ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

পাউবোর জমিতে স্থাপনা তুলছেন প্রভাবশালীরা

পাউবোর জমিতে স্থাপনা তুলছেন প্রভাবশালীরা
×

পাউবোর জমিতে গড়ে তোলা হচ্ছে স্থাপনা

বরিশাল ব্যুরো

প্রকাশ: ১৪ অক্টোবর ২০২৫ | ০৮:২২ | আপডেট: ১৪ অক্টোবর ২০২৫ | ১২:৫১

| প্রিন্ট সংস্করণ

বরিশালের উজিরপুরে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) কোটি টাকার জমি দখলে নিয়েছে স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তিরা। উপজেলার হারতা ইউনিয়নের জামবাড়ি বাজার থেকে হারতা বাজার পর্যন্ত এলাকাজুড়ে চলছে এই দখলবাজি। ইতোমধ্যে বেশির ভাগ জমিরই দখল স্বত্ব বিক্রি হয়ে গেছে। পাউবো কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দখলদারদের নামে রেকর্ড বাতিলে তারা মামলা করেছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ১৯৮৬ সালে বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচ প্রকল্প বাস্তবায়নে হারতা মৌজায় ১৬ দশমিক ৮৫ একর জমি অধিগ্রহণ করে পাউবো। ১৯৮৮ সালে সেখানে মাটি ভরাট করে বেড়িবাঁধ নির্মিত হয়। এটি সাতলা-বাগধা সেচ প্রকল্প নামে পরিচিত। আওয়ামী লীগের বিগত শাসনামলে ওই জমির দখল শুরু করেন দলটির নেতারা। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর তাদের জায়গা নেন বিএনপির স্থানীয় কিছু নেতা।

এলাকাবাসী জানান, দখল করা জমিতে সম্প্রতি বহুতল ভবন নির্মাণ শুরু করেন ইউনিয়ন বিএনপির সহসভাপতি আজিজুল সরদার। তিনি ইতালি থাকেন। তাঁর স্বজনেরা ক্রয়সূত্রে জমির মালিকানা দাবি করছেন। ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতিসহ আরও কয়েকজন দোকান তৈরি করেছেন। 

স্থানীয় সূত্রে আজিজুল সরদারের দখল করা জমির পরিমাণ ২৭ শতাংশ বলে জানা গেছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক ব্যক্তি জানান, দলীয় প্রভাব খাটিয়ে ভবন নির্মাণের বিষয়টি এলাকাবাসী পাউবোকে একাধিকবার জানিয়েছেন। কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে গিয়েও পদক্ষেপ নেননি।

হারতা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ফিরোজ হাওলাদার ৫ আগস্টের পর পাউবোর জমিতে দোকানঘর তুলেছেন ৭টি। এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে চাইলে ব্যস্ততার ছুতা দেখান ফিরোজ। একটি ওয়ার্ড বিএনপি সাধারণ সম্পাদক অহিদ হোসেন দোতলা ভবন নির্মাণ করেছেন। সেখানে ভাই ভাই হোটেল নামে একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান চলছে। অহিদ হোসেনও মন্তব্য করতে চাননি। 

সরেজমিন হারতা বাজারের উত্তর ও দক্ষিণপাড়, সন্ধ্যা নদীর শাখা খালের পাশের বেশির ভাগ জায়গা, বাজারের চান্দিনা ভিটি (খাসজমি) ও পাউবোর জমিতে বসতবাড়ি, দোকানঘরসহ বিভিন্ন স্থাপনা দেখা গেছে। অনেকে বালু-মাটি দিয়ে ভরাট করে বহুতল পাকা ভবনও করেছেন। এক বছর আগেও জামবাড়ি বাজার থেকে হারতা বাজার পর্যন্ত সড়কের দুই পাশ ছিল ফাঁকা। এখন সেখানে ঘরবাড়ি, পাকা স্থাপনা। সাইনবোর্ড টানিয়ে যে যার মতো করে দখল করছেন। 

পাউবোর জমিতে স্থাপনা নির্মাণের বিষয়ে জানতে ইতালি প্রবাসী আজিজুল সরদারের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল দিলেও তিনি ধরেননি। আজিজুলের ভাতিজা আসাদ সরদারের দাবি, তাঁর চাচা ২৭ শতাংশ সম্পত্তি ৩৮ লাখ টাকায় কিনেছেন। পাউবোর জমি কেনা যায় কি–না, এমন প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।

উজিরপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মহেশ্বর মণ্ডলের ভাষ্য, তারা হারতা বাজারের চান্দিনা ভিটির তালিকা সংগ্রহ করছেন। অবৈধ দখলদারের চিহ্নিত করা শেষ হলেই উচ্ছেদে অভিযান চালাবেন। 
বরিশাল জেলা পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জাবেদ ইকবালও বলেন, হারতা সেচ প্রকল্পের জন্য পাউবো ১৬ দশমিক ৮৫ একর জমি অধিগ্রহণ করেছিলো। এর মধ্যে ১৪ দশমিক ৮৫ একর ব্যক্তি মালিকানাধীন হিসেবে রেকর্ড করিয়ে নিয়েছে দখলদাররা। এখন পাউবোর নামে রেকর্ড আছে ২ একর জমি। দখলদারদের রেকর্ড বাতিলের জন্য জোনাল সেটেলমেন্টে পাউবোর পক্ষ থেকে মামলা হয়েছে। তাঁর ভাষ্য, বাঁধের জমিতে অবৈধ স্থাপনার তালিকা হচ্ছে। শিগগিরই উচ্ছেদ প্রক্রিয়া শুরু হবে। 

আরও পড়ুন

×