তিন সাঁওতাল হত্যার বিচারসহ ৭ দফা দাবিতে বিক্ষোভ
তিন সাঁওতাল হত্যার বিচারসহ ৭ দফা দাবিতে গোবিন্দগঞ্জ-দিনাজপুর সড়কের কাটামোড়ে বিক্ষোভ মিছিল
গোবিন্দগঞ্জ (গাইবান্ধা) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৪ | ২০:৪১
গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে বিরোধপূর্ণ জমিতে ইপিজেড নির্মাণ কার্যক্রম বন্ধ, তিন সাঁওতাল হত্যায় জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার, সাঁওতাল-বাঙালির নামে মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার, বাপ-দাদার জমি ফেরতসহ সাত দফা দাবিতে সমাবেশ করা হয়েছে। সোমবার দুপুরে গোবিন্দগঞ্জ-দিনাজপুর সড়কের কাটামোড়ে ঘণ্টাব্যাপী এ কর্মসূচি পালন করা হয়।
উপজেলার মাদারপুর ও জয়পুর গ্রামসহ বিভিন্ন স্থান থেকে সাঁওতালরা তীর-ধনুক, ব্যানার-ফেস্টুন নিয়ে খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে সমাবেশে যোগ দেয়। সাহেবগঞ্জ বাগদাফার্ম ভূমি উদ্ধার সংগ্রাম কমিটি, জাতীয় আদিবাসী পরিষদ ও আদিবাসী বাঙালি সংহতি পরিষদের যৌথ উদ্যোগে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
সাহেবগঞ্জ বাগদাফার্ম সংগ্রাম কমিটির সভাপতি ফিলিমন বাস্কের সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য দেন– এএলআরডি নির্বাহী পরিচালক ও মানবাধিকার কর্মী শামসুল হুদা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক রোবায়েত ফেরদৌস, লেখক ও গবেষক পাভেল পার্থ, জাতীয় আদিবাসী পরিষদ সভাপতি বিচিত্রা তিরকি, সাধারণ সম্পাদক নরেন চন্দ্র পাহান, সাংগঠনিক সম্পাদক সুভাষ চন্দ্র হেমব্রম, ভূমি উদ্ধার কমিটির নেতা স্বপন শেখ, মনির হোসেন সুইট, প্রিসিলা মুরমু প্রমুখ।
বক্তারা বলেন, হত্যাকাণ্ডের সাত বছর পেরিয়ে গেছে। আজও বিচারকাজ শুরু হয়নি। হত্যার সঙ্গে সাবেক সংসদ সদস্য আবুল কালাম আজাদ সরাসরি জড়িত ছিলেন। তারও কোনো বিচার হয়নি। জনরোষে ৫ অগাস্ট হাসিনা ও তাঁর দোসররা পালিয়ে গেছে। কিন্তু কালামের নেতাকর্মীরা এখনও ঘাপটি মারে আছে। তাদের ধরা হচ্ছে না।
বক্তার আরও বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে সাঁওতালদের পুনর্বাসনসহ নানা প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। স্বৈরাচার হাসিনা ধোঁকা দিয়েছেন। উল্টো ফসলি জমিতে ইপিজেড নির্মাণের নামে একটি স্বার্থান্বেষী মহল বাপ-দাদার সম্পত্তি থেকে সাঁওতালদের উচ্ছেদের পাঁয়তারা করে যাচ্ছে। কিন্তু জমি ছাড়া হবে না বলে সমাবেশে হুঁশিয়ারি দেন তারা।
রংপুর চিনিকল সূত্র জানায়, সাহেবগঞ্জ বাগদাফার্ম এলাকায় রংপুর চিনিকলের আওতায় ১ হাজার ৮৪২ দশমিক ৩০ একর জমি আছে। ওই জমিতে উৎপাদিত আখ রংপুর চিনিকলে মাড়াই হতো। এক সময় সাঁওতালরা এসব জমি দখলে নেয়। ২০১৬ সালের ৬ নভেম্বর চিনিকল কর্তৃপক্ষ ও পুলিশ এসব জমি উচ্ছেদে গেলে সাঁওতালদের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়। এতে ৩ সাঁওতাল নিহত ও অন্তত ২০ জন আহত হন। এর পর থেকে সাঁওতালরা দফায় দফায় ওই জমি দখল করেন। জমি উদ্ধারে সাহেবগঞ্জ বাগদাফার্ম ভূমি উদ্ধার সংগ্রাম কমিটি গঠিত হয়। এ পরিস্থিতিতে শিল্প মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বাংলাদেশ এক্সপোর্ট প্রসেসিং জোন অথরিটি (বেপজা) সাহেবগঞ্জ বাগদাফার্ম এলাকায় ইপিজেড স্থাপনের উদ্যোগ নেয়। স্থানীয় সাঁওতালরা সেখানে ইপিজেড না করার জন্য আন্দোলন করছেন।
