ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

ফসলে অনিয়ন্ত্রিত কীটনাশক, স্বাস্থ্যঝুঁকি

ফসলে অনিয়ন্ত্রিত কীটনাশক, স্বাস্থ্যঝুঁকি
×

মাধবপুর উপজেলায় ফসলের ক্ষেতে কীটনাশক ছিটানো হচ্ছে সমকাল

মাধবপুর (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০৮ নভেম্বর ২০২৫ | ০৬:৫৮

| প্রিন্ট সংস্করণ

হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার কৃষিজমিগুলো ভরে উঠেছে শীতের আগাম সবজিতে। পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ে যাতে ফসল নষ্ট না হয় সে জন্য জমিতে কীটনাশক ব্যবহার করছেন কৃষকরা।
অধিকাংশ স্থানে দেখা গেছে, কৃষি বিশেষজ্ঞ বা কৃষি অফিসের সংশ্লিষ্টদের পরামর্শ ছাড়াই অনুমানের ওপর এসব কীটনাশক ব্যবহার করা হচ্ছে। টমেটো, বেগুন, শিম, ফুলকপি থেকে শুরু করে ধানক্ষেত–সব জায়গায় একই অবস্থা। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ফসলের জমিতে বালাইনাশক হিসেবে ছিটানো হচ্ছে নানা ধরনের রাসায়নিক কীটনাশক। সকালে এক দফা, বিকেলে আরেক দফা। ফসলকে পোকামাকড় থেকে বাঁচাতে কৃষকরা এখন বিষের ওপর পুরোপুরি নির্ভরশীল। 

উপজেলার চৌমুহনী, বহরা, জগদীশপুর, শাহজাহানপুর ও ছাতিয়াইন ধর্মঘর, বুল্লা, বাঘাসুরা ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রাম ঘুরে দেখা যায়, প্রান্তি সবজিচাষিরা ক্ষেতে কীটনাশক প্রয়োগ করছেন। এসব বিষ প্রয়োগের মাত্রা সম্পর্কে জানতে চাইলে অধিকাংশ বলেন, অনুমানের ওপর ভিত্তি করে কীটনাশক ব্যবহার করেন তারা। এছাড়া তাদের কারও কাছে নেই সরকারি অনুমোদনের তালিকা। কেউ জানেন না কী আছে ওইসব বিষে।

বহরা গ্রামের এক সবজিচাষি বলেন, এটি দিলে পোকা মরবে। এটুকুই জানেন তারা। অনুমান করে অন্যরা যেভাবে ব্যবহার করেন তারাও সেভাবেই দেন।
চৌমুহনীর কৃষক মো. শফিক মিয়া বলেন, আগে প্রতিবছর একবার চবা, দুইবার কীটনাশক দিতেন। ভাল ফলনের আশায় এখন প্রতি সপ্তাহেই দিচ্ছেন। এতে মাটির রং বদলে গেছে।
ডিগ্রি কলেজের পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক কবির হোসেন বলেন, রাসায়নিক কীটনাশকের সবচেয়ে ভয়ংকর দিক হলো এটি মাটির জীববৈচিত্র্যকে হত্যা করে। কেঁচো, ছত্রাক, ব্যাকটেরিয়া–এই জীবগুলোই মাটির প্রাণ। বিষ প্রয়োগে এরা মারা গেলে মাটি নিষ্প্রাণ হয়ে পড়ে, তার গঠন ও উর্বরতা হারিয়ে ফেলে। ফলন কমে যায়, জমি শুকিয়ে যায়। দীর্ঘ মেয়াদে এই বিষ ব্যবহার করা হলে তা ভূগর্ভস্থ পানিতেও মিশে মানুষের শরীরে পৌঁছে যায়।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জৈব বালাইনাশক ব্যবহার, মিশ্র ফসল চাষ, কীটের প্রাকৃতিক শত্রু পোকা সংরক্ষণ এবং কৃষকদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে এই বিষয়গুলো মাঠ পর্যায়ে কার্যকর করলে কীটনাশকের প্রতি আগ্রহ কমবে। এই চারটি পদক্ষেপই এখন সবচেয়ে জরুরি।
মনতলা শাহজালাল সরকারি কলেজের প্রভাষক মারিয়া আক্তার বলেন, অতিরিক্ত কীটনাশক ব্যবহার বন্ধ করতে কৃষকদের প্রশিক্ষণ দিতে হবে। তারা যেন জানেন কোন কীটনাশক অনুমোদিত, কোনটা নয়। দ্বিতীয়ত, কৃষকরা নিজেরা নিমপাতা, আদা, রসুন, মরিচের নির্যাস ব্যবহার করে প্রাকৃতিক বালাইনাশক তৈরি করতে পারেন। এসব সম্পূর্ণ জৈবিক এবং পরিবেশবান্ধব। 

কৃষি কর্মকর্তা সজীব সরকার বলেন, কৃষকদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। এটি বাধ্যতামূলক পর্যায়ে নিতে হবে সবার স্বার্থে। কৃষি অফিস থেকে অনুমোদিত কীটনাশকের তালিকা সরবরাহ করা হচ্ছে। এর বাইরে যেন কেউ ব্যবহার না করে। 
স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ইমরুল হাসান জাহাঙ্গীর বলেন, এইসব রাসায়নিক বিষ সরাসরি মানুষের শরীরে প্রভাব ফেলে। সবজির মাধ্যমে বিষ শরীরে জমে কিডনি, লিভার ও স্নায়ুতন্ত্রের ব্যাপক ক্ষতি করে। দীর্ঘ মেয়াদে এটি ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ায়। 

আরও পড়ুন

×