ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

অপহৃত আদিবাসী শিক্ষার্থী ফিরলেন মুক্তিপণে

অপহৃত আদিবাসী শিক্ষার্থী ফিরলেন মুক্তিপণে
×

কুমলাও আরেং

নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ

প্রকাশ: ১৪ আগস্ট ২০২৫ | ১৯:৪০ | আপডেট: ১৪ আগস্ট ২০২৫ | ২০:১৪

ময়মনসিংহের ত্রিশাল বাজারে কেনাকাটা করতে গিয়ে বুধবার দুপুরে অপহরণের শিকার হন জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের এক আদিবাসী শিক্ষার্থী। পরে মুক্তিপণের টাকা পাওয়ার পর বিকেল ৫টার দিকে তাকে ছেড়ে দেয় অপহরণকারীরা। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ত্রিশাল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন।

বিষয়টি সমকালকে নিশ্চিত করেছেন ত্রিশাল থানার ডিউটি অফিসার এসআই দেবলাল সরকার। ওই শিক্ষার্থীরা নাম কুমলাও আরেং। তিনি ময়মনসিংহের ধোবাউড়া উপজেলার সীমান্তবর্তী ঘোষগাঁও ইউনিয়নের অপূর্ব মানখিনের ছেলে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের পাবলিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশন বিভাগের শিক্ষার্থী ও আদিবাসী ছাত্র সংগঠনের সাংগঠনিক সম্পাদক শ্রাবণ চিছাম সমকালকে জানান, বুধবার দুপুর ২টার দিকে কুমলাও আরেং ত্রিশাল উপজেলা বাজারে জিনিসপত্র কিনতে যান। এ সময় অটোরিকশায় আসা ৫-৬ জনের একটি দল মুখে কাপড় চেপে ধরে তাকে অজ্ঞান করে। পরে তাকে একটি গোপন স্থানে নিয়ে আটকে রাখে।

 শ্রাবণ চিছাম বলেন, জ্ঞান ফিরে পাওয়ার পর ওই শিক্ষার্থী নিজেকে একটি ভবনের ছাদে দেখতে পান এবং দুষ্কৃতিকারীরা তার কাছে প্রথমে দুই লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। এ সময় তাকে লাঠি ও লোহার রড দিয়ে মারধর করা হয়। পারিবারিক অবস্থা জানা পর তার কাছে এক লাখ টাকা দাবি করা হয়। উপায় না পেয়ে শিক্ষার্থী টাকার জন্য বাড়িতে ফোন দেযন। পরে তার বাবা ও মামা আলাদাভাবে ২০ হাজার টাকা বিকাশে পাঠান।

অপহরণকারীরা টাকা পাওয়ার পর বিকেল ৫টার দিকে তাকে চোখ বেধে একটি অটোরিকশায় তুলে ঢাকা ময়মনসিংহ হাইওয়ের ত্রিশাল এলাকায় ছেড়ে দেয়।

কুমলা আরেংয়ের বাবা অপূর্ব মানখিন বলেন, 'ঘটনার পর থেকে আমার ছেলে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত। বেশ কয়েকবার জ্ঞান হারিয়েছে। এখনো ভালোভাবে সবার সঙ্গে কথা বলতে পারছেন না।' 

​অপহরণের ঘটনার পর থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক ও উদ্বেগ বিরাজ করছে। কয়েকজন শিক্ষার্থী জানান, ক্যাম্পাসের আশেপাশে এমন ঘটনা প্রায়ই ঘটছে। 

​এ বিষয়ে ত্রিশাল থানার এসআই দেবলাল সরকার জানান, ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর বাবা ত্রিশাল থানায় এ বিষয়ে একটি অভিযোগ করেছেন। পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করছে। তবে এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রোক্টর মাহবুবুর রহমান জনি সমকালকে বলেন, 'ঘটনাটি স্পর্শকাতর। প্রশাসন এটি নিয়ে গুরুত্ব সহকারে কাজ করছে। সিসিটিভি ফুটেজ দেখে  জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারে কাজ চলছে।' 

আরও পড়ুন

×