ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

সাবেক সেনাপ্রধান হারুন-অর-রশীদের দাফন সম্পন্ন

সাবেক সেনাপ্রধান হারুন-অর-রশীদের দাফন সম্পন্ন
×

হাটহাজারীতে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে সাবেক সেনাপ্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) হারুন-অর-রশীদের মরদেহ দাফন করা হয়েছে  

চট্টগ্রাম ব্যুরো

প্রকাশ: ০৪ আগস্ট ২০২৫ | ২৩:৫৩ | আপডেট: ০৪ আগস্ট ২০২৫ | ২৩:৫৪

সাবেক সেনা প্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) এম হারুন-অর-রশীদের (বীর প্রতীক) দাফন সম্পন্ন হয়েছে। হাটহাজারী উপজেলার ধলই ইউনিয়নের পুর্ব ধলই হাধুরখীল মসজিদের মাঠে জানাজা শেষে সোমবার রাত সাড়ে ১০টায় পারিবারিক কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়েছে। 

এ সময় সেনাবাহিনী, পুলিশ ও উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। তবে গার্ড অব অনার দেওয়া হয়নি। 

হাটহাজারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ আবদুল্লাহ আল মুমিন বলেন, ‌‘গার্ড অব অনার দেওয়ার প্রস্তুতি নিয়ে আমরা জানাজায় এসেছিলাম। পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মৃত্যুর আগে তিনি বলে গেছেন যাতে গার্ড অব অনার দেওয়া না হয়। তাই তাদের অনুরোধে গার্ড অব অনার দেওয়া হয়নি। আমরা পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছি।’

সোমবার দুপুরে চট্টগ্রাম ক্লাবের গেস্ট হাউজের একটি কক্ষ থেকে সাবেক সেনাপ্রধান এম হারুন-অর-রশীদের (৭৫) মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ক্লাবের ৩০৮ নম্বর রুমের বারান্দার গ্লাস ভেঙে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তাঁর বাড়ি চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলায়। তিনি ঢাকায় বসবাস করতেন।

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) দক্ষিণ জোনের উপ-কমিশনার (ডিসি) মো. আলমগীর হোসেন সমকালকে বলেন, ‘ঢাকা থেকে এসে ক্লাবের ৩০৮ রুমে রাত যাপন করেছিলেন এম হারুন-অর-রশীদ। সকালে তাঁর একটা মিটিং ছিল। কিন্তু তাঁর মোবাইলে বার বার কল দেওয়া হলেও তিনি রেসপন্স করছিলেন না। এরপর স্বজনরা আসেন। দরজায় নক করা হলেও কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে পরে বারান্দায় গ্লাসের দরজা ভেঙে বিছানায় মরদেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়। রাতে তিনি একটি বিয়ের দাওয়াতে অংশগ্রহণ করেছিলেন।’

সোমবার বিকেল সাড়ে তিনটায় হারুন-অর-রশীদের মরদেহ চট্টগ্রামের সম্মিলিত সামরিক হাসপাতাল নিয়ে যাওয়া হয়। তাঁর ফুফাতো বোন চিকিৎসক অধ্যাপক নজিবুন্নাহার সমকালকে জানান, সিএমএইচে আনুষ্ঠানিকতা শেষে সেখানে হারুন-অর-রশীদের জানাজা হবে। এরপর পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে। অধ্যাপক নজিবুন্নাহার বলেন, ‘হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তার মৃত্যু হয়েছে। তিনি চক্ষু দান করে গেছেন।’

এম হারুন-অর-রশীদ বীরপ্রতীক খেতাবে ভূষিত একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা। ২০০০ সালের ২৪ ডিসেম্বর থেকে ২০০২ সালের ১৬ জুন পর্যন্ত তিনি দেশের দশম সেনাপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

অবসরে যাওয়ার পর হারুন উর রশীদ ডেসটিনির সঙ্গে ব্যবসায় যুক্ত হন। এ নিয়ে তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক মামলা হয়। তিনি সাজাপ্রাপ্ত হয়ে জেলও খাটেন।

আরও পড়ুন

×