বরগুনা
কাপড়ে মোড়ানো নবজাতকের পেট কাটা পেলেন স্বজন
ছবি: সংগৃহীত
আমতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫ | ২১:৩৬
বরগুনার তালতলীতে সিজারিয়ান অস্ত্রোপচারের পর নবজাতকের মৃত্যু হয়েছে। স্বজনের অভিযোগ, চিকিৎসক অস্ত্রোপচারের সময় ওই শিশুর পেট কেটে ফেলেন। পরে তারা বিষয়টি জানতে চাইলে সদুত্তর না দিয়ে পালিয়ে যান। বুধবার রাতে উপজেলার ইসলামী হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে এই ঘটনা ঘটে।
ওই হাসপাতালে প্রসব ব্যথা নিয়ে বুধবার ভর্তি হয়েছিলেন প্রসূতি সীমা আক্তার। তিনি উপজেলার সোনাকাটা ইউনিয়নের ছকিনা এলাকার বাসিন্দা মো. হৃদয় হোসেনের স্ত্রী। তার স্বজনের ভাষ্য, এদিন রাত ৮টার দিকে সীমার অস্ত্রোপচার করেন চিকিৎসক নুসরাত জাহান। এর তিন ঘণ্টা পর কাপড়ে মুড়িয়ে নবজাতককে স্বজনের হাতে দেওয়া হয়। তখন তারা রক্ত দেখতে পান। কাপড় সরিয়ে শিশুটির পেট কাটা দেখে চিকিৎসক-নার্সকে জানালে তারা সদুত্তর দেননি। কিছুক্ষণ পরই চিকিৎসক নুসরাতসহ হাসপাতালের সবাই পালিয়ে যান।
সীমার মা রেবা বেগমের ভাষ্য, ‘অপারেশনের পর শিশুটির গায়ে কাপড় পেঁচিয়ে আমার হাতে তুলে দেয় চিকিৎসক ও সেবিকারা। পরে শিশুটির শরীরে রক্ত দেখতে পাই। এ সময় গায়ের কাপড় খুললে পেটে ছুরির আঘাত দেখা যায়। বিষয়টি ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ ও চিকিৎসকের কাছে জানতে চাইলে ডা. নুসরাত জাহান ও নার্সসহ সবাই ক্লিনিক ছেড়ে পালিয়ে যান।’
নবজাতকের বাবা হৃদয় হোসেন সন্তানের মৃত্যুর জন্য চিকিৎসক ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের গাফিলতিকে দায়ী করেন। তিনি এ ঘটনায় জড়িত সবার বিচার দাবি করেন। বক্তব্য জানতে চিকিৎসক নুসরাত জাহানের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল দিয়েও সংযোগ মেলেনি।
ইসলামী হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালিক মাসুম বিল্লাহ দাবি করেন, শিশুটি শ্বাসকষ্টের কারণে মারা গেছে। তার শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন নেই।
তালতলী থানার ওসি মো. শাহজালাল বলেন, এ বিষয়ে কোনো অভিযোগ তারা পাননি, পেলে তদন্তের পর আইনি ব্যবস্থা নেবেন।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মনিরুল ইসলাম বলেন, অস্ত্রোপচারের সময় পেট কেটে নবজাতকের মৃত্যুর বিষয়টি তারা জেনেছেন। এ ঘটনায় ইসলামী হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়গনস্টিক সেন্টার কর্তৃপক্ষকে তলব করা হয়েছে। ওই হাসপাতালটি তাৎক্ষণিক বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
- বিষয় :
- বরগুনা
- নবজাতকের লাশ উদ্ধার
