নওগাঁয় কমেছে করোনার নমুনা সংগ্রহ
করোনার নমুনা দিচ্ছেন এক ব্যক্তি -সমকাল
নওগাঁ প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৪ জুলাই ২০২০ | ১০:০৫ | আপডেট: ২৪ জুলাই ২০২০ | ১০:৩৯
ফি দিয়ে করোনাভাইরাসের (কভিড-১৯) নমুনা সংগ্রহ শুরুর পর থেকে নওগাঁয় মানুষের আগ্রহ কমতে শুরু করেছে। এ অবস্থায় বিনামূল্যে নমুনা সংগ্রহ ও জেলায় পিসিআর ল্যাব স্থাপনের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
সিভিল সার্জন অফিস সূত্রে জানা যায়, জেলার ১১টি উপজেলায় গত ৩ এপ্রিল থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত ৬ হাজার ৮৭টি নমুনা সংগ্রহ করা হয়। সে হিসেবে দিনে গড়ে নমুনা সংগ্রহ করা হয় ১০৬ দশমিক ৭৮টি। গত ১ জুলাই থেকে ২২ জুলাই পর্যন্ত ফি দিয়ে নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে ১ হাজার ৬৭৫টি। অর্থ্যাৎ দিনে গড়ে নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে ৭৬ দশমিক ১৪টি।
জানা গেছে, এতদিন করোনাভাইরাসের নমুনা দেওয়ার জন্য হাসপাতালের করোনা ইউনিটগুলোতে মানুষ হুমড়ি খেয়ে পড়তো মানুষ। প্রয়োজন ছাড়াও একাধিকবার অনেকে নমুনা দিয়েছেন। কিন্তু ফি দিয়ে নমুনা সংগ্রহের পর থেকে অনেকটা চাপ কমে গেছে। ফি নির্ধারণের কারণে নিম্নবিত্ত মানুষেরা করোনার নমুনা দেওয়ায় অনাগ্রহী।
বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি নওগাঁর সভাপতি অ্যাডভোকেট মহসিন রেজা বলেন, পৃথিবীতে দ্বিতীয় কোন জায়গা খুঁজে পাওয়া যাবে না যেখানে রাষ্ট্রের নাগরিকদের থেকে টাকা নিয়ে করোনাভাইরাসের নমুনা পরীক্ষা করা হয়। যেটা বাংলাদেশে হচ্ছে। যে মানুষ সারাদিনে ১৫০-২০০ টাকা আয় করেন, সেসব মানুষদের অনেকের যাদের উপসর্গ আছে তারাও নমুনা দিতে যাচ্ছেন না। কারণ তাদের ২০০ টাকা জমা দিয়ে নমুনা দেওয়া কষ্টকর। এজন্য নমুনা সংগ্রহের পরিমাণ কমে যাচ্ছে। এছাড়া যখন ফ্রিতে নমুনা সংগ্রহ করা হতো তখনও সাধারণ মানুষের দিকে স্বাস্থ্যকর্মীদের নজর কম ছিল। এখন যখন টাকা দিয়ে নমুনা সংগ্রহ শুরু হলো তাতে সাধারণের গুরুত্ব আরও কমে গেছে।
তিনি বলেন, সমাজে অনেক মানুষ আছে যারা মনে করছেন করোনা পজেটিভ। কিন্তু টাকার অভাবে নমুনা দিতে পরাছেন না। এছাড়া অনেকে মনে করছেন বিষয়টি প্রচার হলে সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন ও ক্ষতিগ্রস্থ হবেন। তারাও নমুনা দিচ্ছেন না।
তিনি বলেন, সাধারণ মানুষের কথা চিন্তা করে আবারো ফ্রি করোনার নমুনা সংগ্রহ করা হোক। এমনকি ইউনিয়ন পর্যায়ে যেসব হেলথ কমপ্লেক্স আছে সেখানেও নমুনা সংগ্রহ করা উচিত। এছাড়া জেলা পর্যায়ে অবশ্যই পিসিআর ল্যাব স্থাপন করা উচিত।
নওগাঁ ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. মঞ্জুর-এ-মোর্শেদ বলেন, ঢাকার ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ল্যাবরেটরিতে নমুনা পাঠিয়ে করোনা পরীক্ষা করা হয়। কিছুদিন রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালেও নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। কিন্তু সেখানে চাপের কারণে পুনরায় ঢাকা থেকে নমুনা পরীক্ষা করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, ফি দিয়ে নমুনা সংগ্রহের আগে অনেকের যাদের দরকার নেই, তারাও নমুনা দিয়েছেন। কিন্তু ফি দিয়ে নমুনা সংগ্রহ শুরুর পর থেকে যাদের একান্ত প্রয়োজন মূলত তারাই নমুনা দিচ্ছেন। এতে দেখা গেছে বিগত দিনের তুলনায় বর্তমানে নমুনা সংগ্রহের পরিমাণ কমে গেছে।
উল্লেখ্য, ২৩ জুলাই পর্যন্ত জেলায় ৮৪৪ জন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। এর মধ্যে সুস্থ ঘোষণা করা হয়েছে ৬৪০ জনকে এবং মারা গেছেন ১৩ জন।