শেডঘর না থাকায় খোলা স্থানে নষ্ট হচ্ছে যানবাহন
দেওয়ানগঞ্জের জিল বাংলা চিনিকল
শেডঘর না থাকায় খোলা জায়গায় পড়ে আছে জিল বাংলা চিনিকলের যানবাহন সমকাল
দেওয়ানগঞ্জ (জামালপুর) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫ | ০৭:৩৭ | আপডেট: ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫ | ০৭:৫৯
কোনো শেডঘর নেই। তাই খোলা স্থানেই ফেলে রাখা হয়েছে দেওয়ানগঞ্জের জিল বাংলা চিনিকলের যানবাহন। দীর্ঘদিন পড়ে থাকায় মরিচা ধরেছে।
এই চিনিকলের আওতায় ৫৯টি ইউনিট রয়েছে। মিলগেট বাদে নিজস্ব আখ ক্রয় কেন্দ্র রয়েছে ২৬টি। এসব কেন্দ্রের আখ চিনিকলে পরিবহনের জন্য ট্রলি, ট্রাক্টর ও ট্রাক ব্যবহার হয়। প্রতিবছর হেমন্তের শেষ থেকে শীতকাল দুই থেকে তিন মাস মিলটিতে আখ মাড়াই হয়। সেসময় যানবাহনগুলো ব্যবহার হয়। বছরের ৮-৯ মাস যানবাহনগুলো কোনো কাজে আসে না। শেডঘর না থাকায় যানবাহনগুলো পড়ে থাকে খোলা স্থানে। দীর্ঘদিন বাইরে পড়ে থাকায় বৃষ্টিবাদল ও ধুলাবালুতে মরিচা ধরে ক্রমেই নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।
জিল বাংলা চিনিকলের পরিবহন প্রকৌশল শাখার তথ্যমতে, এই চিনিকলে চারটি ট্রাক, ৩৫টি ট্রাক্টর এবং ১৯০টি ট্রলি রয়েছে। যার মূল্য কোটি টাকার ওপরে। তার মধ্যে ট্রাক চারটি এবং কয়েকটি ট্রাক্টর রাখার জন্য শেড রয়েছে। বাকি ট্রাক্টর ও ট্রলি পড়ে রয়েছে খোলা জায়গায়।
সরেজমিন দেখা যায়, চিনিকলের পূর্ব-উত্তর পাশ ঘেঁষে ট্রলি এবং গ্যারেজের সামনে ট্রাক্টর পড়ে আছে। উপরে ছাউনি নেই। বেশির ভাগ ট্রলি ও ট্রাক্টরে মরিচা ধরেছে। মাঝে মধ্যে আগাছা জন্মেছে। দেখে বোঝা যায়, দীর্ঘদিন ব্যবহৃত হয়নি যানবাহনগুলো। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, এত ট্রলি রাখার মতো পর্যাপ্ত জায়গা মিলের নেই। তবে পরিবহনগুলো খোলা জায়গায় থাকলেও নিরাপদে রয়েছে। পরিবহন প্রকৌশল শাখার দাবি, নিয়মিত ট্রলি ও ট্রাক্টরের যত্ন নেওয়া হচ্ছে। মৌসুম ছাড়াও অনেক যানবাহন ব্যবহৃত হচ্ছে। সে কারণে ক্ষতির সম্ভবনা কমছে।
সচেতন নাগরিক মহসিন রেজা বলেন, আখ ক্রয় কেন্দ্রগুলো থেকে আখ মিলে নেওয়ার জন্য নিজস্ব কিছু যানবাহন রয়েছে। যানবাহনগুলো বছরের তিন থেকে চার মাস ব্যবহার হয়। বাকি সময় খোলা জায়গায় পড়ে থাকে। বাইরে থাকার ফলে যানবাহনগুলোতে মরিচা ধরছে। ক্রমেই এর স্থায়িত্ব কমে যাচ্ছে। চিনিকল বন্ধের সময়ে যানবাহনগুলো রাখার জন্য স্থায়ী শেড প্রয়োজন। তাহলে যানবাহনগুলো নিরাপদ থাকবে, নষ্ট হবে না।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারী জানান, জিল বাংলা চিনিকলের আওতায় ২৬টি আখ ক্রয় কেন্দ্র রয়েছে। তারা শুরু থেকেই দেখছেন, মিলগেট বাদে বাইরের কেন্দ্রগুলো থেকে ক্রয় করা আখ মিলে আনার জন্য নিজস্ব যানবাহন ব্যবহার করা হচ্ছে। এটি মিল ও চাষি– উভয়ের জন্যই ভালো। তা না হলে দূরের চাষিরা মিলে আখ সরবরাহ করবে না। বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প করপোরেশন কর্তৃপক্ষ ইচ্ছে করলে যানবাহনগুলো নিরাপদে রাখতে শেড নির্মাণের উদ্যোগ নিতে পারে। শেডে যানবাহন রাখলে মরিচা পড়বে না, নষ্ট হবে না। তাই কোটি টাকার যানবাহন নিরাপদে রাখার জন্য মিলটিতে দ্রুত শেড নির্মাণ দরকার।
পরিবহন প্রকৌশল শাখার ব্যবস্থাপক লিটন চন্দ্র দেবনাথ বলেন, ‘যানবাহনগুলো খোলা জায়গায় থাকলেও নিয়মিত তদারকি চলছে। যানবাহনগুলো রাখার মতো আমাদের কোনো শেডঘর নেই। এতগুলো ট্রলি ও ট্রাক্টর রাখার মতো স্থানও মিলের নেই। তবে শেডঘর হলে ভালো হতো।’
মিলটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক আমিনুল ইসলামের ভাষ্য, শেডঘর করার মতো চিনিকলের পর্যাপ্ত জায়গা নেই। এভাবেই সব মিলের যানবাহন রাখা হয়।
- বিষয় :
- চিনিকল
