আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা, বিএনপি জামায়াত নেতাদের ক্ষোভ
বরগুনা প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৬ নভেম্বর ২০২৫ | ০৭:৩২ | আপডেট: ৩০ নভেম্বর ২০২৫ | ০৭:০৯
| প্রিন্ট সংস্করণ
বরগুনা জেলা আওয়ামী লীগের ১৩৪ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইনে আরেকটি মামলা করা হয়েছে। গত শনিবার সদর থানায় মামলাটি করেন ঢলুয়া ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. বাদল। গত সোমবার রাতে বিষয়টি নিশ্চিত করেন ওসি ইয়াকুব হোসাইন।
মামলায় বরগুনা জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভু, সাবেক সংসদ সদস্য গোলাম সরোয়ার টুকু, সাবেক সংসদ সদস্য শওকত হাচানুর রহমান রিমন, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবীর, ১৭ জন আইনজীবীসহ ১৩৪ জনকে আসামি করা হয়েছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর বরগুনায় আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে বিএনপির নেতাকর্মীরা আরও পাঁচটি মামলা করেছেন বলে নিশ্চিত করেছেন আদালত পরিদর্শক মাহবুব হোসেন।
সর্বশেষ মামলায় এক নম্বর সাক্ষী রাখা হয়েছে বরগুনা জেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি আসাদুজ্জামান আল-মামুন এবং ৩ নম্বর সাক্ষী রাখা হয়েছে জেলা বিএনপির সদস্য সচিব হুমায়ূন হাসান শাহিনসহ বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতাদের। তবে এই বিষয়ে কিছুই জানেন না বলে দাবি তাদের। শুধু তাই নয়, গণহারে আসামি করা এবং তাদের অজান্তে সাক্ষী রাখায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এই দুই নেতা।
জানা গেছে, বাদী মো. বাদল বরগুনা সদর উপজেলার ঢলুয়া ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক সাধারণ সম্পাদক। তিনি ২০১৩ সালের ১২ আগস্ট, ২০১৬ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি এবং ২০২০ সালের ১৪ এপ্রিলের তিনটি পৃথক ঘটনা দেখিয়ে মামলাটি করেন। এজাহারে উল্লেখ করেন, আসামিরা উল্লিখিত তিন দফায় বরগুনা সদর রোডের কাঠপট্টিতে তাঁর ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে নগদ দুই লাখ ২০ হাজার টাকা লুট করে এবং দুই লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি করে। তাঁকে তুলে নিয়ে চোখ বেঁধে মারধর করে। চোখ বাঁধা অবস্থায় অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে দীর্ঘদিন আটক করে রাখে। ওই সময় তাঁকে জঙ্গি, চোর এবং রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ তুলে র্যাব-পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে। আসামিরা তাঁকে ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে জবানবন্দি দিতে বাধ্য করে যে, তিনি জঙ্গি এবং বিএনপির উগ্রপন্থি লোক। এসব ঘটনায় পুলিশ তাঁকে দুই দফায় রিমান্ডে নিয়ে অন্তত ৯ দিন নির্যাতন করে। এসব ঘটনায় বিভিন্ন মেয়াদে চার বছর ছয় মাস কারাভোগ করতে হয়েছে বলে দাবি মো. বাদলের। আসামি, র্যাব ও পুলিশ মিলে ক্রসফায়ারের ভয় দেখিয়ে তাঁর স্ত্রী ও ভাইয়ের কাছ থেকে ২২ লাখ ৭০ হাজার টাকা নিয়েছে।
মামলার এক নম্বর সাক্ষী জামায়াত নেতা আসাদুজ্জামান আল-মামুন বলেন, ‘মামলার বিষয়ে আমার দল অথবা আমি কিছুই জানি না। কীভাবে আমাকে সাক্ষী রেখেছে তাও জানি না। তবে ব্যক্তি উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য বেশ কিছু নিরীহ মানুষকেও এই মামলায় আসামি করা হয়েছে।’
৩ নম্বর সাক্ষী বরগুনা জেলা বিএনপির সদস্য সচিব হুমায়ূন হাসান শাহীন বলেন, ‘বাদল আওয়ামী শাসনামলে অন্যায় অত্যাচারের শিকার হয়েছে, সেটা আমরা জানি এবং সে বিষয়ে আইনি প্রতিকার পেতেই পারেন। তবে গণহারে আসামি করে মামলা করার বিষয়টি আমি এবং আমার দল কিছুই জানি না। বিষয়টি নিয়ে আমরাও ক্ষুব্ধ। কারণ আমাদের বেশ কিছু দলীয় নেতাকর্মীকেও আসামি করা হয়েছে।’
মামলার প্রধান আসামি ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভু, জাহাঙ্গীর কবীরসহ কয়েকজন জেলহাজতে রয়েছেন। অনেকে আছেন আত্মগোপনে।
মামলার বিষয়ে কথা বলতে বাদী মো. বাদলের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল দিয়ে নম্বরটি বন্ধ পাওয়া গেছে।
সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইয়াকুব হোসাইন জানান, বাদী অভিযোগ করেছেন বিগত সরকারের আমলে নির্যাতিত ও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন তিনি। সে সময় বিচার পাননি বলে এখন মামলা করেছেন। তাঁর অভিযোগের ভিত্তিতেই মামলা নেওয়া হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে বেরিয়ে আসবে প্রকৃত আসামি ও সাক্ষী। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।
- বিষয় :
- ক্ষোভ
