ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

স্ত্রীর রেসিপিতে আইসক্রিম বানিয়ে সফল বিশ্বনাথ পাল

স্ত্রীর রেসিপিতে আইসক্রিম বানিয়ে সফল বিশ্বনাথ পাল
×

নিজেদের দোকানে কাকলি পাল ও বিশ্বনাথ পাল

কেশবপুর (যশোর) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২০ জুলাই ২০২৫ | ২১:৫২

স্ত্রী কাকলি পালের রেসিপিতে আইসক্রিম বানিয়ে তাক লাগিয়েছেন কেশবপুরের বিশ্বনাথ পাল। পাঁজিয়া গ্রামের এই বাসিন্দা বাড়িতে নিজেই তৈরি করেন আইসক্রিম। আর তা দোকানে বিক্রি করে দিনে দুই থেকে তিন হাজার টাকা লাভ করেন। 

কাকলি-বিশ্বনাথ দম্পতি জানান, ওয়ানটাইম কাপে তারা আইসক্রিম তৈরি করেন। এতে কাজুবাদাম, কিশমিশ, সন্দেশ আর দুধের সর মিশিয়ে তৈরি করেন সুস্বাদু এই ঠাণ্ডা মিষ্টি। প্রতিদিন ৪০০ থেকে ৫০০ কাপ আইসক্রিম বিক্রি করেন তারা। কাপভেদে দাম রাখেন ১০ থেকে ২০ টাকা। 

স্থানীয়রা জানায়, ২০ থেকে ২৫ বছর আগে পাঁজিয়া বাজারে বাড়ির সঙ্গে ছোট্ট একটি দোকান দেন বিশ্বনাথ পাল। সেখানে সেখানে বিভিন্ন কোম্পানির আইসক্রিম বিক্রি করতেন তিনি। দোকানটি পাঁজিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সামনে হওয়ায় শিক্ষার্থীদের চাহিদা অনুযায়ী কোম্পানির প্রতিনিধিরা বিশ্বনাথে দোকানে আইসক্রিম দিতে চাইতেন না। তখন থেকে তিনি জেদ করে নিজেই আইসক্রিম বানিয়ে বিক্রি করেন।

বিশ্বনাথ পাল জানান, শুরুতে তিনি শুধু দুধ-চিনি মিশিয়ে হাতে তৈরি আইসক্রিম বানানো শুরু করেন। কিন্তু ওই আইসক্রিম তেমন বিক্রি হতো না। এতে কিছুটা হতাশ হন তিনি। তখন স্ত্রী কাকলি পালের পরিকল্পনা অনুযায়ী এসব উপকরণের সঙ্গে কাজুবাদাম, কিশমিশ, সন্দেশ আর দুধের সর যোগ করেন। এতে তার তৈরি আইসক্রিমের বিক্রি ব্যাপক হারে বেড়ে যায়। স্বাদের কারণে কেশবপুর উপজেলা ছাড়াও আশপাশের উপজেলায় জনপ্রিয়তা পায় আইসক্রিমটি। এলাকায় তখন থেকে ‘বৌদির আইসক্রিম’ হিসেবে পরিচিতি পায়। 

আইসক্রিম বানাতে এখন দিনে ১ মণ দুধের প্রয়োজন হয় বলে জানান বিশ্বনাথ পাল। 

কাকলি পাল বলেন, প্রথমে আড়াই থেকে তিন ঘণ্টা ধরে এসব দুধ জ্বাল দিয়ে অর্ধেকে আনা হয়। এরপর এতে চিনি যোগ করে ঘনত্ব আরও বাড়িয়ে সন্দেশ, কাজুবাদাম, দুধের সর, কিশমিশ মিশিয়ে আবার জ্বাল দেওয়া হয়। সকালের দিকে এ কাজ করে পুরো ঠাণ্ডা হয়ে এলে বিকেলে মিশ্রণটি ওয়ান টাইম কাপে ঢালা হয়। রাতভর ফ্রিজে রেখে দিয়ে পরদিন সকালে বিক্রির জন্য দোকানে নেওয়া হয় এসব আইসক্রিম। 

মনিরামপুরের লাউড়ী গ্রাম থেকে বিশ্বনাথের দোকানে আইসক্রিম খেতে আসা সাজিন বলেন, লোকমুখে শুনে বৌদির আইসক্রিম খেতে এসেছি। আইসক্রিমটি খুবই সুস্বাদু। তুলনামূলকভাব দামও কম। 

পাঁজিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক উজ্জ্বল ব্যানার্জি বলেন, পাঁজিয়ার রসগোল্লার মতো বৌদির আইসক্রিমও পাঁজিয়ার ঐতিহ্যে পরিণত হয়েছে।

আরও পড়ুন

×