নদীভাঙনে ঘরহারা তিন শতাধিক পরিবার
দুধকুমার নদের ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত নাগেশ্বরীর বামনডাঙ্গা ইউনিয়নের কুটির চর গ্রাম। ছবি: সমকাল
নাগেশ্বরী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৪ নভেম্বর ২০২৫ | ০৯:১৫
নাগেশ্বরীতে নদীভাঙন এখন মানুষের সবচেয়ে বড় আতঙ্ক। দেড় মাসে ব্রহ্মপুত্র, দুধকুমার ও গঙ্গাধর নদী ভেঙে দিয়েছে তিন শতাধিক ঘরবাড়ি, মসজিদ, হাট-বাজার আর ফসলের জমি। প্রতিদিন ভেঙে যাচ্ছে নতুন নতুন এলাকা, ভিটেমাটি হারিয়ে পথে বসছে অসংখ্য পরিবার।
চেয়ারম্যান বলেন, আজ যারা নদীর ভাঙনে সর্বস্ব হারাল, কাল তারা কোথায় যাবে কেউ জানে না। একটি নদীর স্রোত পাল্টে দিচ্ছে হাজারও মানুষের জীবন, স্মৃতি আর ভবিষ্যৎ। তাদের চোখে এখন একটাই প্রশ্ন– কবে থামবে ভাঙন? কবে মিলবে মাথা গোঁজার একটু ঠাঁই?”
সরেজমিন দেখা গেছে, ব্রহ্মপুত্রের তীরে দাঁড়িয়ে অসহায় মানুষরা শুধু দেখছে– কীভাবে ফাটল ধরছে মাটি, তারপর হুড়মুড় করে নদীতে মিশে যাচ্ছে বাড়িঘর। নারায়ণপুর ইউনিয়নের কন্যামতি, মণ্ডলপাড়া, পদ্মারচর, বালারহাটসহ অনেক গ্রামে মানুষ রাতের ঘুম হারাম করে পাহারা দিচ্ছে নিজের শেষ সম্বলটুকু রক্ষায়। গত দেড় মাসে ভেঙে গেছে মসজিদ, মাদ্রাসা, গ্রামীণ বাজারসহ দুই শতাধিক বাড়িঘর। হুমকির মুখে আরও বেশ কিছু স্থাপনা।
ভাঙনে নিঃস্ব হওয়া আয়নাল হক ও সুরমান আলী বলেন, ‘গাঙ্গ আমাগো সব খাইয়া ফেলল। বউ-বাচ্চা লইয়া এখন কোথায় যামু? কী খাইয়া বাঁচমু?’
দুধকুমার নদীর কিনারায় এখন শুধু কান্না আর দীর্ঘশ্বাস। কুটিরচর, মুড়িয়া, আদর্শ বাজার, তেলিয়ানি, খেলারভিটাসহ বহু এলাকায় মানুষ এক রাতেই ভিটেমাটি হারিয়ে ফেলেছে। গত এক মাসে শুধু কুটিরচরেই ২৬টি পরিবার ঘরবাড়ি হারিয়েছে। সব মিলিয়ে দুধকুমার সংলগ্ন বিভিন্ন ইউনিয়নে শতাধিক ঘরবাড়ি বিলীন হয়েছে। ডুবে গেছে ১৩ বিঘা কলাবাগান। নষ্ট হয়েছে ৭০ বিঘা ডালক্ষেত।
হুমকিতে রয়েছে দক্ষিণপাড়া মসজিদ, মুড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, দামালগ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বড়বাড়ি সিনিয়র মাদ্রাসা, চরলুচনী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।
গঙ্গাধরেও একই দৃশ্য। গত এক মাসে কচাকাটা ইউনিয়নের ধনিরামপুর, বালারহাট, মাঝিপাড়া এলাকার ৫০টি বাড়ি ভেঙে নিয়েছে এ নদী।
ইউপি চেয়ারম্যান শাহাদাৎ হোসেন বলেন, ‘মানুষ প্রতিদিন আসে সাহায্যের জন্য। কিন্তু আমাদের হাতে কিছুই নেই।’
পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম জানান, গুরুত্বপূর্ণ স্থানে কাজ করছি। বাজেট স্বল্পতার কারণে সব জায়গায় তাৎক্ষণিক কাজ করা সম্ভব হচ্ছে না। কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে; বরাদ্দ পেলেই কাজ শুরু হবে।
- বিষয় :
- কুড়িগ্রাম
- দুধকুমার নদী