করোনা উপসর্গে মারা যাওয়া গৃহবধূর লাশ নিল না স্বজনরা
মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সরকারি কবরস্থানে গৃহবধূ মনোয়ারার লাশ দাফন করে পুলিশ ও স্থানীয় স্বাস্থ্য বিভাগ। ছবি: সমকাল
জলঢাকা (নীলফমারী) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১০ জুন ২০২০ | ০৬:০৮
নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলায় করোনভাইরাসের উপসর্গ নিয়ে মারা যাওয়া এক গৃহবধূর লাশ বাড়িতে দাফন করতে দেননি শ্বশুর ও বাবার বাড়ির লোকজন। সোমবার রাতে করোনা উপসর্গ নিয়ে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয় মনোয়ারা বেগম (২৫) নামের ওই গৃহবধূর। তিনি পৌরসভার বগুলাগাড়ী এলাকার শরিফুল ইসলামের স্ত্রী।
মনোয়ারার মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর বাবার ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন লাশ গ্রহণ করতে না চাননি। এমনকি লাশের সঙ্গে মাইক্রোবাসে জলঢাকা পর্যন্ত আসার পর পালিয়ে যান করোনা উপসর্গ থাকা শরীফুল। এরপর স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনের সহযোগিতায় ডাকবাংলো এলাকায় সরকারি কবরস্থানে তার লাশ দাফন করা হয়।
স্বজনরা জানান, মনোয়ারা বেগম স্বামীর সঙ্গে ঢাকায় পোশাক কারখানায় কাজ করতেন। ঢাকায় অবস্থানকালে তাদের দু'জনে করোনা উপসর্গ (জ্বর-সর্দি-কাশি) দেখা দেয়। এরপর বাড়িতে ফিরে গত ৫ জুন স্বামীসহ রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হন মনোয়ারা বেগম। সেখানে পরীক্ষার জন্য তাদের দু'জনের নমুনা সংগ্রহ করা হয়। ওই পরীক্ষার রিপোর্ট এখনও পাওয়া যায়নি। এর আগেই সোমবার রাতে রংপুর মেডিকেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয় মনোয়ারার।
উপজেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, মনোয়ার লাশ তার শ্বশুরবাড়ি ও বাবার বাড়িতে দাফন করতে দেওয়া হবে না বলে দুই পরিবারের লোকজন জলঢাকা পৌরসভার প্যানেল মেয়র রুহুল আমিনকে জানান। এরপর ওসি মোস্তাফিজুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করেন প্যানেল মেয়র। এ সময় জলঢাকা থানা পুলিশ লাশ দাফনের ব্যবস্থা করবে বলে ওসি আশ্বাস দেন। এরপর স্ত্রীর লাশ নিয়ে মাইক্রোবাসে করে জলঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হন শরিফুল। জলঢাকায় পৌঁছানোর এক পর্যায়ে স্ত্রীর লাশ মাইক্রোবাসে রেখে পালিয়ে যান তিনি। পরে মনোয়ারার শ্বশুর ও বাবারবাড়ির লোকজনসহ এলাকাবাসী লাশ দাফন করতে অস্বীকৃতি জানান। এরপর জলঢাকা করোনাভাইরাস ম্যানেজমেন্ট কমিটির সদস্য এসআই ওসমান গনি ও এএসআই ফুলমামুদসহ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল টিমের উপস্থিতিতে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় জলঢাকা সরকারি ডাকবাংলো কবরস্থানে মনোয়ারার লাশ দাফন করা হয়।
এ বিষয়ে প্যানেল মেয়র রুহুল আমিন জানান, 'মানুষ কতোটা অমানবিক হতে পারে মনোয়ারা বেগমের মৃত্যু না হলে তা বুঝতে পারতাম না।'
জলঢাকা থানার অফিসার ইনচার্জ মোস্তাফিজুর রহমান বুধবার সাংবাদিকদের বলেন, 'স্বাস্থ্যবিধি মেনে অবশেষে নিজ এলাকাতেই মনোয়ারা বেগমের লাশ দাফন করতে পেরেছি এটাই আমাদের প্রাপ্তি।'
- বিষয় :
- করোনা উপসর্গ
- অমানবিকতা
- জলঢাকা