ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

ইউক্রেনের ড্রোন হামলা

বাংলাদেশি নাবিক মাহফুজ বললেন,‘জাহাজ নোঙর করতে পারছি না, বিপদে আছি’

বাংলাদেশি নাবিক মাহফুজ বললেন,‘জাহাজ নোঙর করতে পারছি না, বিপদে আছি’
×

মাহফুজুল ইসলাম প্লাবন

বিশেষ প্রতিনিধি, চট্টগ্রাম

প্রকাশ: ০৬ ডিসেম্বর ২০২৫ | ১৯:৪৬

কৃষ্ণসাগরে গত ২৮ নভেম্বর একটি তেল পরিবহনকারী জাহাজে ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় প্রাণে বেঁচে গিয়েছিলেন বাংলাদেশের ৪জনসহ ২৫ নাবিক। এর মধ্যে তিন বাংলাদেশি নাবিক দেশের উদ্দেশে রওনা দিয়েছেন। তবে জাহাজটির চতুর্থ প্রকৌশলী মাহফুজুল ইসলাম প্লাবনের বিপদ এখনও কাটেনি। বুলগেরিয়োর সীমান্তে থাকা ক্ষতিগ্রস্ত জাহাজটি ফের তুরস্কের তীরে আনার পথে নতুন করে বিপদে পড়েছেন তিনিসহ ১০ নাবিক। 

ড্রোন হামলায় জাহাজটির ইঞ্জিন বিকল হয়ে পড়ায় জাহাজটি নোঙর করতে পারছেন না। এখনও বিপদ কাটেনি, জীবনের ঝুঁকিতে আছেন বলে সমকালকে জানিয়েছেন মাহফুজুল ইসলাম। মাহফুজ ছাড়াও জাহাজটিতে রয়েছেন চীনের সাতজন, ইন্দোনেশিয়া ও মিয়ানমারের নাবিক।

নাবিকদের সংগঠন বাংলাদেশ মার্চেন্ট মেরিন অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘জাহাজটিতে থাকা বাংলাদেশের যে তিনজন নাবিক দেশের উদ্দেশে তুরস্ক থেকে রওনা হয়েছেন তাদের মধ্যে আছেন চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ উপজেলার আজগর হোসাইন, কুষ্টিয়ার আল আমিন ও ঢাকার ধামরাইয়ের হাবিবুর রহমান। মাহফুজুল ইসলাম প্লাবনের বাড়ি বাংলাদেশের নরসিংদীতে। তিনি এখনও বিপদে আছেন। তবে এখন যে ১০ জন আটকা পড়েছেন তাদের বুলগেরিয়া বা তুরস্কের কোস্টগার্ড উদ্ধার করে আনবে। আমরা তাদের সঙ্গে যোগাযোগ চালিয়ে যাচ্ছি।’
  
তুরস্কের উপকূলে কৃষ্ণসাগর অতিক্রম করার সময় গত ২৮ নভেম্বর এমটি কায়কাউস নামে তেল পরিবহনকারী জাহাজে হামলা করেছিল ইউক্রেনের নৌবাহিনী। জাহাজটি রাশিয়ার ‘ছায়া নৌবহরের’ অংশ হয়ে কৃষ্ণসাগর পাড়ি দিচ্ছিল। তখন আগুন ধরে যাওয়া সেই জাহাজ থেকে সব নাবিককে নিরাপদে তুরস্কে নিয়ে আসে সেখানকার কোস্ট গার্ড। কিন্তু ক্ষতিগ্রস্ত জাহাজটি ভেসে ভেসে বুলগেরিয়া সীমান্তে যাওয়ায় ১০ নাবিককে এটি আবার তুরস্কের সীমান্তে আনার দায়িত্ব দেয়া হয়। তাদের মধ্যে আছেন মাহফুজুল ইসলামও।
 
বাংলাদেশি নাবিক মাহফুজুল ইসলাম সমকালকে হোয়াটস অ্যাপে বলেন,  ‘ড্রোন হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত জাহাজটি ভাসতে ভাসতে বুলগেরিয়ার সীমান্তে চলে যায়। সেখান থেকে এটিকে আবার তুরস্কের তীরে আনতে আমিসহ ১০ জনকে দায়িত্ব দেয়া হয়। উদ্ধার হওয়ার দুই দিন পর আমরা নতুন এই কাজের দায়িত্ব পাই। তাই আমি আর দেশে ফিরতে পারিনি। বাকি তিনজন দেশের পথে রওনা হয়েছে। 

তিনি বলেন, ‘আমরা ১০ জন তুরস্কের কোস্টগার্ডের সহায়তায় ক্ষতিগ্রস্ত জাহাজটিকে ফের তুরস্কের উপকূলে নিয়ে আসি। কিন্তু ইঞ্জিন বিকল থাকায় এটি আর নোঙর করতে পারছি না। ভেসে ভেসে আবার বুলগেরিয়ার সীমান্তে চলে এসেছি আমরা। বিপদ এখনও কাটেনি। জীবনের ঝুঁকিতে আছি।’

বুলগেরিয়া বা তুরস্কের কোস্টগার্ড ফের উদ্ধার করবে বলেও জানান তিনি। 

আরও পড়ুন

×