ঢাকা শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬

নিষেধাজ্ঞার মৌসুমে নিধন মাছ-কাঁকড়া, শঙ্কায় জেলে

নিষেধাজ্ঞার মৌসুমে নিধন  মাছ-কাঁকড়া, শঙ্কায় জেলে
×

.

শেখ হারুন অর রশিদ, কয়রা (খুলনা)

প্রকাশ: ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৫ | ০৬:৩৭

মাছ ও কাঁকড়ার প্রজনন মৌসুম হিসেবে প্রতিবছর ১ জুন থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত সুন্দরবনে সব ধরনের প্রবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয় বন বিভাগ। নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে গত তিন মাসে সুন্দরবনের খালে বিষ ছিটিয়ে বিপুল সংখ্যক কাঁকড়া, মাছ ও হরিণ শিকার করেছে বিষদস্যু ও চোরাশিকারিরা। এতে জীবিকা নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন প্রকৃত জেলেরা। বনরক্ষীদের দায়িত্বে অবহেলার কারণে নিষেধাজ্ঞার সময়ে সুন্দরবনের খাল থেকে মাছ ও কাঁকড়া উজাড় হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন তারা। 
বন বিভাগের তথ্যানুযায়ী, গত ১ জুন থেকে ২৬ আগস্ট পর্যন্ত বন বিভাগের অভিযানে ১ হাজার ৩৭০ কেজি চিংড়ি, ৪২০ কেজি শুঁটকি, ২২০ কেজি সাদা মাছ, ১ হাজার ৬শ কেজি কাঁকড়া, ৪৮টি বিষের বোতল ও ৩২ কেজি হরিণের মাংস উদ্ধার করা হয়েছে। এ সময় ৫৮ জন অবৈধ প্রবেশকারী আটক ও তাদের ব্যবহৃত ৭৮টি নৌকা ও ৫টি ট্রলার জব্দ করা হয়। এসব ঘটনায় মামলা হয়েছে ৯৯টি। 
সাধারণ জেলেরা জানান, তিন মাসের নিষেধাজ্ঞার পর সোমবার থেকে বন বিভাগের বৈধ অনুমতি নিয়ে তারা সুন্দরবনে প্রবেশ করবেন। তবে নিষেধাজ্ঞার মৌসুমে বিষ ছিটিয়ে অবাধে শিকার করায় সুন্দরবনের খালে এবার মাছ ও কাঁকড়া পাওয়া নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন তারা।  

জেলেদের অভিযোগ, সুন্দরবনে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা ছিল কাগজ-কলমে। বন বিভাগের অসাধু কর্মকর্তা ও সিপিজি সদস্যদের সহায়তায় এ সময়ে বিষদস্যু ও চোরা শিকারিররা সুন্দরবনে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছে। বন্ধের মৌসুমে তারা বনের গহিনে শুঁটকির কারখানাও গড়ে তুলেছিল। এ কারণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে মাছ ও কাঁকড়া উদ্ধার এবং অবৈধ প্রবেশকারী ধরা পড়ার সংখ্যা অনেক কম।
আবু মুসা গাজী, আব্দুল করিম মোল্লা, গফ্‌ফার গাইন, আবু বক্কার গাজীসহ কয়েকজন বনজীবীর ভাষ্য, বন বিভাগের নিষেধাজ্ঞার কারণে তিন মাস কর্মহীন থেকেছেন তারা। অথচ এ সময়ে অবৈধ মাছ ব্যবসায়ীরা প্রশাসন ও বনরক্ষীদের ম্যানেজ করে শ্রমিক দিয়ে মাছ, কাঁকড়া শিকার করেছেন। তারা বনের ভেতরের খালে বিষ ছিটিয়ে বেশি মাছ আহরণ করেছেন। মাঝেমধ্যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী লোক দেখানো অভিযান পরিচালনা করেছে। এতে মাছ, কাঁকড়াসহ কয়েকজন ধরা পড়লেও বনে চোরা শিকারি ও বিষদস্যুদের অবৈধ প্রবেশ বন্ধ হয়নি। যে কারণে এবার সুন্দরবনের খালে মাছের সংকট দেখা দেবে। এতে জীবিকা নিয়ে তাদের ভুগতে হবে।  

সুন্দরবন সুরক্ষা আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক ইমতিয়াজ উদ্দীন বলেন, মাছের প্রজনন মৌসুমে সুন্দরবনে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞার উদ্দেশ্য এবার চরমভাবে ব্যর্থ হয়েছে। এই সময়ে বিষদস্যু ও চোরা শিকারির অপতৎপরতায় বনের যে ক্ষতি হয়েছে, তা সারাবছরেও পূরণ হওয়া সম্ভব নয়। এখানে বন-সংশ্লিষ্টদের দায়িত্বে অবহেলা ছিল। 
সুন্দরবন পশ্চিম বিভাগের বন কর্মকর্তা এজেডএম হাছানুর রহমান বলেন, নিষেধাজ্ঞার মৌসুমে বন বিভাগের টহল এড়িয়ে অনেকেই সুন্দরবনে প্রবেশের চেষ্টা করেছে। এমন অনেকেই বনরক্ষীদের হাতে আটক হয়েছে। এ ছাড়া অবৈধভাবে শিকার করা বিপুল সংখ্যক মাছ ও কাঁকড়া জব্দ করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। নিষেধাজ্ঞা চলাকালে বনরক্ষীরা যথাযথভাবে দায়িত্ব পালন করেছেন বলে সব অভিযান সফল হয়েছে– দাবি করেন তিনি। 
 

আরও পড়ুন

×