ঢাকা রোববার, ১২ জুলাই ২০২৬

বাড়ি থেকেই ভালো দামে ধান বেচে খুশি হাওরের কৃষক

বাড়ি থেকেই ভালো দামে ধান বেচে খুশি হাওরের কৃষক
×

সংগৃহীত ছবি

পঙ্কজ দে, সুনামগঞ্জ

প্রকাশ: ০১ জুন ২০২০ | ২৩:৫৯ | আপডেট: ০২ জুন ২০২০ | ০০:১০

সুনামগঞ্জের হাওরে এবার বাড়ি থেকেই ধান বিক্রি করতে পেরে খুশি কৃষকরা। নৌ-চলাচল শুরু হওয়ায় বেপারীরা বড় বড় নৌকা নিয়ে বাড়ির ঘাটে ঘাটে গিয়েই কিনছেন শত শত মণ ধান। এতে ধানের দামও কিছুটা বেড়েছে। বিভিন্ন জাতের ধান বিক্রি হচ্ছে ৭০০ থেকে ৯০০ টাকা মণ দরে। এছাড়া হাওরাঞ্চলে ধানের সবচেয়ে বড় আড়ৎ মধ্যনগরে এখন গভীর রাত পর্যন্ত চলছে কেনা-বেচা।

গত এক সপ্তাহ ধরে প্রতিদিন কমপক্ষে ২০ হাজার মণ ধান কিনছেন বেপারী-আড়ৎদাররা। আড়ৎদার ও বেপারীরা বলছেন, চাতাল বা মিল মালিকদের পাশাপাশি সরকারও এবার আগেভাগে ধান কেনায় বাজারে ধানের দাম ওঠেছে।

শাল্লার আনন্দপুর গ্রামের কৃষক শহীদ মিয়া সোমবার ৭০ মণ মোটা ধান বিক্রি করেছেন ৭২০ টাকা দরে। শহীদ মিয়া বলেন, গত ৮-১০ বছরে এ সময়ে কোন বেপারী গ্রামের ঘাটে নৌকা নিয়ে ধান কিনতে আসেননি। এবার কয়েকদিন ধরে ৭-৮ হাজার মণের বেপারীর নৌকা গ্রামের ঘাটে ঘাটে ভিড়ছে ধান কেনার জন্য। 

নোয়াগাঁওয়ের ঝন্টু দাস সোমবার ধান বিক্রি করেছেন ৭৭০ টাকা মণ দরে। ঝন্টু জানান, পাল্লায় না মেপে মিটারে মেপে বাড়ির ঘাটেই বেপারীর কাছে ধান বিক্রির সুযোগ পেয়েছি, এজন্য বিক্রি করে দিলাম।

এই গ্রামের বড় কৃষক মাখনলাল দাস সোমবার ২০০ মণ মোটা ধান বিক্রি করেছেন বাড়ির ঘাটে আসা বেপারীর কাছে। তিনি বললেন, মিটারে মেপে ৭৭০ টাকা মণে ধান বিক্রি করেছি। অন্যান্য বছর পাল্লায় মেপে বিক্রি করতাম। নানা কারসাজি করে বেপারীরা ওজনে ঠকাতো। মাপে ধান বেশি নিত। এবার মিটারের পাল্লায় মাপ হওয়ায় ওজনে ঠকানোর শংকা নেই। 

হাওরাঞ্চলের ধানের আড়ৎ মধ্যনগরে সোমবার ২৯ জাতের শুকনা ধান বিক্রি হয়েছে ৮৫০- ৮৬০ টাকা মণ দরে। ২৮ জাতের চিকন ধান বিক্রি হয়েছে ৯০০ টাকা মণ দরে।

এই আড়তের মালিক আড়ৎদার সমিতির সাবেক সভাপতি জ্যোতির্ময় রায় জানান, চার-পাঁচদিন হয় পানি বেড়ে যাওয়ায় এই হাটের ৩০ জন আড়ৎদার দিনে ১০ হাজার বস্তা অর্থাৎ ২০ হাজার মণ ধান কিনছেন কৃষকদের কাছ থেকে। নৌকায় বা ট্রলারে করে বিভিন্ন এলাকা থেকে ধান কিনে আনা হচ্ছে।  তিনি আরও জানান, নারায়ণগঞ্জের মদনগঞ্জ, আশুগঞ্জ, মুন্সিগঞ্জ ও চাঁদপুরের আড়ৎদাররাও ধান কিনছেন বেশি করে। সরকারও ১০৪০ টাকা মণ দরে ধান কিনছে। এজন্য ধানের বাজার ভালো। কৃষকরা ধানের দাম পাচ্ছেন।

কৃষক সংগ্রাম সমিতির কেন্দ্রীয় নেতা ধর্মপাশার বাদশাগঞ্জের বাসিন্দা খায়রুল বাশার ঠাকুর খান বলেন, ২৯ জাতের ধান এই সময়ে ৮১০ থেকে ৮৩০ টাকা এবং ২৮ জাতের ধান ৮৫০ থেকে ৯০০ টাকা মণ দরে পাইকাররা কিনছেন। কিন্তু অনেক প্রান্তিক কৃষক পরে বিক্রি করলে দাম পাবে কী-না, মহাজনের ঋণের টাকা কখন দেবে, এমন নানা আশংকায় মাড়াইয়ের সময়ই ৬০০ থেকে ৬৫০ টাকা মণ দরে ধান বিক্রি করে দিয়েছেন। তবে তখন যারা ধান বিক্রি করেননি, তারাই এখন দাম পাচ্ছেন। 

শাল্লা উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আলামিন চৌধুরী বলেন, গত ১০ বছরের মধ্যে ধানের দামের এমন ভালো অবস্থা দেখেনি কৃষকরা। এবার ফলন হয়েছে ভালো, বড় বড় বেপারী নৌকা নিয়ে ধান কিনতে আসছে বাড়ির ঘাটে। নদীর কাছে বাড়ি হলে মোটা ধানই ৮০০ থেকে ৮২০ টাকায় বিক্রি করতে পারছেন কৃষক। তাই সরকারের কাছে বিক্রিতে তেমন আগ্রহ নেই তাদের।

সুনামগঞ্জ জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো. জাকারিয়া মোস্তফা বলেন, সুনামগঞ্জের কৃষকদের কাছ থেকে এবার ৩২ হাজার ৬৬৪ মণ ধান কেনা হবে। এছাড়া জেলার ৩০০ মিলারের কাছ থেকে আতপ-সিদ্ধ মিলিয়ে ২৮ হাজার ৯৯৬ টন চাল কেনা হবে। কৃষকরা সরকারি ক্রয় কেন্দ্রে আসছেন, তবে অন্যান্য বছরের মতো চাপ নেই। 

আরও পড়ুন

×