ছিনতাইয়ের ঘটনায় মামলা নেয়নি পুলিশ
হাসপাতালে হামলায় আহত মেসার্স মৃধা এন্টারপ্রাইজের মালিক ইমন মৃধা। ছবি: সমকাল
দোহার (ঢাকা) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ৩১ জুলাই ২০২৪ | ২৩:০১ | আপডেট: ৩১ জুলাই ২০২৪ | ২৩:০১
ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলার বিকাশ এজেন্ট ব্যবসায়ীর ওপর দুর্বৃত্তরা অতর্কিত হামলা চালিয়ে টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনার পর আট দিন পেরিয়ে গেলেও মামলা নেয়নি পুলিশ।
ছিনতাই ও হামলার শিকার মেসার্স মৃধা এন্টারপ্রাইজের মালিক ইমন মৃধা (২৩) উপজেলার বারুয়াখালী ইউনিয়নের আলালপুর গ্রামের রিপন মৃধার ছেলে।
ইমন জানান, গত ২৩ জুলাই সন্ধ্যার পর তাঁর দোকান আলালপুর মসজিদ রোড থেকে পার্শ্ববর্তী খানেপুর বাজার এলাকায় গ্রাহকের কাছে বিকাশে আসা টাকা পৌঁছে দিতে হেঁটে যাচ্ছিলেন তিনি। পথে খানেপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের গেটের কাছে পৌঁছলে নয়নশ্রী ইউনিয়নের কান্দা খানেপুর গ্রামের শুভ (২৫), সৌরভসহ (২৩) অজ্ঞাতপরিচয় আরও ৩-৪ জনের একটি দল তাঁর পথরোধ করে। এ সময় তাঁর ব্যাগে কী আছে তা তারা দেখতে চাইলে তাঁর সঙ্গে তাদের ধস্তাধস্তি হয়। এক পর্যায়ে হাতুড়ি ও রড দিয়ে তাঁকে পিটিয়ে গুরুতর জখম করে তাঁর সঙ্গে থাকা ২ লাখ চার হাজার টাকা নিয়ে পালিয়ে যায়। এ সময় ইমনের চিৎকারে স্থানীয়রা এগিয়ে এসে তাঁকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। ইমন জানান, ছিনতাইকারীদের চিনে ফেলায় তাঁকে হত্যার চেষ্টা করে তারা।
ইমনের বাবা রিপন মৃধা জানান, হামলায় আহত ইমনের শারীরিক অবস্থা ভালো নয়। তাঁর মাথায় গুরুতর জখম রয়েছে। ছয় দিন হাসপাতালে থাকার পর বাড়িতে পরিবারের পরিচর্চায় রয়েছে ইমন। দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন তিনি।
এ ঘটনায় অভিযুক্ত কারও সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। স্থানীয়রা এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, হামলাকারীরা সবাই সন্ত্রাসী ও মাদকসেবী।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক খানেপুর উচ্চ বিদ্যালয়সংলগ্ন একাধিক বাসিন্দা অভিযোগ করেন, সন্ধ্যার পরই মাদক সেবনকারীরা স্কুলের ভেতরে আড্ডা দেয়। কেউ কিছু বললেই তাকে দেখে নেওয়ার হুমকি দেয়। এই সংঘবদ্ধ সন্ত্রাসীরা এলাকাবাসীর জন্য আতঙ্কের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এ বিষয়ে ঘটনার তদন্তে থাকা পুলিশের এসআই মনিরুল ইসলাম জানান, তদন্তে হামলার ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেছে। তবে টাকা লুট বা ছিনতাইয়ের সত্যতা মেলেনি। হামলাকারীদের সঙ্গে ইমনের দ্বন্দ্ব থাকায় হামলা চালিয়েছে তারা। পরে আহত ইমনের পরিবারের কেউ থানায় যোগাযোগ করেননি।
নবাবগঞ্জ থানার ওসি শাহ জালাল জানান, ইমনের পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় ফের কেউ যোগাযোগ করেনি। সোর্সের মাধ্যমে ঘটনা জানতে পেরে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়। পুলিশ পরিদর্শন করে হামলার সত্যতা পেয়েছে, মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
