ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

নীলফামারীর উত্তরা ইপিজেড

শ্রমিক অসন্তোষের জেরে চার কারখানা অনির্দিষ্টকাল বন্ধ

শ্রমিক অসন্তোষের জেরে চার কারখানা অনির্দিষ্টকাল বন্ধ
×

নীলফামারীর উত্তরা ইপিজেড। ছবি: সংগৃহীত

নীলফামারী ও গাজীপুর প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২৭ অক্টোবর ২০২৫ | ২১:২৮

শ্রমিক অসন্তোষের জেরে নীলফামারীর উত্তরা রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চলের (ইপিজেড) চারটি কারখানা অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ। সোমবার সকালে শ্রমিকরা কর্মস্থলে গিয়ে কারখানাগুলোর মূল ফটকের সামনে বন্ধের নোটিশ ঝুলতে দেখতে পান। এতে লেখা ছিল, পরিস্থিতি অনুকূলে না আসা পর্যন্ত কারখানা বন্ধ থাকবে। এর পরেই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে পরিস্থিতি। ইপিজেডের সামনেই অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন শ্রমিকরা। এক পর্যায়ে পুলিশের সঙ্গে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনাও ঘটে।

বন্ধ হওয়া প্রতিষ্ঠানগুলো হলো– দেশবন্ধু টেক্সটাইল মিলস লিমিটেড, সেকশন সেভেন ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড, ইপিএফ প্রিন্ট লিমিটেড ও মেইগো বাংলাদেশ লিমিটেড। 

পুলিশ জানায়, সকালে কারখানার ফটকে নোটিশ দেখে প্রথমে ইপিজেডের ভেতরে শ্রমিকেরা বিক্ষোভ করেন। এ সময় ইপিজেডের নিরাপত্তাকর্মীরা শ্রমিকদের বুঝিয়ে বাইরে বের করে দেন। বাইরে এসে ইপিজেডের মূল ফটকের সামনে বিক্ষোভ শুরু করেন তারা। পুলিশ এসে শ্রমিকদের সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। একপর্যায়ে পুলিশের সঙ্গে বিক্ষুব্ধ শ্রমিকদের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। পরে সেখানে সেনাসদস্যরা এসে শ্রমিকদের ছত্রভঙ্গ করে দেন। বর্তমানে ইপিজেড এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

বেতন-বোনাস বৃদ্ধি, বিনা নোটিশে অব্যাহতি দেওয়া যাবে না-সহ বিভিন্ন দাবিতে এক মাসের বেশি সময় ধরে আন্দোলন করছেন উত্তরা ইপিজেডের বিভিন্ন কারখানার শ্রমিকরা। গত ২ সেপ্টেম্বর কারখানা বন্ধ ও ছাঁটাইয়ের জেরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সংঘর্ষে এক শ্রমিকও নিহত হন। 

আজ বন্ধ ঘোষণা করা চারটি কারখানার গেটেই বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত শনি ও রোববার কিছু শ্রমিক কাজে যোগ না দিয়ে প্রধান ফটকের সামনে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেন। তারা অন্য শ্রমিকদেরও কাজে বাধা দিয়ে বেআইনিভাবে উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ রাখেন। এতে কারখানার স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হয়। কর্তৃপক্ষ শ্রমিকদের কাজে যোগ দিতে এবং যে কোনো দাবি আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের আহ্বান জানিয়েছিল। কিন্তু তারা নির্দেশ অমান্য করে কাজ বন্ধ রাখেন। এতে দুদিন ধরে উৎপাদন কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়ে। পরে অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি হলে নতুন নোটিশের মাধ্যমে পুনরায় কারখানা খোলার তারিখ জানানো হবে। তবে কারখানাগুলোর নিরাপত্তা শাখা ও জরুরি রক্ষণাবেক্ষণ কাজে নিয়োজিত কর্মীদের জন্য এ সিদ্ধান্ত প্রযোজ্য হবে না।

চার কারখানার কয়েকজন শ্রমিক জানান, কারখানা কর্তৃপক্ষ তাদের প্রাপ্য বেতন নিয়মিত পরিশোধ করে না। অসুস্থতার কারণে ছুটি চাইলে অশালীন আচরণ ও গালাগাল করা হয়। এ ছাড়া ওভারটাইম করলেও সেই পারিশ্রমিক দেওয়া হয় না। তাদের বিরুদ্ধে কথা বললে চাকরি থেকে বরখাস্তের হুমকিও দেওয়া হয়। 

নীলফামারী পুলিশ সুপার এএফএম তারিক হোসেন খান বলেন, ইপিজেডে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। যে কোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত রয়েছে পুলিশ।

এদিকে শ্রমিকদের তিন মাসের বকেয়া বেতন পরিশোধ না করেই গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলায় ডবল ইর্য়ান নিটস্পিন মিলসের একটি ইউনিট অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ। এতে হঠাৎ কর্মহীন হয়ে পড়েছেন অন্তত তিন হাজার শ্রমিক। তবে কারখানাটির আরও দুটি ইউনিট চালু আছে। কারখানার তিনটি ইউনিটে মোট ১০ হাজার শ্রমিক কর্মরত ছিলেন। 

এর আগে গত বৃহস্পতিবার পুলিশের সঙ্গে ধাওয়া পাল্টা-ধাওয়া এবং সংঘর্ষের পর সোমবার শ্রমিকদের বকেয়া পরিশোধের আশ্বাস দিয়েছিল ডাবল এ ইয়ার্ন নিটস্পিন মিলস। বেতনের জন্য গতকাল সকালে কারখানায় এসে শ্রমিকরা অনির্দিষ্টকাল বন্ধের নোটিশ দেখতে পান। এ সময় কারখানার মূল ফটকের সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন তারা। টানা পাঁচ ঘণ্টা বিক্ষোভ শেষে শ্রমিকরা আগামীকাল মঙ্গলবার আবারও আন্দোলনে নামার ঘোষণা দিয়ে ফিরে যান।

শিল্প পুলিশের পরিদর্শক আব্দুল লতিফ জানান, কারখানার নিরাপত্তায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। কারখানা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বকেয়া বেতন পরিশোধের ব্যাপারে আলোচনা হচ্ছে। আশা করছি শিগগিরই একটা সমাধান হবে। 

আরও পড়ুন

×