ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

রেলের পূর্বাঞ্চলের ছয়টি রুটে কৌশলে ভাড়া বাড়ানো নিয়ে প্রশ্ন

রেলের পূর্বাঞ্চলের ছয়টি রুটে কৌশলে ভাড়া বাড়ানো নিয়ে প্রশ্ন
×

ফাইল ছবি

চট্টগ্রাম ব্যুরো

প্রকাশ: ২১ ডিসেম্বর ২০২৫ | ০০:৫২

রেলওয়ে বিভিন্ন সময় সরাসরি, আবার কৌশলে ভাড়া বাড়িয়ে থাকে। তবে এবার সরাসরি টিকিটের মূল্য না বাড়িয়ে ‘পয়েন্ট চার্জ’ বা মাশুল আরোপের মাধ্যমে বাড়ানো হলো ট্রেনের ভাড়া। কেবল রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের আওতাধীন ঢাকা-চট্টগ্রাম, ঢাকা-কক্সবাজারসহ ছয়টি রুটে এ মাশুল ধরা হয়েছে। আগে থেকে ঘোষণা দেওয়া বর্ধিত ভাড়া আজ শনিবার থেকে কার্যকর করা হয়েছে। এসব রুটে সর্বনিম্ন পাঁচ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ২২৬ টাকা পর্যন্ত ভাড়া বেড়েছে। 

রেলওয়ে জানায়, কোনো রুটের মধ্যে কোনো সেতু বা সমজাতীয় অবকাঠামো পড়লে ভাড়ার সঙ্গে যে বাড়তি মাশুল নির্ধারণ করা হয়, সেটাকে পয়েন্ট চার্জ বলা হয়। ১০০ মিটার দৈর্ঘ্যের সেতুকে আড়াই কিলোমিটার দূরত্ব হিসেবে বিবেচনা করা হয়। অর্থাৎ, এক কিলোমিটার লম্বা সেতুর দূরত্ব গণনা করা হয় ২৫ কিলোমিটার হিসেবে। এমন কৌশলী হিসাবের ফলে কাগজে-কলমে পথের দূরত্ব বেড়ে যায়। আর এই অনুপাতে টিকিটের সঙ্গে মাশুল যুক্ত করা হয়। 

যেসব রুটে ভাড়া বাড়ানো হয়েছে সেগুলো হলো– ঢাকা-চট্টগ্রাম, ঢাকা-কক্সবাজার, ঢাকা-সিলেট, চট্টগ্রাম-সিলেট, চট্টগ্রাম-জামালপুর ও ঢাকা-দেওয়ানগঞ্জ। এসব রুটের ১১টি সেতুতে পন্টেজ চার্জ আরোপ করা হয়েছে। তবে কেবল রেলওয়ের পূর্বাঞ্চলের নির্দিষ্ট ছয়টি রুটে ভাড়া বাড়ানো নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। যাত্রীদের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, আরামদায়ক ভ্রমণ ও নিরাপদ যাতায়াতের কারণে মানুষ ট্রেন ভ্রমণে আগ্রহী হচ্ছে। এই সময়ে সেবা না বাড়িয়ে কৌশলে ভাড়া বাড়ানোর বিষয়টি প্রশ্নবিদ্ধ। বর্ধিত ভাড়া প্রত্যাহার চান তারা।
ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে সুবর্ণ এক্সপ্রেস ট্রেনের স্নিগ্ধা আসনের ভাড়া ২০১২ সালে ছিল ৫৮৫ টাকা। ২০১৬ সালে তা বেড়ে হয় ৭২৫ টাকা। ২০২৪ সালে রেয়াতি সুবিধা প্রত্যাহারের পর ভাড়া দাঁড়ায় ৮৫৫ টাকা। নতুন পন্টেজ চার্জ যুক্ত হওয়ার পর এখন যাত্রীদের দিতে হচ্ছে ৯৪৩ টাকা। 

এভাবে ঢাকা-কক্সবাজার রুটে চলাচলকারী কক্সবাজার ও পর্যটক এক্সপ্রেস ট্রেনের স্নিগ্ধা আসনের ভাড়া এক হাজার ৩২২ টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে এক হাজার ৪৪৯ টাকা। এসি বার্থের ভাড়া দুই হাজার ৪৩০ টাকা থেকে বেড়ে দাঁড়িয়েছে দুই হাজার ৬৫৬ টাকায়। এ রুটে সর্বোচ্চ ২২৬ টাকা পর্যন্ত ভাড়া বেড়েছে। 

অন্যান্য রুটেও আসন ও রুট ভেদে ভাড়া বেড়েছে। ঢাকা-সিলেট রুটে মেইল ট্রেনের ভাড়া ১২৫ টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ১৪০ টাকা। কমিউটার ট্রেনের ভাড়া ১৬০ টাকা থেকে বাড়িয়ে করা হয়েছে ১৭০ টাকা। শোভন চেয়ারের ভাড়া ৩৫ টাকা বাড়িয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে ৪১০ টাকা। স্নিগ্ধা আসনের ভাড়া ৭১৯ টাকা থেকে বেড়ে হবে ৭৮৮ টাকা। এসি সিটের ভাড়া ৮৬৩ টাকার জায়গায় এখন হবে ৯৪৩ টাকা। এসি বার্থের ভাড়া ১২৭ টাকা থেকে বেড়ে দাঁড়িয়েছে এক হাজার ৪৬৫ টাকায়। রেলওয়েরই তথ্যমতে, ১৩ বছরে অন্তত পাঁচ দফায় ভাড়া বাড়ানো হয়েছে। 

কনজ্যুমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সহসভাপতি নাজের হোসাইন সমকালকে বলেন, মানুষ যখন ট্রেন ভ্রমণে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করছে, তখন এটাকে সুযোগ হিসেবে ব্যবহার করে নানা কৌশলে ট্রেনের ভাড়া বাড়াচ্ছে রেলওয়ে। আমাদের মনে হয়, ট্রান্সপোর্ট মালিকদের যোগসাজশে রেলওয়ে এটি করছে। তাছাড়া কেবল সুনির্দিষ্ট করে ছয়টি রুটে কেন ভাড়া বাড়ানো হলো, তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। এই ধরনের ভাড়া বৃদ্ধি ট্রান্সপোর্ট মালিকদের বাড়তি সুবিধা দেবে। বিপরীতে নিম্ন আয়ের মানুষ সমস্যায় পড়বেন।

বাড়তি ভাড়া নেওয়ার বিষয়ে রেলওয়ের পূর্বাঞ্চলের প্রধান বাণিজ্যিক ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান বলেন, রেলওয়ের সব রুটে গণহারে এবার ভাড়া বাড়ানো হয়নি। কেবল নির্দিষ্ট ছয়টি রুটে ভাড়া বাড়ানো হয়েছে। এটি সরকারি সিদ্ধান্ত। মূলত পুরোনো সেতুগুলো রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় বেড়ে গেছে। এই ব্যয় সমন্বয় করতে পয়েন্ট চার্জ হিসেবে ভাড়া বাড়ানো হয়েছে।

আরও পড়ুন

×