ঢাকা শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬

সুন্দরবন থেকে ছয় জেলেকে অপহরণ করল ভারতীয় জলদস্যুরা

সুন্দরবন থেকে ছয় জেলেকে অপহরণ করল ভারতীয় জলদস্যুরা
×

ফাইল ছবি

শ্যামনগর (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫ | ১৯:৫০

পশ্চিম সুন্দরবনের সাতক্ষীরা রেঞ্জ থেকে ছয় জেলেকে তুলে নিয়ে গেছে জলদস্যুরা। তাদের হাত থেকে রক্ষা পাওয়া জেলেরা জানিয়েছেন, হামলাকারী জলদস্যুরা ভারতীয়। বুধবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত সীমান্তবর্তী মামুন্দো নদীর মারঢাঙ্গা খাল, মামুন্দো ও বৈকেরি নদীর সংযোগস্থলসংলগ্ন হরিণটানা খাল থেকে ওই জেলেরা অপহরণের শিকার হন। 

অপহৃত জেলেদের মধ্যে শ্যামনগরের বাসিন্দা রাশিদুল ইসলাম (৩৫) ও আতাউর রহমানের (৩২) নাম জানা গেছে। অন্য চারজনের নাম তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। তবে তারা সবাই উপজেলার কালিঞ্চি ও টেংরাখালী গ্রামের বাসিন্দা। তাদের অপহরণের বিষয়টি অন্য জেলেরা লোকালয়ে এসে জানালে সেখানে উত্তেজনা দেখা দেয়। 
অপহরণকারীরা সীমান্তবর্তী নদীতে অবস্থান করছে, এমন সংবাদে শতাধিক গ্রামবাসী পুলিশের সঙ্গে সেখানে রওয়ানা হন। তাদের অভিযোগ, বিজিবি সদস্যরা মাঝপথে সবাইকে আটকে দেন। 

যে চার জেলের নাম জানা যায়নি, তাদের সহযোগীরা জানিয়েছেন, ৯ সদস্যের জলদস্যু দলের সদস্যরা ভারতীয় নৌযানে করে এসেছিল। তারা আগ্নেয়াস্ত্রের মুখে বুধবার বেলা ১১টার দিকে ওই চারজনকে তুলে নিয়ে যায়। একটি নৌকার মালিক মমতাজ ভাঙি মোশারফ হোসেন কালিঞ্চি গ্রামের বাসিন্দা। তিনি বলেন, বৈকেরির হরিণটানা খাল থেকে তাঁর নৌকার এক জেলেসহ তিনজনকে তুলে নেয় দুর্বৃত্তরা। পরে তিনি লোকালয়ে রওয়ানা হন। জলদস্যুরা নিজেদের ‘কাজল-মুন্না বাহিনী’র সদস্য হিসেবে পরিচয় দিয়েছে। জিম্মিদশা থেকে মুক্ত হওয়া কয়েকজন জেলের কাছেও তাদের পরিচয় জেনেছেন। ওই বাহিনীর সদস্যরা ভারতীয়। সম্প্রতি তাদের তিন সহযোগী পুলিশের কাছে গ্রেপ্তার হয়। তারা স্বীকার করেছে, জেলেদের জিম্মি করে আদায় করা মুক্তিপণ তারা ভারতে পাঠিয়েছে। 

টেংরাখালী গ্রামের নুরুল হক অপহরণের কবল থেকে কৌশলে রক্ষা পান। তাঁর ভাষ্য, মঙ্গলবার বনবিভাগ থেকে পাস (অনুমতিপত্র) নিয়ে তারা তিনজন বনে যান। বুধবার বেলা ১১টার দিকে ভারতীয় নৌযান নিয়ে আসা দস্যুরা তাদের অপহরণের চেষ্টা করে। তিনজনই নৌকা থেকে বনে পালিয়ে যান। এ সময় দস্যুরা নৌকা নিয়েই চলে যায়। 
এর আগে এদিন সকালে রাশিদুল ও আতাউরকে দস্যুরা তুলে নেয় বলে জানান টেংরাখালী গ্রামের ওয়েজকুরুনি। তাঁর ভাষ্য, অন্য জেলেদের পাশাপাশি জাল ফেলে তারা মারঢাঙ্গা খালে মাছ ধরছিলেন। এ সময় ৯ সদস্যের জলদস্যু দলটি সেখানে পৌঁছায়। তারা দুটি নৌকা থেকে দুই জেলেকে তুলে নেয়। কিন্তু অন্য তিনটি নৌকার জেলেরা বনে লুকিয়ে পড়েন। দস্যুরা জিম্মি দুই জেলের জন্য এখনও মুক্তিপণ দাবি করে কোনো কল দেয়নি। 

রমজাননগর ইউপির প্যানেল চেয়ারম্যান আব্দুল হামিদ লাল্টু বলেন, ছয় জেলেকে অপহরণের খবর পেয়ে শতাধিক গ্রামবাসী ঘটনাস্থলের উদ্দেশে রওনা দিয়েছিলেন। বিজিবির ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে সেখানে যাওয়ার অনুমতি না মেলেনি। তাই বিজিবি সদস্যরা তাদের পথিমধ্যে আটকে দেন। 

কৈখালী কোস্টগার্ডের এক কর্মকর্তার ভাষ্য, জেলেদের অপহরণ ও গ্রামবাসীর ঘটনাস্থলে রওনা হওয়ার বিষয়ে জেনেছেন। পুলিশ বা গ্রামবাসীর সঙ্গে তারা নেই। বিষয়টি তারা নিজেদের মতো দেখবেন।

এ বিষয়ে বিজিবির কোনো কর্মকর্তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। শ্যামনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হুমায়ুন কবিরের ভাষ্য, দুই সপ্তাহ আগে যশোরের বিভিন্ন এলাকা থেকে একই জলদস্যু বাহিনীর সহযোগী তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। বুধবার আরও কয়েকজন জেলের অপহরণের খবর পান। অপহৃত জেলের পরিবারসহ গ্রামবাসীদের ডাকে সাড়া দিয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলের উদ্দেশে রওনা হয়েছিল। কিন্তু তাদের ফিরে আসতে হয়েছে। 

আরও পড়ুন

×