তিস্তা মহাপরিকল্পনা এ বছর শেষে চূড়ান্ত হবে: পরিবেশ উপদেষ্টা
রংপুরে সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান
সমকাল ডেস্ক
প্রকাশ: ১৫ জুলাই ২০২৫ | ১৯:৫২ | আপডেট: ১৫ জুলাই ২০২৫ | ১৯:৫৪
পানি সম্পদ এবং পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেছেন, তিস্তা মহাপরিকল্পনা এ বছরের শেষ নাগাদ চূড়ান্ত হবে। এরইমধ্যে মাঠ পর্যায়ের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। আজ মঙ্গলবার সকালে সৈয়দপুর বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি এ কথা বলেন।
উপদেষ্টা বলেন, তিস্তা মহাপরিকল্পনা মূলত বাংলাদেশ ও চীনের যৌথ উদ্যোগ। কাজেই এটি চূড়ান্ত করতে উভয় দেশের সম্মতি প্রয়োজন। এ কয় মাসে আমরা বাস্তবায়নের পথে অনেকটাই এগিয়ে গেছি। ১৭ জুলাই বিশেষজ্ঞদের নিয়ে মূল পাঁচটি বিষয়ে আলোচনা চূড়ান্ত করা হবে। এরপর এ প্রস্তাবনা প্রথমে সরকারে যাবে এবং পরে ইআরডির মাধ্যমে চূড়ান্ত হয়ে চীনা কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে। চীন বিস্তারিত মূল্যায়ন শেষে চূড়ান্ত রিপোর্ট দিলে প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ শুরু হবে।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন নীলফামারী জেলা প্রশাসক মো. নায়িরুজ্জামান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নুর-ই আলম সিদ্দিকী প্রমুখ।
পরে উপদেষ্টা রিজওয়ানা হাসান সড়কপথে কুড়িগ্রামের উদ্দেশ্যে রওনা দেন। সেখানে রাজারহাট উপজেলার খিতাবখাঁ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন তিস্তা নদীর চলমান তীর সংরক্ষণ কাজ পরিদর্শন করেন তিনি। উপদেষ্টা বলেন, তিস্তা নদীর গতিপথ আসলে আমাদের উপর নির্ভর করে না। নির্ভর করে উজানের দেশের উপর। সরকারি পর্যায় থেকে তিস্তা চুক্তির ব্যাপারে কাজ করা হয়েছিল, ২০১১ সাল থেকে এই চুক্তিটা স্বাক্ষর করা নিয়ে এখনও আলোচনা চলছে। আমাদের ভাটির দেশের ভাটির জনগণ, জনগোষ্ঠী, জনপদ দুরবস্থায় রয়েছে। আমরা তাদের কীভাবে সুরক্ষিত রাখতে পারি সে বিষয়ে কাজ চলছে।
এ সময় কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসক নুসরাত সুলতানা, পুলিশ সুপার মাহফুজুর রহমান, পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান, রাজারহাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আল ইমরান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
বিকেলে রিজওয়ানা হাসান রংপুর নগরীর শ্যামাসুন্দরী খাল পরিদর্শন করেন। সেখানে তিনি বলেন, রংপুরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত শ্যামাসুন্দরী খালের পানিরপ্রবাহ বাড়াতে ১০ কিলোমিটার এলাকা ড্রেজিংয়ের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে এই খালের বর্জ্য প্রবেশ করা ৬৮টি পয়েন্টে ছাকনি তৈরি করে পানিপ্রবাহ ফিরিয়ে আনা হবে।
(প্রতিবেদনে তথ্য দিয়েছেন রংপুর অফিস, কুড়িগ্রাম ও নীলফামারী প্রতিনিধি)
