুমুরিয়ায় সেই ৩০ বিঘা জমি উদ্ধার ভূমিহীনদের
×

ফাইল ছবি

ডুমুরিয়া (খুলনা) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২৮ মে ২০২০ | ০৩:৩৮ | আপডেট: ৩০ নভেম্বর -০০০১ | ০০:০০

সাত বছর আগে খুলনার ডুমুরিয়ায় ৩০টি পরিবারকে ভদ্রা নদীর চরে খাস জমি বরাদ্দ দিয়েছিল সরকার। কিন্তু স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের বাধার কারণে তারা এতোদিন ওই জমি ভোগ করতে পারছিলেন না। এমনকি জমি নিয়ে বিরোধের জের ধরে প্রাণ দিতে হয়েছে স্বপন ঢালী নামের একজনকে। অবশেষে ওই জমির দখল নিয়েছে ভূমিহীনরা। এদের সবার বাড়ি ডুমুরিয়া উপজেলার মাগুরখালী ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে। 

ভূমি অফিস ও গ্রামবাসী জানায়, ডুমুরিয়া উপজেলার মাগুরখালী ইউনিয়নের চন্ডিপুর, বাঘারদাড়ী ও শিবপুর দুর্গম এলাকায় ভুমিহীন ৩০টি পরিবারকে ২০১২ সালে খাসজমি বরাদ্দ দেওয়া হয়। এদের মধ্যে স্বপন ঢালী, চঞ্চল মন্ডল, হরিদাস রায়, পবিত্র মন্ডল, অমল মিস্ত্রী ও প্রান্ত মল্লিকসহ ১৫টি পরিবারকে এক বিঘা করে সরকারি জমি রেজিষ্ট্রি দলিল সম্পাদন করে দেওয়া হয়। বাকি ১৫ জনের নামে ডিসিআর (এক সনা বন্দোবস্ত) দেওয়া হয়। ২০১৩ সালের ১০ এপ্রিল ওই ভুমিহীনরা জমি দখল নিতে যায়। সেসময় একই এলাকায় দুই ইউপি চেয়ারম্যান লাঠিয়াল পাঠিয়ে ভূমিহীনদের ওপর হামলা চালায়। তারা পিটিয়ে ভুমিহীন যুবক স্বপন ঢালীকে হত্যা এবং আরও ২০ জনকে জখম করে। এ ঘটনায় আজও আদালতে হত্যা মামলা চলমান। 

অবশেষে মঙ্গলবার সকালে কোনোরকম রক্তপাত ছাড়াই দুই চেয়ারম্যানের বর্গাদার রামান্দ মন্ডলকে তাড়িয়ে ওই জমি দখলে নিয়েছে ভূমিহীনরা। 

ডুমুরিয়া উপজেলা যুবলীগ সদস্য ব্রজেন হালদার এবং ভুমিহীনদের পক্ষে শ্রীনাথ রায় বলেন, দরিদ্রদের প্রতি অমানবিক আচরণ করা হচ্ছিল। সাত বছর পর স্থানীয় যুবসম্প্রদায়ের সহযোগিতায় ওই জমি দখল নেওয়া হয়।

জমির ব্যাপারে শরাফপুর ইউপির চেয়ারম্যান রবিউল ইসলাম রবি বলেন, ওই জমি গত জোট সরকারের সময় ডুমুরিয়ার তৎকালীন বিএনপি নেতা গাজী হুমায়ুন কবির বুলু অবৈধভাবে দখল করে মাছ চাষ করতেন। তিনি বলেন, মূলত শ্যামনগর ও চন্ডিপুর মৌজার জমি নিয়ে ভূমিহীনদের সঙ্গে আমার কোনো বিরোধ নেই। তেঁতুলতলা মৌজার কিছু জমি আমার ইউনিয়নভূক্ত। সেখানে আমার কিছু ভূমিহীন লোকের নাম প্রস্তাব দেওয়া আছে। তবে বিরোধপূর্ণ জমি মাগুরখালী ইউপি চেয়ারম্যানের লোক রামান্দ মন্ডলের দখলে ছিল।

এ ব্যাপারে মাগুরখালী ইউপি চেয়ারম্যান বিমল সানা বলেন, আমি এ ব্যাপারে কিছুই জানি না।   

ডুমুরিয়া থানার ওসি আমিনুল ইসলাম বিল্পব জানান, শুনেছি ভূমিহীনরা অনেক বছর পর জমি দখল নিয়েছে। স্থানীয় এমপির এপিএস পরিচয়ে জনৈক মাইকেল রায় ও কৃষক রামান্দ মন্ডল বুধবার দুপুরে থানায় এসেছিলেন জিডি করতে। উভয়পক্ষকে কাগজপত্র নিয়ে রোববার থানায় আসার কথা বলেছি।  

তবে স্থানীয় সংসদ সদস্য নারায়ণ চন্দ্র চন্দ বলেন, ওই জমি নিয়ে বিরোধের বিষয়টি ওসিকে বলেছি সমাধান করতে। আর মাইকেল রায় আমার এপিএস নয়। সে দলের (আ’লীগ) কর্মী মাত্র।

আরও পড়ুন

×