ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

মানুষের সঙ্গে সখ্য গড়েছে হনুমানটি

মানুষের সঙ্গে সখ্য গড়েছে হনুমানটি
×

দৌলতদিয়া ৩ নম্বর ফেরিঘাট এলাকার একটি দোকানে কালোমুখো হনুমান সমকাল

গোয়ালন্দ (রাজবাড়ী) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১৬ আগস্ট ২০২৫ | ২৩:৪৫

শুরুতে হনুমানটিকে গাছের মগডাল বা নির্জন জায়গায় দেখা যেত। কিছু দিনের মধ্যেই প্রাণীটি মানুষের কাছাকাছি আসতে শুরু করে। এখন তো দোকানপাটে মানুষের সঙ্গেই বসে থাকে। কেউ কলা বা অন্য খাবার দিলে খায়। কথাগুলো বললেন দৌলতদিয়া ঘাটের ব্যবসায়ী জোয়ায়ের হোসেন (৪৫)। তাঁর মোবাইল ব্যাংকিং ও রিচার্জের ব্যবসা। হঠাৎ এই এলাকায় হনুমান দেখে তারা চমকে গিয়েছিলেন বলে জানান। 
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ঘাট এলাকায় কালোমুখো হনুমানটি কবে এসেছে, কেউ বলতে পারছেন না। বেশ কিছুদিন ধরেই এই হনুমানটি পুরো এলাকায় বিচরণ করলেও কারও ওপর আক্রমণের তথ্য দিতে পারলেন না কেউ। শনিবার দৌলতদিয়া ৩ নম্বর ফেরিঘাট এলাকার আব্দুর রহমানের (৫৫) চায়ের দোকানে টেবিলের ওপর বসে ছিল হনুমানটি। স্থানীয় লোকজনের ধারণা, দলছুট হয়ে কলাবাহী কোনো ট্রাকে উঠেছিল প্রাণীটি। পরে দৌলতদিয়ায় চলে আসে।
চা দোকানি আব্দুর রহমানের ভাষ্য, হনুমানটি বেশির ভাগ সময় তাঁর দোকানেই বসে থাকে। স্থানীয় লোকজন ছাড়াও  পথের নানা যাত্রী প্রাণীটিকে কলা-পাউরুটি বা অন্য খাবার কিনে দেয়। নানা বয়সী মানুষ প্রাণীটিকে দেখতে ভিড় করেন, অনেকেই কাছে গিয়ে ছবিও তোলেন। শান্ত স্বভাবের হনুমানটি কারও দিকে তেড়ে যায় না। 
যশোরের কেশবপুর এলাকা থেকে কলাবাহী কোনো ট্রাকে করে কালোমুখো হনুমানটি এখানে আসে বলে ধারণা করছেন গোয়ালন্দ উপজেলা বন কর্মকর্তা মো. আজিজুল ইসলাম। তিনি বলেন, সুযোগ পেলে আবারও সেখানে চলেও যাবে। হনুমান খুবই নিরীহ প্রকৃতির প্রাণী। মানুষকে আক্রমণ করার আশঙ্কা নেই। তবে এদের বিরক্ত করা উচিত নয়। 
তিনি আরও বলেন, এক সময় খুলনা-যশোর অঞ্চলে প্রচুর কালোমুখো বড় প্রজাতির হনুমান দেখা যেত। এখন শুধু যশোরের কেশবপুরে অল্প কিছু হনুমান আছে। এগুলোর কোনো কোনোটি খাদ্যাভাবে দলছুট হয়ে পড়ে। পরে অন্যান্য জায়গায় চলে যায়। 
 

আরও পড়ুন

×