জাল দলিলে জমি দখল
কাফনের কাপড় পরে ৪৮ পরিবারের মানববন্ধন
জমি জালিয়াত চক্রের বিরুদ্ধে কাফনের কাপড় পরে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে গতকাল সোমবার মানববন্ধন করে ৪৮টি ভুক্তভোগী পরিবার সমকাল
গাজীপুর প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৫ নভেম্বর ২০২৫ | ০৬:৫১
| প্রিন্ট সংস্করণ
জমি জালিয়াত চক্রের বিরুদ্ধে কাফনের কাপড় পরে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে মানববন্ধন করেছে ভুক্তভোগী ৪৮টি পরিবার। পরে তারা জেলা প্রশাসক বরাবর স্মারকলিপি দেন। গাজীপুর মহানগরের কাশিমপুর এলাকার ওই পরিবারের সদস্যরা সোমবার দুপুরে এ কর্মসূচি পালন করেন।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, জাল দলিল সৃজন করে তাদের পৈতৃক প্রায় ৩ বিঘা জমি জবরদখল করে নিয়েছে স্থানীয় একটি ভূমিদস্যু চক্র। তাদের সঙ্গে ভূমি অফিসের কিছু অসাধু কর্মকর্তার যোগসাজশ রয়েছে।
গতকাল জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে গায়ে কাফনের কাপড় জড়ানো বানু বেগম জানান, কাশিমপুর গোবিন্দবাড়ি এলাকায় পরিবার নিয়ে বসবাস করেন তিনি। তার আশপাশে আরও ৪৭টি পরিবার রয়েছে। তারা প্রত্যেকেই একে অপরের স্বজন ও বংশধর। এসব পরিবারের জমির দিকে দৃষ্টি পড়ে চিহ্নিত একটি ভূমিদস্যু চক্রের। ওই চক্রের নেতৃত্বে রয়েছেন একই এলাকার আব্দুল মান্নান ও হযরত আলী। তারা জমির খতিয়ান ও জাল দলিল তৈরি করে প্রায় ৫ কোটি টাকা মূল্যের ৩ বিঘা জমি জবরদখল করে নিয়েছে। তিনি বলেন, জমির আশপাশেই আমাদের বাড়িঘর। জবরদখল করে নেওয়া জমিতে আমরা চাষাবাদ করতাম। রাতের আঁধারে সেই জমিতে স্থাপনা তৈরি করে জবরদখল করে নেয় চক্রটি। পুলিশ এসে বাধা দিলে কাজ বন্ধ রাখে। পরের রাতে আবার স্থাপনা তৈরির কাজ করে।
ওই এলাকার ইসমাইল হোসেন বলেন, আমাদের জমি-জিরাত সব জাল দলিল করে নিয়ে গেছে। কাশিমপুর ভূমি অফিসসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে অভিযোগ করেও কোনো সমাধান পাইনি। জামাল উদ্দিন নামে আরেকজন বলেন, সম্প্রতি বিদায় নেওয়া অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক কায়সার খসরু ন্যায়বিচারের আশ্বাস দিলেও শেষ পর্যন্ত তিনি আর আমাদের দিকে তাকাননি।
শায়লা আক্তার নামে একজন বলেন, অসাধু ভূমি কর্মকর্তারা নামজারির আবেদন দীর্ঘ সময় ঝুলিয়ে রেখে ভূমিদস্যু চক্রকে জবরদখলের সুযোগ করে দিয়েছেন। অসাধু ভূমি কর্মকর্তাদের বাঁচাতে নথি গায়েব করা হয়েছে। এছহাক হোসেন নামে একজন ভুক্তভোগী বলেন, ভূমিদস্যু হযরত আলী ও আব্দুল মান্নান গং এর যেসব কাগজপত্র অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক জাল, অবৈধ ও অকার্যকর বলে চিহ্নিত করেছেন, সেই কাগজপত্রকে টঙ্গী রাজস্ব সার্কেলের সার্ভেয়ার রফিকুল ইসলাম বৈধতা দিয়েছেন।
যোগাযোগ করা হলে অভিযুক্ত আব্দুল মান্নান বলেন, আমরা কারও জমি জাল দলিল করে নেইনি। যারা অভিযোগ করেছেন, তারা আমাদেরই বংশধর। আদালতে যদি অভিযোগ সত্য প্রমাণ হয় তাহলে যে কোনো শাস্তি মেনে নেব। অভিযোগের বিষয়ে জানতে টঙ্গী রাজস্ব সার্কেলের সার্ভেয়ার রফিকুল ইসলামকে ফোন দিলেও তা বন্ধ পাওয়া যায়।
গাজীপুর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আলম হোসেন বলেন, আমরা একটি স্মারকলিপি পেয়েছি। গুরুত্ব দিয়ে বিষয়টি তদন্ত করব। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
- বিষয় :
- জালিয়াতি
