খোঁজ মেলেনি চন্দ্রপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের, মিলল তাম্রলিপি স্থলের সন্ধান
পাঁচগাঁওয়ের কমলা রাণীর দীঘি- সমকাল
মৌলভীবাজার ও কুলাউড়া প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৭ জুলাই ২০২০ | ১২:০৬ | আপডেট: ২৭ জুলাই ২০২০ | ১২:০৮
মৌলভীবাজারের প্রাচীন চন্দ্রপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থান অনুসন্ধানে তিন দিনের কার্যক্রম শেষ হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থান সম্পর্কে নিশ্চিত হতে পারেনি প্রত্নতত্ত্ব প্রতিনিধি দল। তবে রাজনগরে উদ্ধারকৃত পশ্চিমভাগ তাম্রলিপি উদঘাটন স্থলের সন্ধান পেয়েছেন তারা।
তিন দিনব্যাপী অনুসন্ধানের শেষ দিন সোমবারে রাজনগরের পশ্চিমভাগ গ্রামের পরেশ পালের বাড়ি থেকে তাম্রলিপি উদ্ধারের বিষয়টি প্রাথমিক ভাবে নিশ্চিত হয়েছে প্রতিনিধি দল। অন্যদিকে পাঁচগাঁওয়ের কমলা রাণীর দীঘির হাজার বছরের পুরানো ঘাটের সন্ধান ও ইট উদ্ধার এবং বেশ কিছু সমাধির সন্ধান পেয়েছেন তারা।
জানা যায়, মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলার উত্তর সাগরনাল গ্রামে প্রাচীন চন্দ্রপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থান রয়েছে। বিভিন্ন গণমাধ্যমে এ ধরণের সংবাদ প্রকাশিত হয়। এরপর সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের চিঠির ভিত্তিতে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম ও সিলেট অঞ্চলের প্রতিনিধি দল গত ২৫ জুলাই জেলার ভাটেরাটিলা, জুড়ীর সাগরনাল এবং রাজনগরের পশ্চিমভাগ গ্রামে অনুসন্ধান ও সার্ভে করে। অনুসন্ধানী টিম প্রাচীন চন্দ্রপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থান সাগরনাল কিংবা জেলার অন্য কোথাও নিশ্চিত হতে পারেনি।
তবে কুলাউড়ার কলিমাবাদ গ্রামের ভাটেরা টিলা ও রাজনগর উপজেলার পশ্চিমভাগ গ্রামে আদি ঐতিহাসিক নির্দশন রয়েছে বলে প্রাথমিক অনুসন্ধানে নিশ্চিত হয়েছেন প্রতিনিধি দলের সদস্যরা। এ সময় প্রতিনিধি দলের সদস্যরা ভাটেরাটিলা এবং পশ্চিমভাগ গ্রাম থেকে মাটির পাতিলের কিছু পুরানো ভাঙ্গা অংশ সংগ্রহ করেছেন। কুলাউড়ার ভাটেরাটিলা এবং রাজনগরের খনন কার্যক্রম পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক নির্দশন পাওয়া যেতে পারে বলে প্রতিনিধি দলের প্রধান ড. আতাউর রহমান আশা প্রকাশ করেছেন। তিনি আরও আশা প্রকাশ করেন, আগামী শুস্ক মৌসুমে সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতিক্রমে এ দু’টি স্থানে খনন কার্যক্রম চালানো হবে।
রাজনগরের পশ্চিমভাগ গ্রামের অশীতিপর বৃদ্ধ পরেশ পাল অস্পষ্ট কণ্ঠে জানান, ৬০’র দশকের প্রথম দিকে পুকুর খননের সময় সংস্কৃত ভাষায় লেখা পশ্চিমভাগ শিলালিপিটি উদ্ধার করা হয়। পরবর্তীতে সিলেট থেকে প্রকাশিত যুগভেরী পত্রিকার সম্পাদক আমিনূর রশীদ চৌধুরী (মরহুম) শিলালিপিটি সেখান থেকে সংগ্রহ করে তৎকালীন জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ে পাঠান। এরপর শিলালিপিটি জাতীয় জাদুঘরে রাখা হয়।
এ দিকে রাজনগর সদর ইউনিয়নের গড়গাঁও গ্রামে কুতুব শাহ (র.) এর মাজারের পাশে রাজা সুবিদ নারায়ণ চৌধুরীর খনন করা কমলা রাণীর দীঘির পুরানো ঘাটের কিছু অংশ ইটের সন্ধান পেয়েছে। অন্যদিকে ওই দীঘির পশ্চিম ও দক্ষিণপাড়ে একাধিক কবর রয়েছে। তার মধ্যে বিশেষ শৌকর্যপূর্ণ দু’টি কবরের সন্ধান পেয়েছেন অনুসন্ধানী দলের সদস্যরা। এ কবর দু’টি রাজ পরিবারের কতিপয় সদস্যদের সমাধিস্থল হতে পারে বলে প্রতিনিধি দলের সদস্যরা ধারণা করছেন। কমলা রাণীর দীঘিটি দেড়শতাধিক বিঘা ভূমির ওপর প্রতিষ্ঠিত রয়েছে। এই দীঘির আদি নিদর্শন আবিস্কার করে একটি পর্যটন স্পট এবং রাজপরিবারের অতীত ঐতিহ্য সংরক্ষণে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।
রাজনগরের গড়গাঁও গ্রামের ফজলুল হক নীরু জানান, কমলা রাণীর দীঘি কেন্দ্রিক অনেক ঐতিহাসিক শ্রুতি চালু রয়েছে। রাজা সুবিদ নারায়ণ চৌধুরীর স্মৃতি বিজরিত কমলা রাণীর দীঘিটি আজও কালের স্বাক্ষী হিসেবে রয়েছে। দীঘির চারি পাশের পাড়ে খনন কার্যক্রম চালানো হলে আরও অনেক ঐতিহাসিক নিদর্শন বেরিয়ে আসবে।
প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর চট্টগ্রাম ও সিলেটের আঞ্চলিক পরিচালক ড. আতাউর রহমান সমকালকে বলেন, সংগ্রহ করা বিভিন্ন আলামতে অনুমান করা যাচ্ছে- কুলাউড়ার ভাটেরাটিলা এবং রাজনগরের পশ্চিমভাগ গ্রামে অনেক ঐতিহাসিক নিদর্শন থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। তিনি আরও জানান, কাঙ্খিত প্রাচীন চন্দ্রপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের কোন সন্ধান পাওয়া যায়নি।
পাঁচ সদস্য বিশিষ্ট প্রতিনিধি দলে আরও ছিলেন প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের ফিল্ড অফিসার শাহীন আলম, সহকারী কাস্টোডিয়ান হাফিজুর রহমান, গবেষণা সহকারী ওমর ফারুক ও সার্ভেয়ার চাইথোয়াই মার্মা। প্রতিনিধি দল গত ২৫ জুলাই থেকে ২৭ জুলাই পর্যন্ত মৌলভীবাজারের জুড়ী সীমান্তবর্তী উত্তর সাগরনাল, কুলাউড়ার ভাটেরাটিলা ও রাজনগর উপজেলার গড়গাঁও এবং পশ্চিমভাগ গ্রামে অনুসন্ধান সার্ভে পরিচালনা করেন।