কুশিয়ারা-জুড়ী নদীর পানি বিপৎসীমার কাছাকাছি, মৌলভীবাজারে নিম্নাঞ্চলের মানুষ পানিবন্দি
ছবি: সমকাল
মৌলভীবাজার প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৭ জুলাই ২০২৬ | ২১:২০
মৌলভীবাজারে কুশিয়ারা ও জুড়ী নদীর পানি বিপৎসীমার কাছাকাছি পৌঁছেছে। এতে জেলার হাকালুকি হাওরসংলগ্ন এলাকা, সদর উপজেলার নিম্নাঞ্চল এবং রাজনগর উপজেলার পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বাঁধের বাইরের নদীতীরবর্তী বিভিন্ন গ্রামের মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। অনেক এলাকায় ঘর থেকে বের হতে নৌকার ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। এতে জনজীবন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার কুশিয়ারা নদীর শেরপুর পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার ২২ সেন্টিমিটার এবং জুড়ী নদীর ভবানীপুর পয়েন্টে ৩ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
তবে জেলার মনু ও ধলাই নদীর পানি বিপৎসীমার নিচে নেমে যাওয়ায় রাজনগর ও কমলগঞ্জ উপজেলার ভাঙনকবলিত কামারচাক, টেংরা, ইসলামপুর ইউনিয়নসহ কয়েকটি এলাকার বন্যার পানি কমতে শুরু করেছে। এসব এলাকার অনেক বসতবাড়ি থেকে ইতিমধ্যে পানি নেমে গেছে।
অন্যদিকে উজান থেকে নেমে আসা ঢল ও স্থানীয় বৃষ্টির কারণে কুশিয়ারা ও জুড়ী নদীর পানি আবারও বাড়ছে। এতে সদর উপজেলার খলিলপুর ইউনিয়নের হামরকোনা, দাউদপুর, ব্রাহ্মণগ্রাম, মুসলিমনগর, নতুনবস্তী, মনুমুখ ইউনিয়নের বাহাদুরপুর ও চাঁনপুর, রাজনগরের ফতেপুর ইউনিয়নের শাহপুর, আব্দুল্লাহপুর, ইসলামপুর, খেয়াঘাট বাজার এবং উত্তরভাগ ইউনিয়নের কালারবাজার ও কামালপুরসহ নদীতীরবর্তী বিভিন্ন গ্রামের মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন।
সদর উপজেলার হামরকোনা গ্রামের দিনমজুর মো. ইলিয়াছ বলেন, ‘বর্ষা এলেই পানির সঙ্গে যুদ্ধ করে জীবন চালাতে হয়। নৌকা ছাড়া বাড়ি থেকে বের হওয়া যায় না। নৌকা না থাকায় কাজে যেতে পারছি না। নিয়মিত আয় না থাকায় পরিবার চালানোও কষ্টকর হয়ে পড়েছে।’
একই উপজেলার মুসলিমনগর গ্রামের রিকশাচালক বুলবুল মিয়া বলেন, ‘কুশিয়ারার পানি বাড়লেই ঘরবাড়িতে পানি উঠে যায়। স্থায়ী কোনো ব্যবস্থা না হলে প্রতি বছরই একই দুর্ভোগ পোহাতে হবে।’
এদিকে জুড়ী উপজেলার হাকালুকি হাওরপারের বেলাগাঁও, শাহপুর ও হেকিমপুর গ্রামের মানুষও উজানের ঢলের পানিতে পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। কুলাউড়া উপজেলার ভুকশিমইল, জয়চণ্ডীসহ হাওরপারের কয়েকটি এলাকার ঘরবাড়িতেও পানি ঢুকেছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
মৌলভীবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. খালেদ বিন ওয়ালীদ বলেন, সদর উপজেলার শেরপুর বাজার, হামরকোনা, দাউদপুর ও ব্রাহ্মণগ্রাম এলাকায় পাউবোর কোনো বন্যা প্রতিরক্ষা বাঁধ নেই। এসব এলাকার মানুষের দুর্ভোগ কমাতে প্রায় ১০ কিলোমিটার দীর্ঘ বাঁধ নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। তিনি বলেন, নদীতীরবর্তী এলাকায় উঁচু ভিত্তির ওপর ঘরবাড়ি নির্মাণ করলে জলাবদ্ধতার ক্ষতি কিছুটা কমানো সম্ভব।
- বিষয় :
- মৌলভীবাজার
- কুশিয়ারা নদী
- পানিবন্দি