ঢাকা শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬

সিএনজি স্টেশনে বিস্ফোরণ পুড়ল ১২ যানবাহন

সিএনজি স্টেশনে বিস্ফোরণ পুড়ল ১২ যানবাহন
×

.

নবীগঞ্জ (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২১ আগস্ট ২০২৫ | ২৩:৫৮

নবীগঞ্জ উপজেলায় সিএনজি রিফুয়েলিং স্টেশনে ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার সকালে উপজেলার আউশকান্দি এলাকায় এ অগ্নিকাণ্ডে ৯টি সিএনজিচালিত অটোরিকশা, একটি বাস ও দুটি মোটরসাইকেল পুড়ে গেছে। সিলেট বিভাগীয় বিস্ফোরক অধিদপ্তরে সহকারী পরিচালক মো. মোস্তফা ফারুক ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।
ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় সূত্র জানায়, সকাল পৌনে ৬টার দিকে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের পাশে আউশকান্দি সিএনজি রিফুয়েলিং স্টেশনে পুরোনো ফিটনেসবিহীন বাসে গ্যাস ভরার সময় হঠাৎ বিস্ফোরণে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। মুহূর্তেই তা আশপাশে রাখা গাড়িতে ছড়িয়ে যায়।  খবর পেয়ে নবীগঞ্জ, বাহুবল ও ওসমানীনগর থেকে ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট এক ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে সকাল ৭টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। এ দুর্ঘটনায় ৯টি অটোরিকশা, একটি বাস, দুটি মোটরসাইকেলসহ পাম্প পুড়ে যায়। গুরুতর আহত হন ছয়জন। তাদের সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। আগুনে প্রায় ২০ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন পাম্প কর্তৃপক্ষ। 
নবীগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের ইনচার্জ হাবিবুর রহমান জানান, দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণ করায় ক্ষয়ক্ষতি কম হয়েছে। পাম্পের গ্যাসের মজুতে আগুন পৌঁছেনি। রক্ষা পেয়েছে পাশের বিবিয়ানা গ্যাস ফিল্ডের সাউথ প্যাড ও জালালাবাদ গ্যাসের বিতরণ কেন্দ্র ডিআরএস সেন্টার। আগুন ছড়িয়ে পড়লে জালালাবাদ ডিআরএস সেন্টারের সংযোগ লাইন বন্ধ করে দেয়া হয়। 
গ্যাস পাম্পের সহকারী ম্যানাজার শোয়েব আহমদ জানান, আমরা তিন তলায় ঘুমাচ্ছিলাম। হঠাৎ আগুন, আগুন চিৎকার শুনি। আমরা প্রাণ বাঁচাতে পেছনে তিন তলা থেকে ধানি জমির কাদার মধ্যে লাফ দিই।   
জালালাবাদ গ্যাসের নবীগঞ্জ আঞ্চলিক বিতরণ কার্যালয়ের প্রধান আব্দুল কাদের বলেন, আমরা সারা নবীগঞ্জের গ্যাস সংযোগ বিছিন্ন করে দিই। 
নবীগঞ্জ থানার ওসি শেখ কামরুজ্জামান বলেন, পুড়ে যাওয়া অটোরিকশাগুলো উদ্ধার করে মালিকের জিম্মায় দেওয়া হয়েছে। বাসটির কোনো কাগজপত্র বা মালিক পাওয়া যায়নি। কাগজ পেলে এটির ফিটনেস সম্পর্কে জানা যাবে। 
ফায়ার সার্ভিসের উপসহকারী পরিচালক মোহাম্মদ আবুল কালাম আজাদ বলেন, যে বাসে গ্যাস ভরা হচ্ছিল, সেটি পুরোনো ছিল। রিফুয়েলিং করার সময় বিকট শব্দে আগুন লেগে যায়। এতে একটি বাস, ৯টি অটোরিকশা ও দুটি মোটরসাইকেল পুড়ে যায়। তবে রিফুয়েলিং স্টেশনের মূল গ্যাসের মজুতে আগুন না পৌঁছায় বড় ধরনের বিপর্যয় থেকে রক্ষা পাওয়া গেছে। বাসটি দেখেই মনে হয়েছে ফিটনেসবিহীন ছিল। তবে চালক পলাতক হওয়ায় পরীক্ষা করা সম্ভব হয়নি।
সিলেট বিভাগীয় বিস্ফোরক অধিদপ্তরে সহকারী পরিচালক মোস্তফা ফারুক বলেন, প্রাথমিকভাবে তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে বাসটি ফিটনেসবিহীন ছিল। নবীগঞ্জ থানাকে বাসচালক ও মালিকের বিরুদ্ধে মামলা দিতে বলা হয়েছে। 

আরও পড়ুন

×