রাকসু ভবনে রুরুসহ ১৫ সাংস্কৃতিক সংগঠন, নির্বাচন হলে কোথায় যাবে
রাকসু ভবন, ছবি: সমকাল
অর্পণ ধর, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়
প্রকাশ: ০৩ আগস্ট ২০২৫ | ১৭:২৬
আগামী ১৫ সেপ্টেম্বর রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু) নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। দীর্ঘ ৩৫ বছর পর এই নির্বাচন ক্যাম্পাসে উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি করলেও বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোর মধ্যে দেখা দিয়েছে গভীর উদ্বেগ। রাকসু ভবনে অবস্থিত এসব সংগঠনের কার্যালয় নির্বাচনের পর ছাড়তে হবে, কিন্তু নতুন কার্যালয়ের জন্য কোনো পাকাপোক্ত ব্যবস্থা এখনও করেনি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। ফলে দুশ্চিন্তায় দিন কাটছে সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোর নেতা-কর্মীদের।
রাকসু ভবনে বর্তমানে অন্তত ১৫টি সাংস্কৃতিক ও সামাজিক সংগঠনের কার্যালয় রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে সমকাল নাট্যচক্র, রাজশাহী ইউনিভার্সিটি ডিবেটিং সোসাইটি, রাজশাহী ইউনিভার্সিটি ড্রামা অ্যাসোসিয়েশন, উদীচী সাংস্কৃতিক সংসদ, অনুশীলন নাট্যদল, সমগীত, তীর্থক নাটক ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় রিপোর্টার্স ইউনিটিসহ (রুরু) কয়েকটি সংগঠন। দীর্ঘদিন রাকসুর কার্যক্রম বন্ধ থাকায় এসব সংগঠন ভবনটিতে প্রশাসনের অনুমতিক্রমে অস্থায়ীভাবে কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। নির্বাচনের পর এই ভবন রাকসুর জন্য ব্যবহৃত হবে, ফলে সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোর পুনর্বাসন এখন বড় চ্যালেঞ্জ।
গত ছয় মাস ধরে নির্বাচন নিয়ে আলোচনা চললেও সংগঠনগুলোর পুনর্বাসনের বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। ফলে কার্যালয় নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছেন রুরুসহ সাংস্কৃতিক সংগঠনের কর্মীরা।
টিএসসিসিকে কেন্দ্র করে সমাধানের দাবি
সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোর দাবি, তাদের পুনর্বাসনের জন্য শহীদ সুখরঞ্জন সমাদ্দার ছাত্র-শিক্ষক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র (টিএসসিসি) কেন্দ্রীক একটি পূর্ণাঙ্গ সমাধান প্রয়োজন। কেন্দ্রীয় সাংস্কৃতিক জোটের সঙ্গে প্রশাসনের আলোচনা চললেও এখনও কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি।
রাজশাহী ইউনিভার্সিটি ড্রামা অ্যাসোসিয়েশন সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ রায়হান বলেন, 'কেন্দ্রীয় সাংস্কৃতিক জোট প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলছে। কর্তৃপক্ষ আশ্বস্ত করেছিলেন। তবে নতুন কার্যালয় কোথায় হবে এখনো সে বিষয়ে কিছু বলেনি। তবে আমাদের দাবি থাকবে পূর্ণাঙ্গ টিএসসিসি বা টিএসসিসি কেন্দ্রীক সমাধান করা।'
অনুশীলন নাট্যদলের সাধারণ সম্পাদক রাকিবুল আলম বলেন, 'রাকসু নির্বাচনের পর আমাদের কার্যালয় সংকট পড়বে। প্রশাসনকে আমাদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করতে হবে।'
স্থায়ীভাবে পুনর্বাসনের দাবি করে স্বনণের আহ্বায়ক ইমন আহমেদ বলেন, 'আমাদের দাবি হলো, একটা সুষ্ঠু প্রক্রিয়ার মাধ্যমে স্থায়ীভাবে আমাদের পুনর্বাসন করতে হবে। অল্প সময়ের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ টিএসসিসি বা টিএসসিসিকে কেন্দ্র করে যদি সংগঠনগুলোর ব্যবস্থা করা হয়, সেটা সবচেয়ে ভালো হয়।'
২০১৫ সাল থেকে রাকসু ভবনের দুই তলার একটি কক্ষে কার্যক্রম চালাচ্ছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় রিপোর্টার্স ইউনিটি। সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক আলজাবের আহমেদ বলেন, ‘নির্বাচন হলে আমাদের অবশ্যই কার্যালয় স্থানান্তর করতে হবে। ইতোমধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে আমরা কথা বলেছি। কিন্তু চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে এখনও পৌঁছানো সম্ভব হয়নি।’
এদিকে ১৯৮৪ সালে নির্মাণের অনুমোদন পাওয়া টিএসসিসি ভবন মাত্র ৪০০ বর্গফুট জায়গা নিয়ে ২০১৬ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করে। এই ভবন আসন সংকট, অ্যাকুস্টিক সিস্টেমের সমস্যা, ফ্যান ও এসির অভাব এবং ছোট মহড়া কক্ষের মতো নানা সমস্যায় জর্জরিত।
সংগঠনগুলোর পুনর্বাসন টিএসএসসির মাধ্যমে করলেই অধিক গ্রহণযোগ্য হবে বলে মনে করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যকলা বিভাগের অধ্যাপক আতাউর রহমান রাজু। তিনি বলেন, 'রাকসু ভবনের মূল দাবিদার রাকসু নিজেই। তবে দীর্ঘদিন রাকসু চালু না থাকায় সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলো সেখানে অস্থায়ীভাবে কার্যক্রম পরিচালনা করছে। যেহেতু শীঘ্রই রাকসু নির্বাচন হবে সেহেতু সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোর পুনর্বাসন ব্যবস্থা করতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলো টিএসসিসির অধিভুক্ত। ফলে তাদের পুনর্বাসন টিএসএসসির মাধ্যমে হলেই অধিক গ্রহণযোগ্য হবে।'
যা বলছে প্রশাসন
এ বিষয়ে জানতে চাইলে শহীদ সুখরঞ্জন সমাদ্দার ছাত্র-শিক্ষক সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের পরিচালক মুর্শিদা ফেরদৌস বিনতে হাবিব সমকালকে বলেন, 'আমরা চাই আমাদের সংগঠনগুলোর স্থায়ী পুনর্বাসন হোক। সংগঠনগুলো একটা ভালো জায়গা পাক। আমরা এটা নিয়ে উপাচার্যের সঙ্গে কথাও বলেছি। আশা করছি বিষয়টির সুষ্ঠু সমাধান হবে।'
সার্বিক বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক সালেহ্ হাসান নকীব সমকালকে বলেন, 'তাদের জন্য আমাদের কোনো না কোনো ব্যবস্থা করতে হবে। এ বিষয়ে একটি কমিটি কাজ করছে। তবে এখনো কোন চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়নি। তাদের কার্যক্রম যেন বন্ধ না হয়, তারা যেন কোনো ধরনের সমস্যায় না পড়ে সে বিষয়ে আমাদের চিন্তাভাবনা আছে। তবে এখনো দেড় মাসের বেশি সময় আছে। কোনো একটা সমাধান আমরা বের করে ফেলব।'
- বিষয় :
- রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়
- রাবি
- নির্বাচন
- সংগঠন
