চন্দ্রঘোনা-রাইখালী রুট
সেই ফেরিই এখন দুঃখের কারণ
জোয়ারে তলিয়ে যাওয়া ফেরিঘাট দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে নামছে যানবাহন ও জনসাধারণ। বুধবার সকালে চন্দ্রঘোনায়। ছবি: সমকাল
রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৪ জুলাই ২০২৫ | ০৩:৫৫
ফলের পাইকারি ব্যবসা করেন নূরুল আলম (৫৪)। চট্টগ্রাম থেকে কেনা আপেল, মালটা, আম-কমলাসহ নানা ফল বান্দরবানে নিয়ে যান জেলার রাঙ্গুনিয়ার এই বাসিন্দা। বান্দরবান যেতে তাঁকে কর্ণফুলী পাড়ি দিতে হয় কাপ্তাই উপজেলার চন্দ্রঘোনা-রাইখালী রুটে চলাচলকারী ফেরি দিয়ে। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে ফেরির সংস্কার না হওয়ায় বিকল হয়ে থাকে প্রায়ই। এ কারণে বিপাকে পড়েন তাঁর মতো ব্যবসায়ীরা।
বুধবার নুরুল আলমের কথায় ক্ষোভ ঝরে পড়ে। তিনি বলেন, অনেক সময় ফেরির জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়। অনেক সময় ফেরি না পেয়ে বিকল্প পথ খুঁজতে হয়। এতে ব্যবসায়ীদের চরম হয়রানির শিকার হতে হয়।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কর্ণফুলী নদী পারাপারের জন্য ১৯৯১ সালে এই ফেরিঘাট চালু করে রাঙামাটি সড়ক ও জনপথ বিভাগ। প্রতি বছর ইজারা নিয়ে সেই ফেরি পরিচালনা করতে হয়। ফেরিগুলোতে দিন দিন মরিচা পড়ছে। ২০০৬ সালের ৯ ডিসেম্বর মালবাহী একটি ট্রাকের ধাক্কায় এক পাশের পন্টুন ক্ষতিগ্রস্ত হয়। অন্য পাশের পন্টুনেও মরিচা ধরে গেছে।
বুধবার বিকেলে ফেরিঘাটে পাওয়া যায় এনজিও কর্মকর্তা নাহিদা নাজনীন শম্পাকে। তিনি বান্দরবানে কর্মরত। মোটরসাইকেলে করে রাঙামাটি যাবেন প্রাতিষ্ঠানিক কাজে। কিন্তু চন্দ্রঘোনা এসে ফেরির জন্য আটকে আছেন কয়েক ঘণ্টা ধরে। নাহিদা নাজনীন শম্পা বলেন, প্রায় সময়ই তাঁকে এখানে এসে দুর্ভোগে পড়তে হয়। ফেরিটি ঝুঁকিপূর্ণ জেনেও বাধ্য হয়ে নদী পারাপার করতে হয়। তিনি মনে করেন, জনদুর্ভোগ লাঘবে সেতু নির্মাণ করা উচিত।
সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক মো. ইমরান ও মো. বাচার ভাষ্য, তারা অটোরিকশা নিয়ে ফেরির অপেক্ষায় আছেন কয়েক ঘণ্টা ধরে। এ দিন দুপুর ১২টা থেকেই ফেরি চলাচল বন্ধ। তারা মনে করেন, এখানে ফেরি থেকে যে হারে আয় হয়, তা দিয়ে আরও দু-তিনটি ফেরি দেওয়া যায়।
চন্দ্রঘোনা ফেরিঘাট এলাকার বাসিন্দা মো. সোহেল ও মো. মুন্না বলেন, আজকে (বুধবার) নদীতে প্রচুর পানি। কাপ্তাই পানি বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে পানি ছাড়া হয়েছে। যে কারণে নদীতে তীব্র স্রোত। এ জন্যই ফেরি চলাচল বন্ধ।
রাজস্থলী কাঠ ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি কামাল চৌধুরীর ভাষ্য, তারা রাজস্ব দিয়ে ঢাকায় সেগুন কাঠ ভর্তি ট্রাক পাঠান। কিন্তু ফেরির কারণে প্রায়ই ভোগান্তিতে পড়েন। কোনোদিন ঘাটের পন্টুন কর্ণফুলীর জোয়ারে ডুবে থাকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা। রাইখালীর পাশে ট্রাক ভর্তি কাঠ নিয়ে ৮ থেকে ১০ ঘণ্টাও অপেক্ষায় থাকতে হয়। ব্যবসার ক্ষতি হয়।
ফেরির তত্ত্বাবধায়ক মো. শাহজাহান বলেন, বুধবার সকালে কয়েকবার ফেরি চলাচল করেছে। কিন্তু দুপুর ১২টার দিকে জোয়ারের কারণে পন্টুন ডুবে যায়। গ্যাংওয়েতে প্রচুর পানি। যে কারণে ফেরি চলাচল বন্ধ রয়েছে। ফেরিটি মেরামতের জন্য অনেকবার লেখালেখি করেছেন। কিন্তু কর্তৃপক্ষ আশ্বাস দিয়ে দায়িত্ব সেরেছে।
রাঙামাটির সওজ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী শিবান্দু খাস্তগীরের ভাষ্য, তারা ফেরি মেরামতের প্রস্তাবনা ঢাকায় পাঠিয়েছেন। অনুমোদন হয়ে এলেই কাজের উদ্যোগ নেবেন।
- বিষয় :
- রাঙ্গুনিয়া
- চট্টগ্রাম
