ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

বিসিআইসির সারের ডিলার নিয়োগ অনিয়মের দায় প্রশাসনের কাঁধে

বিসিআইসির সারের ডিলার নিয়োগ অনিয়মের দায় প্রশাসনের কাঁধে
×

তাহিরপুর (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০৩ ডিসেম্বর ২০২৫ | ০৭:৪৯

| প্রিন্ট সংস্করণ

তাহিরপুর উপজেলার বালিজুরি ইউনিয়নের বিসিআইসির সারের ডিলার নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে আরও আগে থেকে। তবে এ ব্যাপারে অবগত করা হলেও পদক্ষেপ নেয়নি তৎকালীন উপজেলা প্রশাসন। 
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রায় ১০ বছর আগের ওই নিয়োগ দুর্নীতির ব্যাপারে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি এখনও। এ নিয়ে ক্ষোভ জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

জানা যায়, বালিজুরি ইউনিয়নের সারের ডিলারশিপ পাওয়ার জন্য ইউনিয়নের স্থায়ী বাসিন্দা নাজমুল হুদা আবেদন করেছিলেন। তবে নাজমুল হুদাকে ডিলারশিপ না দিয়ে বাদাঘাট ইউনিয়নের হাফিজুর রহমান নামে এক ব্যক্তিকে ডিলারশিপ দেওয়া হয়। সে সময় অনিয়মের আশ্রয় নিয়ে উপজেলা কৃষি অফিস এই ডিলার নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে। হাফিজুর রহমান পার্শ্ববর্তী বাদাঘাট ইউনিয়নের  নাগরপুর গ্রামের রইছ উদ্দিনের ছেলে।

সম্প্রতি সার ডিলার নিয়োগের অনিয়মের বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরে সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসক বরাবরে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন বালিজুরি ইউনিয়নের সাখাওয়াত হোসেন। 
সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত অভিযোগে সাখাওয়াত হোসেন উল্লেখ করেন, বালিজুরি ইউনিয়নের বরাদ্দকৃত সার ওই ডিলারের মাধ্যমে ভৈরব, আশুগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ, বাদাঘাট বাজারসহ অনেক স্থানে পাচার করা হয়। যার মূল হোতা ডিলার হাফিজুর রহমান। সে সময় ডিলার নিয়োগের এই অনিয়ম এবং ওই ডিলারের কারসাজির ব্যাপারে গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ প্রকাশ করে দৈনিক সুনামগঞ্জের খবর নামে স্থানীয় একটি জনপ্রিয় সংবাদপত্র। প্রকাশিত সংবাদের আলোকে বিষয়টি জেলা প্রশাসক সুনামগঞ্জ কার্যালয় থেকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা এবং তাহিরপুরের উপজেলা কর্মকর্তা বরাবর পত্র দিয়ে অবগত করেন।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, চিঠি দেওয়ার পরেও তাহিরপুর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা ও কৃষি কর্মকর্তা ডিলারের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেননি। এতে করে হাফিজুর রহমান অবৈধ পন্থায় সার পাচারের জন্য আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠেন। পরে ২০২২ সালের ২২ এপ্রিল নদীপথে নৌকায় ভৈরব ও আশুগঞ্জে সার পাচারকালীন তাহিরপুর থানা পুলিশ গোপন সূত্রে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে ২৭১ বস্তা ডিএপি সার আটক করে মামলা দায়ের করে।

ওই মামলা সুনামগঞ্জ জেলা জজ আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। তাতেও  হাফিজুর রহমানের সারের অবৈধ পাচার বন্ধ হয়নি। পরে ২০২৪ সালের ১ অক্টোবর বালিজুরি ইউনিয়নের আনোয়ারপুর বাজার সারের গুদাম থেকে ৩০০ বস্তা ডিএপি সার ট্রাকে নারায়ণগঞ্জ পাঠানোর সময় বিশ্বম্ভরপুর থানার সামনে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতা আটক করেন। আটকের পর অবৈধ সার সম্পর্কে বিশ্বম্ভরপুর থানা পুলিশকে অবগত করলে বিশ্বম্ভরপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে দুজনকে আটক করে সুনামগঞ্জ আদালতে পাঠান। মামলাটি বর্তমানে বিচারাধীন।
বালিজুরি ইউনিয়নের সার ডিলার হাফিজুর রহমান বলেন, ২০২২ সালে তাঁর বিরুদ্ধে সার পাচারের একটি অভিযোগ ছিল। সে বিষয়টি সাখাওয়াত হোসেন সম্প্রতি সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসক বরাবর অভিযোগ দায়ের করেছে। বিষয়টি বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে। তদন্ত শেষে যে ব্যবস্থা নেওয়া হবে, তা তিনি মেনে নেবেন।

 

আরও পড়ুন

×