নাটোর
প্রহরীদের হাত-পা বেঁধে অস্ত্রের মুখে সুগার মিলের মালামাল লুট
খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে পুলিশ। ছবি: সমকাল
লালপুর (নাটোর) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৩ আগস্ট ২০২৫ | ১৬:৩৮
নাটোরে এক সুগার মিলে লুটপাটের অভিযোগ পাওয়া গেছে। গত শনিবার দিবাগত রাত দেড়টা থেকে ভোর চারটা পর্যন্ত শহরের হুগলবাড়িয়া এলাকায় চিনিকলে এ ঘটনা ঘটে। পুরো ঘটনা দ্রুত তদন্ত ও দায়ীদের চিহ্নিত করে গ্রেপ্তারের আশ্বাস দিয়েছে প্রশাসন। কারখানার স্বাভাবিক কার্যক্রম যাতে ব্যাহত না হয় সে বিষয়ে তৎপরতা চলছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শনিবার রাতে প্রবল বৃষ্টি হচ্ছিল। বৃষ্টির মধ্যেই কারখানায় ঢুকে নিরাপত্তা প্রহরীদের হাত-পা বেঁধে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে ডাকাতরা। পরে মিলের বিভিন্ন সরঞ্জাম ও যন্ত্রাংশ লুটে নিয়ে যায় তারা। লুট হওয়া যন্ত্রাংশের পরিমাণ এখনো নির্দিষ্টভাবে জানা যায়নি। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ৯০ লাখ টাকার যন্ত্রাংশ হতে পারে।
নিরাপত্তা প্রহরীদের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, গত রাতে প্রচণ্ড বজ্রপাত ও বৃষ্টির মধ্যে মুখোশধারী একদল ডাকাত নাটোর চিনিকলের পেছনের ভাঙা দরজা দিয়ে মিলে প্রবেশ করে। এ সময় তারা দায়িত্বে থাকা ১২ জন নিরাপত্তা প্রহরীকে চিনিকলের কারখানার বয়লার সেকশনের একটি রুমে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে হাত-পা বেঁধে রাখে। পরে তারা চিনিকলের কারখানার মিল হাউজ, বিদ্যুৎ বিভাগ, প্রকৌশল বিভাগসহ বিভিন্ন বিভাগে রক্ষিত নতুন-পুরাতন বিভিন্ন ধরনের ধাতব মালামাল লুট করে ট্রাকে তুলে নিয়ে ৩ নং গেট ভেঙে পালিয়ে যায়। ভোর সাড়ে চারটার দিকে নিরাপত্তাপ্রহরীদের আরেকটি দল ডিউটি বদলের সময় কারখানায় এসে জিম্মি প্রহরীদের হাত-পা বাঁধা অবস্থায় উদ্ধার করে। এ সময় তারা মিলের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও থানায় খবর দিলে পুলিশ এসে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। বর্তমানে নিরাপত্তা প্রহরীদের মিলের ভেতরে জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ।
নাটোর সুগার মিলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আকলাছুর রহমান ডাকাতির বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। আমরা তদন্ত করে দেখছি। মিলের প্রায় ৯০ লাখ টাকার যন্ত্রাংশ লুট হয়েছে।
নাটোর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহাবুর রহমান জানান, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। কারখানার ভেতরে ও বাইরে প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, বড় ধরনের লুটপাট হয়েছে। এ ঘটনার তদন্ত চলছে। তদন্তের পর কী পরিমাণে মালামাল লুট হয়েছে, জানা যাবে। ঘটনায় জড়িতদের শনাক্তে তদন্ত চলছে।
