শিল্প লবণের আড়ালে লবণ আমদানি বন্ধের দাবি
.
মহেশখালী (কক্সবাজার) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫ | ০৭:২২
ইন্ডাস্ট্রিয়াল সল্টের (শিল্প লবণ) নামে লবণ আমদানি বন্ধের দাবি জানিয়েছেন মহেশখালীর লবণ চাষি ও ব্যবসায়ীরা। তারা দেশীয় লবণ শিল্পকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা ও জীবিকা রক্ষায় প্রধান উপদেষ্টা ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন। বৃহস্পতিবার মহেশখালীর হোয়ানকে সংবাদ সম্মেলনে এ আহ্বান জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, ইন্ডাস্ট্রিয়াল সল্টের নাম দিয়ে লবণ আমদানি বন্ধ করতে হবে। দেশীয় লবণ শিল্পকে রক্ষার জন্য মাঠ পর্যায়ে প্রান্তিক চাষিদের উৎপাদিত লবণের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে হবে। লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, চাষিরা দেশে লবণ উৎপাদনের অতীতের রেকর্ড ভাঙতে চাইলেও লবণ মিল মালিকদের সিন্ডিকেট উৎপাদন কমানোর জন্য চাষিদের সঙ্গে মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধে নেমেছে। যাতে চাষিরা সামনের মৌসুমে লবণ চাষে আগ্রহ হারিয়ে ফেলেন এবং লবণ উৎপাদনে ঘাটতি তৈরি হয়।
লিখিত বক্তব্যে হোয়ানক মোহরাকাটার লবণ চাষি ও লবণ ব্যবসায়ী নুরুল কবির বলেন, দেশীয় লবণ শিল্পকে ধ্বংস করার জন্য ইন্ডাস্ট্রিয়াল লবণের নাম দিয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থাকে নিয়ন্ত্রণ করে লবণ আমদানির পাঁয়তারা করছে একটি চক্র, যা লবণ শিল্পকে ধ্বংসের দিকে নিয়ে যাবে। তিনি চাষিদের রক্ষার্থে লবণ আমদানি বন্ধের দাবি জানান।
লবণ ব্যবসায়ী আবু মুছা বলেন, মাঠ পর্যায়ে দাম কম হলেও বাজারে বিভিন্ন কোম্পানির প্যাকেটজাত লবণ বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ৪০-৪৫ টাকায়। লবণ মিল মালিকরা সিন্ডিকেট করে নিজেদের অর্থনৈতিকভাবে উন্নতি করছেন। কালালিয়া কাটা এলাকার লবণ চাষি জিয়া উদ্দীন বাবুল বলেন, গত বছর তিনি ১০ কানি (কানিতে ৪০ শতক) লবণ চাষ করেন। মৌসুমজুড়ে তাপপ্রবাহ বিরাজ করায় লবণ ভালো উৎপাদিত হলেও দাম কমে যাওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন তিনি। লোকসান দিয়ে এখনও লবণ বিক্রি করতে হচ্ছে। বর্তমানে প্রতি মণ লবণ বিক্রি হচ্ছে ৩০০ থেকে ৩২০ টাকায়। প্রতি মণ লবণ উৎপাদনে খরচ হয়েছে ২২০ থেকে ২৫০ টাকা। পরিবহন খরচ যোগ করলে শেষ পর্যন্ত কোনো লাভই থাকে না।
এ ছাড়াও বক্তব্য দেন নুরুল কবির, আবু মুছা, নাজিম উদ্দীন, মাওলানা ফোরকান, খোকন, আবুল বশর, মইনউদ্দীন, শাহাবউদ্দীন শান্ত, আরিফউল্লাহ সিকদার প্রমুখ।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, কক্সবাজার ও চট্টগ্রাম একমাত্র দেশীয় লবণ উৎপাদন কেন্দ্র। এর মধ্যে প্রায় ৯৫ শতাংশ লবণ উৎপাদন হয় কক্সবাজারে। এ জেলায় টেকনাফ ও মহেশখালী ছাড়াও সদর, ঈদগাঁও, কুতুবদিয়া, পেকুয়া, চকরিয়ায় লবণ উৎপাদন হয়। বাকি ৫ শতাংশ লবণ উৎপাদন হয় চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে। গত মৌসুমে পরিবেশ অনুকূলে থাকায় উৎপাদিত লবণ দেশের চাহিদা মেটাতে সক্ষম হয়েছে। কক্সবাজারে ৬৮ হাজার ৫০৫ একর জমিতে লবণের চাষ হয়েছে। গত ১৭ মে পর্যন্ত লবণ উৎপাদন ২২ লাখ ৫১ হাজার ৬৫১ টন। বিসিকের এ দাবির সঙ্গে ভিন্নমত পোষণ করেছেন লবণ চাষি ও লবণ ব্যবসায়ীরা। তাদের দাবি, ২২ লাখ নয়, ২৬ লাখ টনের বেশি উৎপাদন হয়েছে। লবণের ব্যবসা করে কক্সবাজারের ৬০ শতাংশ মানুষ জীবিকা নির্বাহ করে।
- বিষয় :
- লবণ
