ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

পর্বতাভিযান

কৃত্রিম অক্সিজেন ছাড়া মানাসলুর চূড়ায়

কৃত্রিম অক্সিজেন ছাড়া মানাসলুর চূড়ায়
×

কৃত্রিম অক্সিজেন ছাড়াই মানাসলু পর্বতের শীর্ষে ওঠার সময় বাবর আলী -সংগৃহীত

সারোয়ার সুমন, চট্টগ্রাম

প্রকাশ: ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫ | ০৮:১৫ | আপডেট: ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫ | ১১:৪৬

পৃথিবীর অষ্টম শীর্ষ পর্বত মানাসলু জয় করেছেন বাবর আলী। বাংলাদেশ সময় শুক্রবার ভোর ৪টা ৪৫ মিনিটে ২৬ হাজার ৭৮১ ফুট উচ্চতার এই পাহাড়ের চূড়ায় ওঠেন তিনি। এরই মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের পর্বতারোহণের ইতিহাসে সূচিত হয়েছে এক নতুন অধ্যায়। 

এর আগে কৃত্রিম অক্সিজেন ছাড়া এত উঁচু পাহাড়ে ওঠেননি আর কোনো বাংলাদেশি। এটি এভারেস্ট, লোৎসে, অন্নপূর্ণা-১-এর পর বাবরের চতুর্থ আট হাজারি শৃঙ্গ জয়। এটি বাংলাদেশি পর্বতারোহীদের মধ্যে সর্বোচ্চ সংখ্যক আট হাজারি শিখর সামিটের দৃষ্টান্ত। এর আগে এম এ মুহিত এ পর্যন্ত তিনটি আট হাজারি পর্বতের শিখরে চারবার সামিট করেছেন।

আট হাজার মিটারের অধিক উচ্চতার পর্বত পৃথিবীতে আছে সর্বসাকল‍্যে ১৪টি। ভূপৃষ্ঠের তুলনায় ওই উচ্চতায় অক্সিজেন থাকে মাত্র এক-তৃতীয়াংশ। এ জন‍্য এত উঁচু পাহাড়ে উঠতে পর্বতারোহীদের দরকার হয় কৃত্রিম অক্সিজেন। কিন্তু অন‍্যরা যা করেন; বাবর আলী করেন তার ব‍্যতিক্রম। তাই ঝুঁকি নিলেন তিনি। সাহস ও মনোবলের অপূর্ব এক সম্মিলন করে কৃত্রিম অক্সিজেন ছাড়াই এ পর্বত আরোহী গতকাল শুক্রবার ভোরে স্পর্শ করলেন পৃথিবীর অষ্টম সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ মাউন্ট মানাসলু।

বাবর ছাড়াও একই দিন মানাসলু পর্বতের শিখরে ছিলেন আরেক বাংলাদেশি পর্বতারোহী তানভীর আহমেদ। তবে কৃত্রিম অক্সিজেন লেগেছে তাঁর। এটি তানভীরের প্রথম আট হাজারি শিখর অভিযান। আর প্রথম অভিযানেই এসেছে এই সাফল্য। 
 

‘মানাসলু অ্যাসেন্ট : ভার্টিক্যাল ডুয়ো’ শীর্ষক এই অভিযানের আয়োজক পর্বতারোহণ ক্লাব ভার্টিক্যাল ড্রিমার্স। গণমাধ্যমকে খবরটি নিশ্চিত করে ক্লাবটির সভাপতি ও অভিযান ব্যবস্থাপক ফরহান জামান বলেন, ‘বিশ্বের অষ্টম শীর্ষ পর্বত মানাসলুতে একই দিনে দুবার উড়ল আমাদের লাল-সবুজের পতাকা। নিত্যনতুন চ্যালেঞ্জ নিতে অভ্যস্ত বাবরের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন ছিল অতিরিক্ত অক্সিজেন ছাড়া আট হাজারি শিখরে আরোহণের। শুক্রবার প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে বাবর আলী সেটা জয় করেছেন। 

তানভীর ও বাবর বাংলাদেশ থেকে নেপালে যান ৫ সেপ্টেম্বর। প্রস্তুতিমূলক কাজ শেষ করে ৭ সেপ্টেম্বর তারা কাঠমান্ডু থেকে গাড়িতে যান তিলচে গ্রামে। এরপর পাঁচ দিন হেঁটে পৌঁছে যান বেসক্যাম্পে। সেখানে প্রথম দফা ক্যাম্প-১-এ (৫৭০০ মিটার) এক রাত কাটিয়ে নেমে আসেন তারা। এক দিন বিশ্রামের পর দ্বিতীয় দফা আরোহণে তানভীর ক্যাম্প-২ (৬৩০০ মিটার) এবং বাবর ক্যাম্প-৩-এ (৬৭০০ মিটার) রাত কাটিয়ে শেষ করেন উচ্চতার সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার পর্ব।

এক দিন বেসক্যাম্পে বিশ্রামের পর আসে চূড়ান্ত চেষ্টার ক্ষণ। তানভীর ২২ সেপ্টেম্বর বেসক্যাম্প থেকে যাত্রারম্ভ করে উঠে আসেন ক্যাম্প-১ এবং পরদিন ক্যাম্প-২-এ। বাবর এক দিন পর রওনা দিয়ে সরাসরি উঠে আসেন ক্যাম্প-২-এ। ২৪ সেপ্টেম্বর দুজনেই ক্যাম্প-৩-এ রাত কাটিয়ে পরদিন দুপুর নাগাদ পৌঁছে যান ক্যাম্প-৪-এ (৭৪০০ মিটার)। বাকি বেলা বিশ্রাম করে রাত নামতেই শুরু হয় তাদের পরম আরাধ্য চূড়ার দিকে যাত্রা। আর ২৬ সেপ্টেম্বর ভোরেই তারা পৌঁছে যান পর্বত শীর্ষে। শিখরে এই দুজনের সঙ্গে গাইড হিসেবে ছিলেন বীরে তামাং এবং ফুর্বা অংডি শেরপা। তারা এখন চেষ্টা করবেন যত দ্রুত সম্ভব যতটা নিচে নেমে আসতে। নেটওয়ার্কের বাইরে থাকায় শিখরের ছবি পেতে কিছুটা সময় লাগবে বলে জানিয়েছে ক্লাব কর্তৃপক্ষ।

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের ৫১তম ব্যাচে ডাক্তারি পাস করা বাবর আলী চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলার নজুমিয়া হাটে বাড়ি। ২০২৪ সালে ষষ্ঠ বাংলাদেশি হিসেবে পৃথিবীর সর্বোচ্চ শিখর মাউন্ট এভারেস্ট জয় করেন তিনি। ‘ভিএফ এশিয়া বাংলাদেশ’-এর সহকারী ব্যবস্থাপক হিসেবে কর্মরত তানভীরের বাড়ি কিশোরগঞ্জ সদরে। 

আরও পড়ুন

×