পানির ব্যবস্থা না থাকায় অব্যবহৃত পড়ে আছে তিন পাবলিক টয়লেট
মির্জাপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০১ নভেম্বর ২০২৫ | ০৭:৩২
| প্রিন্ট সংস্করণ
ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের পাশে মির্জাপুর উপজেলার তিনটি স্থানে নির্মিত পাবলিক টয়লেট নির্মাণের পর থেকেই অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে আছে। মহাসড়কের পাকুল্যা, গোড়াই ও বানিজ মার্কেট এলাকায় পাবলিক টয়লেট তিনটি দক্ষিণ এশীয় উপআঞ্চলিক অর্থনৈতিক সহযোগিতা (সাসেক) প্রকল্পের আওতায় নির্মাণ করা হয়। যাতে পানির সুবিধার জন্য সাবমার্সিবল পাম্প ও পানির ট্যাংক স্থাপনের দিনই খুলে নিয়ে গেছেন ঠিকাদারের লোকজন।
মির্জাপুর সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের (সওজ) তথ্যমতে, সাসেক প্রকল্পের আওতায় ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক চার লেনে উন্নীত করার পর ২০২২ সালের জুন মাসে বুঝিয়ে দেওয়া হয়। যার কাজ করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মীর আক্তার হোসেন লিমিটেড ও আব্দুল মোমেন লিমিটেড। সড়ক বুঝিয়ে দেওয়ার পরপরই ওই তিনটি পাবলিক টয়লেট নির্মাণ করা হয়।
সরেজমিন দেখা গেছে, পাকুল্যা বাসস্ট্যান্ডের উত্তর দিকে রাস্তার পশ্চিম পাশে অবস্থিত টয়লেটের এক পাশে দোকানের জন্য শাটার লাগানো। অপর পাশে বাথরুম। যার দরজা না থাকলেও অন্য সবকিছু আছে। তবে সেখানকার পরিবেশ খুবই নোংরা; নেই পানির ব্যবস্থা।
স্থানীয় ব্যবসায়ী লিয়াকত হোসেন জানান, তিন বছর আগে টয়লেট নির্মাণ করেছে। দুঃখের বিষয়, ঠিকাদার পানির জন্য একটি সাবমার্সিবল পাম্প আর ছাদে ১ হাজার লিটার পানির ট্যাংক বসিয়েছিলেন, কিন্তু একটি ছবি তোলার পর একই দিন বিকেলে সেগুলো খুলে নিয়ে গেছেন। তিনি বলেন, ‘আমরা বললাম এগুলো নেন কেন? যারা খুলে নিল তারা বললেন পরদিন লাগিয়ে দেবেন। হেই পরদিন আর আসল না।’
গোড়াই আন্ডার পাসের দক্ষিণ পাশের পশ্চিম দিকে নির্মিত টয়লেটেরও একই অবস্থা; যা নোংরা পরিবেশ আর জঙ্গলে পরিপূর্ণ। এক পাশে দোকানের জন্য শাটার রয়েছে। স্থানীয় দোকানদার ফরহাদ মিয়া জানান, তিন বছরের বেশি সময় আগে নির্মিত এই স্থাপনাটিতে কখনও পানির ট্যাংক লাগানো হয়নি।
মির্জাপুরের গোড়াই শিল্পাঞ্চলের বানিজ মার্কেট এলাকার টয়লেটটিও অন্য দুটির আদলে করা। প্রায় তিন বছর আগে নির্মাণ কাজ শেষ হলে সেখানে উপজেলা যুবলীগের সাবেক সদস্য ছানোয়ার ভূঁইয়া একটি সেলুন ও একটি মুদি দোকানের জন্য ভাড়া দেন। তার পক্ষে ফেরদৌস নামে এক ব্যক্তি ভাড়া তুলতেন। ফেরদৌস জানান, তিনি ভাড়া তুলে হাবিবুর ইসলাম নামে সড়ক বিভাগের এক কর্মীকে বিকাশে টাকা পাঠাতেন। সেখানে এখনও টয়লেট চালু হয়নি, যা এখন ময়লা-আবর্জনাযুক্ত।
স্থানীয় এক ব্যবসায়ী বলেন, ঠিকাদারের লোকজন টয়লেট ভাড়া দিয়ে টাকা পেতেন। এজন্য কিছুদিন পানির ট্যাংক আর পাম্প রাখছিলেন। তবে ট্যাংক না নিলেও স্থাপনের এক মাস পরই পাম্প খুলে নেন।
হাবিবুর ইসলাম জানান, তিনি লোকজন নিয়ে আবুল মনসুর নামে এক ঠিকাদারের হয়ে কাজ করেছেন। তিনি ঠিকাদারকে টয়লেট নির্মাণ করে সেখানে পাম্প ও ট্যাংক বসিয়ে বুঝিয়ে দিয়েছিলেন। সেগুলো কোথায়, জানেন না তারা।
মির্জাপুর সড়ক ও জনপথ বিভাগের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী সাইফুল ইসলামের ভাষ্য, পাবলিক টয়লেটগুলো সওজের আওতায় রয়েছে। প্রকল্প থেকে এগুলো নির্মাণের পর রক্ষণাবেক্ষণ ও জনবল সংক্রান্ত সুনির্দিষ্ট নীতিমালা দেননি তারা। এগুলো পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় সংস্কার শেষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
- বিষয় :
- পাবলিক টয়লেট
