সাঙ্গ হলো সাধুসঙ্গ, আজ ভাঙছে মিলনমেলা
লালন সাঁইয়ের তিরোধান দিবস উপলক্ষে গতকাল শনিবার রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে লালন উৎসব ও মেলা সমকাল
সমকাল প্রতিবেদক ও কুমারখালী (কুষ্টিয়া) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৯ অক্টোবর ২০২৫ | ০৭:৪০ | আপডেট: ১৯ অক্টোবর ২০২৫ | ০৭:৪৩
| প্রিন্ট সংস্করণ
ফকির লালন সাঁইয়ের ১৩৬তম তিরোধান দিবস উপলক্ষে কুষ্টিয়ার কুমারখালীর ছেঁউড়িয়ায় আয়োজিত তিন দিনের লালন স্মরণোৎসব আজ রোববার শেষ হচ্ছে। গত দুদিন লালন ভক্ত, অনুসারী বাউল-ফকিরদের গান, সাধুসঙ্গ, ভাব আলোচনাসহ নানা কর্মকাণ্ডে মুখর ছিল আখড়াবাড়ি প্রাঙ্গণ। আজ ভাঙবে সেই মিলনমেলা।
গতকাল শনিবার সকালে বাল্যসেবায় দই ও চিড়া নাশতা দেওয়া হয় বাউলদের। দুপুরে পুণ্যসেবায় ভাত, ডাল, সবজি ও ইলিশ খান তারা। এর পর লালন মতে দীক্ষিতদের শিষ্যত্ব দেন তাদের নিজ নিজ গুরুরা। এসব লৌকিক রীতির মধ্য দিয়ে শেষ হয় লালন শাহের তিরোধান দিবসে বাউল ও ভক্তদের মূল অনুষ্ঠান সাধুসঙ্গ। এর আগে গত শুক্রবার চিরাচরিত গুরুবাদী ধর্মের নিয়মে সূর্য ডোবার পরপরই অধিবাসের মাধ্যমে শুরু হয় বাউল ফকিরদের অষ্টপ্রহরের গুরুকার্য।
সাধুসঙ্গ সাঙ্গ হলেও সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আয়োজনে তিন দিনের আলোচনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান শেষ হবে আজ মধ্যরাতে। তবে স্মরণোৎসবকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া গ্রামীণ মেলা চলবে আরও কয়েকদিন। সরেজমিন দেখা যায়, পুরো আখড়াবাড়িতে যেন তিল ধারণের ঠাঁই নেই। ধর্মবর্ণ নির্বিশেষে সাধু, বাউল, লালনভক্ত আর অনুসারীদের গান, আলোচনা আর ভাব বিনিময়ে মুখর ছিল আখড়াবাড়ি প্রাঙ্গণ। সাধুসঙ্গ শেষে কেউ কেউ আবার ফিরছেন আপন ঠিকানায়।
গতকাল দুপুরে লালন একাডেমির প্রবেশপথ, লালন সাঁইর মাজার প্রাঙ্গণ, আখড়াবাড়ি, মেলার মাঠ হয়ে ওঠে লোকে লোকারণ্য। আখড়াবাড়ির ভেতরে হাজার হাজার বাউল ও লালন অনুসারী সাদা কাপড় পরিহিত ছিলেন। অন্য পোশাকেও ছিলেন অনেকে। দুপুরে তাদের আয়োজকদের পক্ষ থেকে পুণ্যসেবার ভাত, ডাল, সবজি ও ইলিশ খেতে দেওয়া হয়। রীতি অনুযায়ী সাধু-গুরুরা সবাই একসঙ্গে দুপুরের খাবার গ্রহণ করেন।
সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে লালন উৎসব
লালন সাঁইয়ের তিরোধান দিবস উপলক্ষে সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আয়োজনে এবং বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির ব্যবস্থাপনায় গতকাল রাজধানীতে প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত হলো জাতীয় পর্যায়ের লালন উৎসব ও লালন মেলা। এদিন তাঁর গানে গানে মুখর হয়ে ওঠে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান। এ আয়োজনে অংশ নেন লালন ভক্ত, বাউল সাধক ও সংগীতানুরাগীরা।
উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতি উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান, সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মফিদুর রহমান, শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক রেজাউদ্দিন স্টালিন, জাতীয় জাদুঘরের মহাপরিচালক তানজিম ইবনে ওয়াহাব প্রমুখ।
- বিষয় :
- মিলনমেলা
