‘মিউজিক পার্টি’তে ‘জয় বাংলা’ গান, আ.লীগ ভেবে হামলা
মিউজিক পার্টি
চাঁদপুর প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৭ আগস্ট ২০২৫ | ০০:৫৫ | আপডেট: ১৭ আগস্ট ২০২৫ | ০০:৫৬
চাঁদপুর জেলা আওয়ামী লীগের পরিত্যক্ত কার্যালয়ে শুক্রবার ‘মিউজিক পার্টি’ আয়োজন করে কিছু ছাত্র-জনতা। সেখানে ব্যঙ্গ করে বাজানো হয় আওয়ামী লীগের থিম সং ‘জয় বাংলা, জিতবে আবার নৌকা’। হঠাৎ করে গানটি শুনে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা ফিরে এসেছেন ভেবে হামলা করে আরেক দল লোক। মিউজিক পার্টির জন্য আনা সরঞ্জাম ভাঙচুর করেন তারা।
হামলায় আরিয়ান আহমেদ নামে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে জড়িত এক শিক্ষার্থী আহত হন। খবর পেয়ে পুলিশ ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সলিম উল্লাহ সেলিম নেতাকর্মী নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করেন এবং সবাইকে সেখান থেকে সরে যেতে বলেন।
প্রত্যক্ষদর্শী কয়েকজন জানান, গণঅভ্যুত্থানে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশ ছাড়ার এক বছরপূর্তি ও ১৫ আগস্টকে কেন্দ্র করে শুক্রবার রাতে জেলা আওয়ামী লীগের পরিত্যক্ত কার্যালয়ের নিচতলায় মিউজিক পার্টির আয়োজন করেন কিছু ছাত্র-জনতা। এতে ‘জয় বাংলা, জিতবে এবার নৌকা’, ‘পালিয়েছে, শেখ হাসিনা পালিয়েছে’সহ বিভিন্ন গান বাজানো হয়। কিন্তু ‘জয় বাংলা, জিতবে এবার নৌকা’ গান শুনে জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে ‘আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগ অবস্থান নিয়েছে’ ভেবে হামলা চালায় একদল লোক। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসেন সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বাহার মিয়া। একই সময়ে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সলিমুল্লাহ সেলিমও এসে পুলিশের মাইক হাতে নিয়ে সবাইকে শান্ত করেন। হামলায় আহত এক শিক্ষার্থীকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
কেউ বলছেন, ১৫ আগস্টকে কেন্দ্র করে জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ের নিচতলায় মিউজিক পার্টির আয়োজন করেন কয়েকজন ছাত্র-জনতা। রাত সাড়ে ৯টার পর সেখানে বাজানো গান শুনে পুলিশ এসে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করে। কিন্তু আয়োজন আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে বুঝতে পেরে তারা সরে যান। কিন্তু ‘জয় বাংলা, জিতবে এবার নৌকা’ গান শুনে ফরিদগঞ্জের বিএনপির এক নেতা এসে বাধা দেন। এ সময় একদল লোক এসে ‘ফ্যাসিবাদকে প্রতিহত কর’ বলে ভাঙচুর চালায়। পরে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এসে সবাইকে শান্ত করেন। মূলত ভুল বোঝাবুঝি থেকে এই হামলার ঘটনা ঘটেছে।
জানতে চাইলে বিএনপি নেতা সলিমুল্লাহ সেলিম বলেন, ‘আমি ঘটনার সময় কাছাকাছি চাঁদপুর ক্লাবে ছিলাম। আমাকে বৈষম্যবিরোধী ও বিএনপির পক্ষ থেকে ফোন করা হয়। তখন আমি দৌড়ে গিয়ে দেখি চরম উত্তেজনা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। পরে সবাইকে আওয়ামী লীগ অফিস ছেড়ে যাওয়ার নির্দেশ দিলে সবাই চলে যায়। আমি সেখানে সময়মতো না গেলে ভয়াবহ অবস্থা তৈরি হতো।’
চাঁদপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বাহার মিয়া জানান, এখন পর্যন্ত থানায় কোনো অভিযোগ বা মামলা হয়নি।
- বিষয় :
- চাঁদপুর
- আওয়ামী লীগ
- জয় বাংলা
- হামলা
