ঢাকা শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬

সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে কর্মচারীকে মারধর, বিএনপি নেতাসহ আসামি ৭

সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে কর্মচারীকে মারধর, বিএনপি নেতাসহ আসামি ৭
×

ছবি: সংগৃহীত

মেহেরপুর প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১৭ জুলাই ২০২৬ | ২০:৪৩

মেহেরপুরের গাংনী সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের অফিস সহকারী আবুল কালাম আজাদকে মারধর, গুরুতর জখম, অপহরণের চেষ্টা এবং প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগে গাংনী পৌর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ইমন হোসেনসহ সাতজনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। মামলায় আরও চার থেকে পাঁচজনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে। শুক্রবার গাংনী থানায় মামলাটি নথিভুক্ত হয়।

মামলার বাদী আবুল কালাম আজাদ জানান, ১৫ জুলাই রাত ৮টার দিকে গাংনী হাসপাতাল বাজার এলাকায় তাঁর ওপর হামলা চালানো হয়। হামলাকারীরা তাঁকে মারধরের পাশাপাশি অপহরণের চেষ্টা, চুরি ও প্রাণনাশের হুমকি দেয়। পরে তিনি গাংনী থানায় মামলা দায়ের করেন।

মামলায় অভিযুক্তরা হলেন গাংনী পৌর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ইমন হোসেন, গাফফার হোসেন, ইয়ামিন হোসেন, বশির, জামিরুল ইসলাম, সোলায়মান হোসেন ও শামীম হাসান। তাদের সবাই বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।

এদিকে ঘটনার পর থেকে গাংনী সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে দলিল নিবন্ধন কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। এতে জমি ক্রয়-বিক্রয়, দলিল রেজিস্ট্রি ও সংশ্লিষ্ট সরকারি সেবা নিতে আসা মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।

রাধাগোবিন্দপুর ধলা গ্রামের কৃষক শরিফুল ইসলাম বলেন, অনেক মানুষ চিকিৎসা, সন্তানের বিদেশযাত্রা বা জরুরি প্রয়োজন মেটাতে জমি বিক্রি করেন। রেজিস্ট্রি অফিস বন্ধ থাকায় তাদের দুর্ভোগ বেড়েছে। চরগোয়াল গ্রামের শিক্ষক আব্দুল জলিল বলেন, বণ্টননামার একটি দলিল নিবন্ধনের জন্য অপেক্ষা করছেন। তাঁর মতো অনেকেই বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ছুটি নিয়ে এসে রেজিস্ট্রি করতে না পেরে ফিরে যাচ্ছেন।

গাংনী সাব-রেজিস্ট্রার মাহফুজ রানা বলেন, অফিসের কর্মচারী আবুল কালাম আজাদের ওপর হামলার ঘটনায় জেলা রেজিস্ট্রারের নির্দেশে সাময়িকভাবে অফিসের কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়েছে।

তিনি বলেন, কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারীর বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ থাকলে তদন্ত ও বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ রয়েছে। কিন্তু বহিরাগতরা আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে সরকারি কর্মচারীকে লাঞ্ছিত করতে পারেন না।

তাঁর দাবি, অভিযুক্তদের কয়েকজনের বিরুদ্ধে অতীতেও বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ রয়েছে। ২০২৪ সালের ৪ নভেম্বর গাংনী উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা হোসনে মোবারকের ওপর হামলার মামলাতেও তাদের কয়েকজনের নাম এসেছিল। ওই ঘটনার প্রতিবাদে তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নেতৃত্বে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা মানববন্ধন করেছিলেন।

গাংনী পৌর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ইমন হোসেন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, সরকার নির্ধারিত ফি ছাড়াও অতিরিক্ত ২০০ টাকা নেওয়ার অভিযোগে বিক্ষুব্ধ লোকজন আবুল কালাম আজাদকে ডেকে নিয়ে যায়। উত্তেজিত কয়েকজন তাঁকে চড়-থাপ্পড় মারলেও অপহরণের চেষ্টা, প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ সত্য নয়।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই তারেক নাহিয়ান বলেন, অভিযুক্তদের কয়েকজনের বিরুদ্ধে শিক্ষা কর্মকর্তাকে মারধর, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডসহ বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে। মামলার তদন্ত শুরু হয়েছে এবং আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চালানো হবে।

আরও পড়ুন

×