ঢাকা শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬

জুলাই হত্যাকাণ্ডের বিচারের দাবিতে জাতীয় ছাত্রশক্তির কফিন মিছিল

জুলাই হত্যাকাণ্ডের বিচারের দাবিতে জাতীয় ছাত্রশক্তির কফিন মিছিল
×

ছবি: সমকাল

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১৭ জুলাই ২০২৬ | ২০:২৩

জুলাই গণহত্যার বিচার এবং শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে কফিন মিছিল ও সংহতি সমাবেশ করেছে জাতীয় ছাত্রশক্তি। শুক্রবার জুমার নামাজ শেষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদ সংলগ্ন সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের সামনে থেকে কফিন মিছিলটি শুরু হয়। মিছিলটি হলপাড়া, ভিসি চত্বর প্রদক্ষিণ করে রাজু ভাস্কর্যের সামনে গিয়ে সংহতি সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়।

মিছিলটি সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের সামনে থেকে শুরু হয়ে হলপাড়া ও ভিসি চত্বর প্রদক্ষিণ করে রাজু ভাস্কর্যে পৌঁছায়। এ সময় অংশগ্রহণকারীরা গণহত্যার বিচার এবং শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে এনে রায় কার্যকর করার দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন এবং প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করেন।

সংহতি জানিয়ে বক্তব্য দেন ছাত্র অধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক সানাউল্লাহ হক, ছাত্রশিবিরের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক মোহাম্মদ সাজ্জাদ হোসেন খান, ইসলামী শাসনতন্ত্র ছাত্র আন্দোলনের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি সাইফ মোহাম্মদ আলাউদ্দিন।

সমাবেশে ছাত্রশক্তির কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহিদ আহসান জুলাই গণহত্যার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত ও দৃষ্টান্তমূলক বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানান। তিনি বলেন, ডিসেম্বরে হাসিনা নাকি দেশে আসতে চায়, ডিসেম্বরে পাকিস্তান আত্মসমর্থন করেছিল, হাসিনাকেও আত্মসমর্পন করতে হবে। জাহিদ বলেন, চব্বিশের ১৭ জুলাই প্রশাসনের সমর্থনে আমাদের উপর হামলা হয়েছিল, সেই ভিসিসহ কারো বিচার হয়নি। নীলদলসহ যারা গণহত্যাকে সমর্থন করেছে তাদেরকে বিচারের মুখোমুখি করতে হবে, যে ছাত্রলীগ নেতারা হামলায় করেছে তাদের সনদ বাতিল করতে হবে।

সমাবেশে সংহতি জানিয়ে ছাত্রদলের ঢাবি শাখার সাধারণ সম্পাদক নাহিদুজ্জামান শিপন বলেন, রংপুরে শহীদ আবু সাঈদ দুই হাত প্রসারিত করে এবং শহীদ ওয়াসিমরা গণতান্ত্রিক সাম্যের বাংলাদেশের জন্য রক্ত দিয়েছে। এখনও অনেকে আহত হয়ে চিকিৎসাধীন আছেন। ২০২৪ সালের ১৭ জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ফ্যাসিস্ট-সন্ত্রাসী সংগঠনকে যেভাবে আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে বিতাড়িত করেছিলাম, এই দেশের গণতন্ত্রকে সমুন্নত রাখতে আমরা আমাদের ঐক্যবদ্ধভাবে আমাদের সংগ্রাম চালিয়ে যাব।

সংগঠনটির ঢাবি শাখার সভাপতি তাহমিদ আল মুদাসসির চৌধুরী বলেন, ১৭ জুলাই দীর্ঘ ১৪ বছরের জেঁকে বসা ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে বাংলার মানুষ আওয়াজ তুলেছিল। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জিম্মি করে রাখা ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে দেশের শিক্ষার্থীরা প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিল এবং প্রতিটি ক্যাম্পাসকে দুর্গে পরিণত করে সন্ত্রাসীদের বিতাড়িত করেছিল। বিপ্লবের সেই স্ফুলিঙ্গ এখনো মানুষের মধ্যে রয়েছে।

সমাবেশে সঞ্চালনা করেন ছাত্রশক্তি সিনিয়র সহ-সভাপতি হাসিব আল ইসলাম, সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব নাঈম আবেদিন, সম্মিলিত বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি নূর আলম হাসান ও সাধারণ সম্পাদক যাবের বিন নূর, ঢাকা মহানগর উত্তর শাখার সভাপতি অ্যাডভোকেট আশিকুজ্জামান মোল্লা, সাধারণ সম্পাদক মুহতাসিম ফুয়াদ, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ শাখার সাধারণ সম্পাদক ইমরান ভুঁইয়া তাসকিন।

আরও পড়ুন

×