বগুড়ায় করোনায় বন্ধ হয়ে যাওয়া ‘চাষী বাজারে’র স্থান পরিবর্তন
বন্ধ রয়েছে বগুড়ার সবচেয়ে বড় মাছের আড়ত ‘ চাষী বাজার’
বগুড়া ব্যুরো
প্রকাশ: ২৮ মে ২০২০ | ০৪:৫৭ | আপডেট: ২৮ মে ২০২০ | ০৫:০৮
বগুড়ায় করোনাভাইরাসের সংক্রমণের কারণে বন্ধ হয়ে যাওয়া মাছের সবচেয়ে বড় আড়ত ‘চাষী বাজারে’র স্থান পরিবর্তন করে শহরের চারমাথা কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল সংলগ্ন এলাকায় বসানোর উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। বাস টার্মিনালের পূর্ব দিকে জোৎস্না ফিলিং স্টেশনের উত্তর দিকে সড়ক ও জনপথের (সওজ) জায়গায় বাজারটির স্থান নির্ধারণ করা হয়েছে। আগামী ২৯ মে থেকে সেখানে মাছের পাইকারি কেনা-বেচা শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, চাষী বাজারের ইজারাদারের পক্ষে বগুড়া মোটর মালিক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম জেলা প্রশাসক ফয়েজ আহাম্মদের কাছে বিকল্প মাছের বাজার বসানোর প্রস্তাব করলে তিনি সম্মতি দেন।
চাষী বাজারের ইজারাদারের ব্যবস্থাপক কানাইলাল জয় সোয়াল ময়না জানান, মাছের পাশাপাশি ওই বাজারে কলার পাইকারি কেনা- বেচারও সুযোগ দেওয়া হবে।
এর আগে গত ২১ মে ‘চাষী বাজারে’ কর্মরত প্রথম এক ব্যক্তি করোনায় আক্রান্ত হন। ২৩ মে আরও ১২জনের করোনা শনাক্ত হয়। এতে জনমনে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়লে ঈদের আগের দিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে বাজারটি লকডাউন করে দেওয়া হয়। সর্বশেষ গত ২৭ মে নতুন করে চাষী বাজারে কর্মরত ছিলেন এমন আরও ১২জনের শরীরে করোনাভাইরাসের উপস্থিতি মেলে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চাষী বাজারের আড়তগুলো বন্ধ থাকায় শহরের বাজারগুলোতে মাছ বিশেষত ছোট মাছের আদমদানি কমেছে। পাশাপাশি মাছের দামও বেড়েছে। বগুড়া শহরের ফতেহ্ আলী বাজারের ব্যবসায়ীরা জানান, পার্শ্ববর্তী চাষী বাজারের আড়তগুলো বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে তাদেরকে এখন জেলার মহাস্থান, মোকামতলা ও মাঝিড়া থেকে মাছ আনতে হচ্ছে। এতে পরিবহন ব্যয় বেশি হওয়ায় মাছের দামও বেড়ে যাচ্ছে।
বগুড়া মোটর মালিক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম জানান, চাষী বাজার বন্ধ হয়ে যাওযায় অন্যান্য বাজারের মত তার নিজ এলাকা গোদাড়পাড়াতেও মাছের আমদানি অস্বাভাবিকভাবে কমেছে। তিনি আরও জানান, ওই বাজারের মাছ ব্যবসায়ী এবং ক্রেতারা বাস টার্মিনাল এলাকায় অস্থায়ীভাবে মাছের আড়ত বসানোর দাবি জানালে তিনি জেলা প্রশাসকের কাছে প্রস্তাবটি তোলেন। পরে জেলা প্রশাসক তাতে অনুমতি দেন। তিনি বলেন, ‘যতদিন চাষী বাজার বন্ধ থাকবে ততদিনই ওখানে বাজারটি চালানো যেতে পারে।’
বগুড়ার জেলা প্রশাসক ফয়েজ আহাম্মদ বলেন, ‘শহরের চেলোপাড়ার চাষীবাজারে এত বেশি সংখ্যক মানুষ করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন যে আশ-পাশের এলাকার মানুষ চিন্তিত হয়ে পড়েছেন। যে কারণে বাজারটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।’
কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল এলাকায় মাছের বিকল্প আড়ত খোলার পরিকল্পনার ব্যাপারে তিনি বলেন, বিষয়টি নিয়ে আলাপ হয়েছে। জায়গা থাকলে এটা করা যেতে পারে বলে জানিয়েছি।
উল্লেখ্য, বগুড়ায় ‘চাষী বাজার’ প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল ওয়ান ইলেভনের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়। ফসল এবং মাছ চাষে সম্পৃক্ত চাষীরা যাতে ন্যায্যমূল্যে সরাসরি বিক্রেতাদের কাছে তাদের উৎপাদিত পণ্য বিক্রি করতে পরেন সেজন্য শহরের চেলোপাড়া এলাকায় রেলওয়ের জমিতে ওই বাজার লাগানো হয়। শুরুতে সেখানে সব ধরনের শাক-সবজি ও মাছ বেচা-কেনা হতো। পরবর্তীতে এটি শুধু মাছের আড়ত হিসেবে প্রতিষ্ঠা পায়।
‘চাষী বাজার’-এ নওগাঁ ও রাজশাহীসহ উত্তরাঞ্চলের কয়েকটি জেলা এবং বগুড়ার মৎস চাষীরা তাদের পুকুরের চাষ করা মাছ পাইকারি দরে বিক্রি করে থাকেন। ওই বাজারে ভোর ৫টা থেকে সকাল ৮টা পর্যন্ত পাইকারি কেনা-বেচা চলে। প্রতিদিন ২০টি আড়তে গড়ে অন্তত ৩০ ট্রাক মাছ কেনা-বেচা হয়। আড়তগুলোতে বর্তমানে শতাধিক শ্রমিক কর্মরত রয়েছেন।