ঢাকা শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬

চট্টগ্রামে চিকুনগুনিয়ার বিস্তার

সরকারিতে ডাক্তার দেখিয়ে বেসরকারিতে রক্ত পরীক্ষা

ব্যবস্থা নিতে অধিদপ্তর, মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়েও মিলছে না সাড়া

সরকারিতে ডাক্তার দেখিয়ে বেসরকারিতে রক্ত পরীক্ষা
×

ফাইল ছবি

 চট্টগ্রাম ব্যুরো

প্রকাশ: ৩০ জুলাই ২০২৫ | ০১:০২ | আপডেট: ৩০ জুলাই ২০২৫ | ০৮:৩৭

| প্রিন্ট সংস্করণ

চিকুনগুনিয়া শনাক্তে সেরোলজিক্যাল রক্ত পরীক্ষা করতে হয়। যার মাধ্যমে নির্ণয় করা হয় রক্তে চিকুনগুনিয়া ভাইরাসের অ্যান্টিবডির উপস্থিতি। শরীরে ভাইরাসটির অস্তিত্ব সম্পর্কে পুরোপুরি নিশ্চিত হতে প্রয়োজন আজিজি ও আজিএম র‍্যাপিড টেস্ট। তবে চট্টগ্রামের প্রধান দুই সরকারি হাসপাতালে এ ভাইরাস শনাক্তের ব্যবস্থা নেই। 

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতাল এবং জেনারেল হাসপাতালে নেই পরীক্ষার জন্য পলিমারেজ চেইন রিঅ্যাকশন (পিসিআর) মেশিন, ডেডিকেটেড ল্যাব, প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও জনবল। 

এ কারণে সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসক দেখিয়ে রোগ নির্ণয়ের জন্য রোগীকে ছুটতে হয় বেসরকারি হাসপাতাল কিংবা ডায়াগনস্টিক সেন্টারে। এ পরীক্ষা বেসরকারি হাসপাতালে করাতে সাড়ে চার থেকে ছয় হাজার টাকা খরচ পড়ে। অথচ সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীর ৮০ শতাংশই স্বল্প আয়ের। সরকারিভাবে চিকুনগুনিয়া শনাক্তের ব্যবস্থা না থাকায় দরিদ্র রোগীরা বিপদে পড়ছেন।

দুই সরকারি হাসপাতালের তথ্য বলছে, কিছুদিন ধরে শুধু বহির্বিভাগেই প্রতিদিন জ্বর নিয়ে গড়ে পাঁচ শতাধিক রোগী আসছেন। চার শতাধিক রোগীকে পরীক্ষার জন্য বেসরকারি হাসপাতাল বা ডায়াগনস্টিক সেন্টারে পাঠাচ্ছেন চিকিৎসক। এর মধ্যে সামর্থ্যবান কিছু রোগী বেসরকারি হাসপাতালে পরীক্ষা করালেও বড় একটি অংশই বাড়তি খরচ বহন করতে না পেরে পিছু হটে। ফলে অনেকে থেকে যান চিকিৎসার বাইরে। এতে অজানা থাকছে প্রকৃত আক্রান্ত রোগীর তথ্য।

এ ব্যাপারে চমেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. তসলিম উদ্দীন সমকালকে বলেন, এ মৌসুমে আশঙ্কাজনক হারে জ্বরের রোগী বেড়েছে। রোগী বাড়তে থাকায় আমরা উদ্বিগ্ন। রোগীরা এখানে চিকিৎসক দেখাতে পারলেও রক্ত পরীক্ষা করাতে পারছেন না। কেননা, চিকুনগুনিয়া শনাক্তে পরীক্ষা করানোর সুযোগ এখানে নেই। তিনি বলেন, পরীক্ষার জন্য কিটসহ যাবতীয় যন্ত্রপাতি চেয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে একাধিক চিঠি দিয়েছি। এখনও সাড়া পাওয়া যায়নি। 

জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. একরাম হোসেন বলেন, চিকুনগুনিয়া পরীক্ষার জন্য আমাদের এখানে পিসিআর মেশিন, ল্যাব ও কিট নেই। হাসপাতালে লোকবলের সংকটও প্রকট। 

সিভিল সার্জন ডা. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, বেশির ভাগ পরিবারে জ্বরের রোগী মিলছে। যাদের অনেকের শরীরে পাওয়া যাচ্ছে চিকুনগুনিয়া। সরকারিভাবে পরীক্ষা করা গেলে শনাক্তের হার অনেক হতো। 

বেসরকারিতে খরচ বেশি, পরীক্ষায় অনীহা 

নগরীর বেসরকারি হাসপাতাল, ল্যাব ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে চিকুনগুনিয়া পরীক্ষা করতে কোথাও ফি নেওয়া হচ্ছে সাড়ে চার হাজার, আবার কোথাও ছয় হাজার টাকা। সরকার বেসরকারি রোগ নির্ণয় কেন্দ্রে করোনার নমুনার আরটি-পিসিআর পরীক্ষার ফি দুই হাজার টাকা নির্ধারণ করলেও চিকুনগুনিয়ার ফি নির্ধারণ করেনি। এ সুযোগে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো যে যার মতো বাড়তি ফি আদায় করছে।

চমেক হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. মো. আবদুর রব বলেন, প্রতিদিন হাসপাতালে অনেকে চিকিৎসা নিতে এলেও পরীক্ষা করাতে পারছেন না। সরকারিভাবে পরীক্ষার সুযোগ না থাকায় অনেকেই চিকুনগুনিয়া পরীক্ষা করাতে অনীহা দেখাচ্ছেন।

আরও পড়ুন

×