প্রাথমিকে ১৭ হাজার শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে: উপদেষ্টা
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. বিধান রঞ্জন রায় পোদ্দার
রংপুর অফিস
প্রকাশ: ০৪ আগস্ট ২০২৫ | ২২:০৩ | আপডেট: ০৪ আগস্ট ২০২৫ | ২২:২২
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. বিধান রঞ্জন রায় পোদ্দার বলেছেন, প্রাথমিক শিক্ষার মান্নোনয়নে ১৭ হাজার শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এর মধ্যে তিন হাজার প্রধান শিক্ষক পিএসসির মাধ্যমে নিয়োগ করা হচ্ছে। একটি মামলার জন্য প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের পদোন্নতি দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। সমাধান হলে ৩২ হাজার শিক্ষককে পদোন্নতি দেওয়া হবে। স্কুলে যাওয়ার উপযোগী প্রত্যেক শিশুর বাধ্যতামূলক, অবৈতনিক প্রাথমিক শিক্ষা দেওয়ার বিষয়ে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
সোমবার রংপুর শিল্পকলা একাডেমি প্রাঙ্গণে জেলার অংশীজনের সঙ্গে মতবিনিময় সভা শেষে তিনি সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন। ডা. বিধান রঞ্জন রায় বলেন, প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষক দশম গ্রেডের হলে সমস্যা তৈরি হওয়ার শঙ্কা দেখছি না। প্রশাসনিক অনেক পদ রয়েছে যেখানে নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষ ও যাদের নিয়ন্ত্রণ করা হয়– উভয়ে একই পদের। শিক্ষকদের জন্য বেতন কমিশন হয়েছে। কমিশনই সেটি বিবেচনা করবে।
কিন্ডারগার্টেন শিক্ষার্থীদের সরকারি প্রাথমিকের বৃত্তি পরীক্ষায় অংশ নেওয়া নিয়ে তিনি বলেন, প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অনেক ক্ষেত্রে নিম্নবিত্ত ঘরের ছেলেমেয়েরা পড়ে। তারা অনেক সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত থাকে। তাদের অভিভাবকরা সঠিকভাবে খেয়াল রাখেন না। অপরদিকে কিন্ডারগার্টেনে নিজস্ব বৃত্তি চালু রয়েছে। ক্লাস টু থেকে ফাইভ পর্যন্ত সেখানে বৃত্তি পরীক্ষা হয়। আমাদের উদ্দেশ্য হচ্ছে বৃত্তি না, প্রাথমিক শিক্ষার মান্নোনয়ন। দেশের সংবিধানে আছে– সরকার প্রত্যেক নাগরিকের জন্য প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিত করবে। যদি কেউ মনে করে সে সরকারি বৃত্তি পরীক্ষায় অংশ নেবে, তাহলে আমাদের স্কুল ওপেন আছে। তারা সরকারি স্কুলে ভর্তি হোক, আমরা সবার দায়িত্ব নেব।
স্কুল ফিডিং কার্যক্রম চালুর প্রকল্প হাতে নিয়েছে সরকার
স্কুল ফিডিং নিয়ে উপদেষ্টা বলেন, প্রাথমিক বিদ্যালয়ে স্কুল ফিডিং কার্যক্রম চালুর বিষয়ে সরকার প্রকল্প হাতে নিয়েছে। এর মধ্যে একটি প্রকল্পে সারাদেশে ১৫০টি উপজেলার সবক’টিতে স্কুল ফিডিং কার্যক্রম বাস্তবায়িত হবে। অপরদিকে কক্সবাজার ও বান্দরবানের প্রতিটি উপজেলায় এ কার্যক্রম বাস্তবায়ন হবে। সারাদেশে মোট ১৬৫টি উপজেলায় এ প্রকল্প বাস্তবায়ন হবে। এজন্য ক্রয় প্রক্রিয়া ও যারা বাস্তবায়ন করবে, তাদের প্রশিক্ষণ শুরু হয়েছে। আশা করছি, সেপ্টেম্বরের মধ্যে প্রস্তুতির কার্যক্রম শেষ হবে।
উপদেষ্টা বলেন, দুর্গম চরাঞ্চলে প্রাথমিক শিক্ষার মান্নোনয়ন নিয়ে আমাদের চিন্তা রয়েছে। কীভাবে এসব এলাকায় অবকাঠামো তৈরি করা যায়, শিক্ষকদের রাখা যায়– তা নিয়ে ভাবা হচ্ছে।
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রবিউল ফয়সালের সভাপতিত্বে মতবিনিময় সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব আবু তাহের মো. মাসুদ রানা, স্থানীয় সরকার পরিচালক আবু জাফর, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক নুর মো. শামসুজ্জামান, পরিচালক মোহাম্মদ কামরুল হাসান প্রমুখ।
