পতেঙ্গা সৈতক দখল করে ব্যবসা করলে কঠোর ব্যবস্থা: মেয়র শাহাদাত
ছবি: সমকাল
চট্টগ্রাম ব্যুরো
প্রকাশ: ০১ নভেম্বর ২০২৫ | ০৩:৪৪
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেছেন, ‘পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকত নগরের অমূল্য সম্পদ। বারবার সতর্ক করার পরও যারা সৈকত দখল করে অবৈধভাবে ব্যবসা পরিচালনা করছেন, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ শুক্রবার বিকেলে পতেঙ্গা সী-বিচ এলাকায় সিটি করপোরেশনের উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনার পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
মেয়র বলেন, ‘পতেঙ্গা দেশের ও আন্তর্জাতিক পর্যটকদের কাছে প্রধান আকর্ষণ। এই সৈকতকে সুশৃঙ্খল, পরিচ্ছন্ন ও নিরাপদ রাখা আমাদের সবার দায়িত্ব। কেউ ওয়াকওয়ে বা জনসাধারণের পথ দখল করে টেবিল-ছাতা বসিয়ে ব্যবসা চালাতে পারবে না।’
পর্যটকদের জোর করে খাবার খাওয়ানো বা অতিরিক্ত বিল আদায়ের অভিযোগ পাওয়া গেছে জানিয়ে মেয়র বলেন, ‘এ ধরনের আচরণ শুধু পর্যটকদের বিরক্তই করে না, চট্টগ্রামের ভাবমূর্তিকেও ক্ষুণ্ন করে। এসব বিষয়ে আমরা ব্যবস্থা নেবো।’
ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, ‘সৈকতের পেছনের অংশে খাবারের দোকান ও রেস্টুরেন্ট রয়েছে। সেখানে পর্যাপ্ত সুযোগ থাকা সত্ত্বেও মূল সৈকতে স্থায়ী দোকান বা বসতি গড়ে তোলা জনস্বার্থের পরিপন্থী। বারবার কথা বলে দোকানদারদের সম্মত করা হয়েছিল সৈকত উন্মুক্ত রাখার বিষয়ে। এরপরও যারা নিয়ম ভঙ্গ করছে, তাদের বিরুদ্ধে আইনগত প্রক্রিয়া শুরু হবে।’ জেলা প্রশাসন, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ), ট্যুরিস্ট পুলিশসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সমন্বয়ে এ অভিযান নিয়মিতভাবে চলবে বলে জানান তিনি।
অভিযানের আগে মেয়র জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি) বাংলাদেশ ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিকবিরোধী সচেতনতামূলক কর্মসূচিতে অংশ নেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মেয়র বলেন, ‘পতেঙ্গা আমাদের অন্যতম জনপ্রিয় উপকূলীয় গন্তব্য। কিন্তু প্লাস্টিক দূষণ এর প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও জীববৈচিত্র্যের জন্য বড় হুমকি। আমাদের প্রত্যেক দর্শনার্থী ও নাগরিকের দায়িত্ব সৈকত পরিচ্ছন্ন রাখা ও সমুদ্রকে সুস্থ রাখা।’
ইউএনডিপি বাংলাদেশের সহকারী রেসিডেন্ট রিপ্রেজেন্টেটিভ সরদার এম. আসাদুজ্জামান বলেন, ‘পতেঙ্গা শুধু একটি সৈকত নয়, এটি চট্টগ্রামের গর্বের প্রতীক। প্রতিদিন এখানে জমা হওয়া প্লাস্টিক বর্জ্য সামুদ্রিক প্রাণী, জনস্বাস্থ্য ও জীবিকার জন্য হুমকি হয়ে উঠছে। সবাইকে মিলে এ সংকট মোকাবিলা করতে হবে।’
দিনব্যাপী কর্মসূচিতে তরুণ স্বেচ্ছাসেবীরা সৈকত পরিষ্কার কার্যক্রম পরিচালনা করে, ডাস্টবিন ও সচেতনতামূলক সাইনবোর্ড স্থাপন করে এবং দর্শনার্থীদের প্লাস্টিক ব্যবহারে নিরুৎসাহিত করে। ইউএনডিপির ‘প্লাস্টিক সার্কুলারিটি প্রজেক্ট’-এর অংশ হিসেবে আয়োজিত এ উদ্যোগ দ্য কোকা-কোলা ফাউন্ডেশনের সহায়তায় বাস্তবায়িত হচ্ছে। প্রকল্পটির লক্ষ্য চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও টাঙ্গাইল জেলায় ১৫ হাজার টন প্লাস্টিক বর্জ্য পুনরুদ্ধার ও পুনর্ব্যবহারযোগ্য সম্পদে রূপান্তর করা।
