ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

রাতের আঁধারে সড়কে দায়সারা কাজ, ক্ষোভ

রাতের আঁধারে সড়কে দায়সারা কাজ, ক্ষোভ
×

জয়পুরহাট প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০২ ডিসেম্বর ২০২৫ | ০৭:৩২

| প্রিন্ট সংস্করণ

জয়পুরহাটের কালাইয়ে প্রায় সাড়ে সাত কিলোমিটার রাস্তা প্রশস্ত ও সংস্কারকাজে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে ঠিকাদারের বিরুদ্ধে। নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহার করে রাতের আঁধারে কাজ করায় এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। অনিয়মের এ ঘটনাটি ঘটে পুনট-মোসলেমগঞ্জ রাস্তায়।
গত রোববার রাতে সরেজমিন রাস্তায় গিয়ে নিম্নমানের খোয়া, রাবিশ, মাটি ও পরিত্যক্ত পাথর-পিচ বিছানোর দৃশ্য নজরে পড়েছে। এ সময় দেখভালের দায়িত্বে থাকা প্রকৌশলী অফিসের কাউতে দেখা যায়নি। উপস্থিত স্থানীয়রা জানান, রাস্তাটি চওড়ায় আগে ছিল ৫ মিটার, বর্তমানে তা বেড়ে হচ্ছে ৮.৭ মিটার। পুরো রাস্তার একপাশে খনন করা হয়েছে। গর্তে বালির সঙ্গে ইটের খোয়া দেওয়ার কথা থাকলেও মেশানো হচ্ছে আগে রাস্তায় থাকা পরিত্যক্ত পাথর, ইট ভাঙার গুঁড়া ও মাটি। রাতের আঁধারে দায়সারা কাজ চলছে। বাধা দিলে ঠিকাদারের লোকজন চড়াও হয়। হুমকিও দেয়।  

উপজেলা প্রকৌশল অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, পুনট-মোসলেমগঞ্জ রাস্তার শান্তিনগর বাজার থেকে মোসলেমগঞ্জ বাজার পর্যন্ত ৭.৩৮ কিলোমিটার রাস্তা সংস্কার এবং একপাশে চওড়া করতে গত বছরের ৩ জুন দরপত্র আহ্বান করা হয়। এই কাজে ব্যয় ধরা হয় আট কোটি ৩৫ লাখ ১৯৪ টাকা। কাজ পায় নওগাঁর ইথেন এন্টারপ্রাইজ। চলতি বছরের ২ ডিসেম্বর কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এখন পর্যন্ত খোঁড়াখুঁড়ির কাজই শেষ করতে পারেনি।  

কথা হলে ইথেন এন্টারপ্রাইজের ব্যবস্থাপক নুর আলম বলেন, কৃষকের কাজে যাতে বাধা না সৃষ্টি না হয় সে কারণে রাতে কাজ করা হচ্ছে। রাস্তার উপড়ানো পরিত্যক্ত পাথর দু-একটি যেতেই পারে। যেসব অভিযোগ করা হচ্ছে তা মিথ্যা বলে দাবি করেন তিনি।
একাধিক শ্রমিক বলেন, আগের তুলে ফেলা পাথর ও গর্ত খোঁড়া মাটি দিয়ে রাস্তা সমান করা হচ্ছে। যেখানে বেশি লাগছে সেখানে অন্য জায়গা থেকে এনে সমান করা হচ্ছে। আমাদের যেভাবে কাজ করতে বলা হয়েছে সেভাবেই করছি।

স্থানীয় থল গ্রামের বাসিন্দা রাজু আহম্মেদ বলেন, কাজে অনিয়ম হয়েছে। এসব দেখার কেউ নেই। আমরা কিছু বলতে গেলে ধমক দেয়। ছয় মাস না যেতেই রাস্তার কার্পেটিং উঠে যাবে, রাস্তা ফেটে যাবে। দুই বছর আগেও এই রাস্তার কাজ করেছে। বারবার রাস্তা সংস্কারের নামে সরকারের টাকা লোপাট করার পরিকল্পনা করছেন ঠিকাদার ও প্রকৌশলী। 

সহকারী প্রকৌশলী (এসও) আবু জাফর বলেন, রাতে কাজ করার কোনো সুযোগ নেই। পরিত্যক্ত পাথর ও ইটের গুঁড়া দেওয়ার প্রশ্নই আসে না। এভাবে কাজ করে থাকলে তুলে ফেলা হবে।   
ঠিকাদার রাসেল আহম্মেদ বলেন, আমি সাইটে থাকি না। আমার লোকজন এ কাজ করে থাকলে অবশ্যই তুলে ফেলা হবে। 
প্রকৌশলী সুমন কুমার দেবনাথ বলেন, অনিয়মের প্রমাণ পেলে ঠিকাদার বিল পাবেন না। 

 

আরও পড়ুন

×