চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়
অনশনের ৩৫ ঘণ্টা পর ছয় শিক্ষার্থী অসুস্থ
ছবি: সংগৃহীত
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৫ | ০১:৩৪
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে চলমান আমরণ অনশনের ৩৫ ঘণ্টা পর নয় শিক্ষার্থীর মধ্যে ছয়জন অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। এদের মধ্যে তিনজন বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেল সেন্টারে চিকিৎসাধীন। তারা হলেন—নারী অঙ্গনের সংগঠক ও মার্কেটিং বিভাগের শিক্ষার্থী সুমাইয়া শিকদার, শাখা বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রীর নেতা জশদ জাকির এবং বিশ্ববিদ্যালয় শাখা গণতান্ত্রিক ছাত্র কাউন্সিলের সংগঠক ধ্রুব বড়ুয়া।
চারুকলা বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী জান্নাতুল ফেরদৌস ঐশী জানান, অনশন শুরু করেছেন নয় শিক্ষার্থী। প্রশাসন একবার এলেও শিক্ষার্থীদের দাবির প্রতি কোনো কার্যকর সাড়া দেয়নি।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘অনশনের ৩৪ ঘণ্টা পার হওয়ার পর তিনজনকে নিয়ে মেডিকেল সেন্টারে আসতে হয়েছে। কিন্তু এখানকার চিকিৎসক ও অ্যাম্বুলেন্স সেবার ঘাটতির কারণে রিকশায় করে অসুস্থদের আনা হয়েছে। প্রশাসন আর কত শিক্ষার্থীর শারীরিক অবনতি চাইছে?’
এদিকে প্রক্টর অফিসের সামনে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সুদর্শন চাকমা, শাখা বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রীর শিক্ষা ও সংস্কৃতিবিষয়ক সম্পাদক আহমেদ মুগ্ধ এবং বিপ্লবী ছাত্র যুব আন্দোলনের সংগঠক ঈশা দে।
বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রীর সহসভাপতি সাইদুজ্জামান রেদুয়ান জানান, ‘এখান থেকে তিনজনকে মেডিকেল সেন্টারে নেওয়ার পর চিকিৎসক আসেন। বর্তমানে এখানে ইশা দে, আহমেদ মুগ্ধ ও সুদর্শন চাকমাকে স্যালাইন দেওয়া হচ্ছে।’
চবি মেডিকেল সেন্টারের জরুরি বিভাগের ইনচার্জ মো. শুভ বলেন, ‘অনশনের কারণে শিক্ষার্থীদের শরীরে লবণ ও শর্করার ঘাটতি তৈরি হয়েছে। এতে রক্তচাপ অস্বাভাবিকভাবে কমে গেছে। আমরা দ্রুত তাদের স্যালাইন দিয়ে চিকিৎসা দিচ্ছি। আপাতত তারা চিকিৎসাধীন আছেন। তবে পুরোপুরি সুস্থ হতে সময় লাগবে।’
মেডিকেল সেন্টারের ইনচার্জ ডা. মোস্তফা কামাল হোসেন সমকালকে বলেন, ‘সারাদিন অনশনে থাকার কারণে শিক্ষার্থীদের রক্তচাপ ও সুগার অনেক কমে গেছে। আমরা তাদের সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দিচ্ছি।’
- বিষয় :
- চবি
- অনশন
- চবি শিক্ষার্থী
