ঢাকা মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬

সুদের টাকা না পেয়ে বাড়িঘর খুলে নিলেন খতিব ও তাঁর স্ত্রী

সুদের টাকা না পেয়ে বাড়িঘর  খুলে নিলেন খতিব ও তাঁর স্ত্রী
×

নালিতাবাড়ীতে সুদের টাকা না পেয়ে বাড়িঘর ভেঙে নিলেন মসজিদের খতিব ও তার স্ত্রী সমকাল

নালিতাবাড়ী (শেরপুর) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১১ অক্টোবর ২০২৫ | ০৭:২০

| প্রিন্ট সংস্করণ

সুদে ধার নেওয়া পুরো টাকা সময়মতো পরিশোধ করতে পারেননি গৃহবধূ রিতা বেগম। ঋণের চাপে বাধ্য হয়ে বাড়িঘর ফেলে চলে যান ঢাকায়। এদিকে ফাঁকা বাড়ি পেয়ে পাওনাদার সুফিয়া বেগম লোকজন নিয়ে রিতা বেগমের বাড়িঘর ভেঙে ঘরে ব্যবহৃত সবকিছু নিয়ে গেছেন। খবর পেয়ে গৃহবধূ রিতা বেগম জাতীয় জরুরি সেবার ৯৯৯ নম্বরে ফোন করেন এবং থানায় অভিযোগ করেন। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশ দাদন ব্যবসায়ী সুফিয়া বেগমসহ ৪ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। গতকাল শুক্রবার দুপুরে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের আদালতে হাজির করলে জেলহাজতে পাঠানো হয়।

এর আগে বুধবার শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার যোগানিয়া ইউনিয়নের জামিরাকান্দা রাবারড্যাম রোড এলাকায় এই বাড়ি ভাঙার ঘটনা ঘটে। দাদন ব্যবসায়ী সুফিয়া বেগম ওই গ্রামের আমানুল্লাহ মুন্সীর স্ত্রী। আমানুল্লাহ একই উপজেলার পাঁচগাঁও গ্রামের একটি মসজিদের খতিবের দায়িত্ব পালন করছেন। গ্রেপ্তার অন্যরা হলেন– জামিরাকান্দা গ্রামের খাদিজা বেগম, বাবুল মিয়া ও নয়ন মিয়া।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী গৃহবধূ রিতা বেগম প্রতিবেশী আমানুল্লাহ মুন্সির 

স্ত্রীর কাছ থেকে মাসিক ১০ টাকা হারে সুদে এক লাখ টাকা ঋণ নেন। ঋণ নেওয়ার পর নিয়মিত সুদের টাকা পরিশোধের পাশাপাশি আসল থেকে ৫০ হাজার টাকা পরিশোধ করেন। এরপরও দাদন ব্যবসায়ী সুফিয়া বেগম ভুক্তভোগী রিতা বেগমের কাছে প্রতি মাসে ১০ হাজার টাকা সুদ দাবি করছিলেন।

এদিকে ঋণগ্রস্ত রিতা বেগম টাকা জোগাড় করতে ঢাকায় থাকা স্বামী-সন্তানের কাছে গেলে সুযোগ বুঝে আমানুল্লাহ মুন্সি, তাঁর স্ত্রী সুফিয়া এবং অপর সহযোগীরা রিতার বাড়িঘর ভেঙে নিয়ে 
যায়। এ সময় তারা শ্রমিক ভাড়া করে ঘরের টিন, কাঠ, খুঁটি, নলকূপ এমনকি রান্নাঘর পর্যন্ত খুলে নিয়ে যায়। খবর পেয়ে রিতা বেগম জাতীয় জরুরি সেবার ৯৯৯ নম্বরে ফোন করলে পুলিশ ঘটনাস্থলে ছুটে আসে।
বাড়িঘর হারিয়ে নিঃস্ব রিতা বেগম এখন মানবেতর জীবনযাপন করছেন। এ ঘটনায় দাদন ব্যবসায়ী আমানুল্লাহ মুন্সী ও তাঁর স্ত্রী সুফিয়া বেগমের কঠোর শাস্তি দাবি করেছেন এলাকাবাসী।
নালিতাবাড়ী থানার ওসি সোহেল রানা বলেন, এ ঘটনায় মামলা দায়ের করে তাৎক্ষণিক ৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

আরও পড়ুন

×