৩০ বছর পড়ে থেকেও গতি হলো না সেতু দুটির
নান্দাইলের বাপাইল বিল বেড়িবাঁধের খয়রা খালের ওপর সংযোগ সড়কবিহীন অসমাপ্ত সেতু। ছবি: সমকাল
নান্দাইল (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২২ ডিসেম্বর ২০২৫ | ১২:২৪
ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার বাপাইল বিলের মাঝখান দিয়ে ৩০ বছর আগে নির্মাণ করা হয় আড়াই কিলোমিটার দীর্ঘ একটি বেড়িবাঁধ। এরপরই বাঁধের মাঝখানে কাছাকাছি দূরত্বে দুটি খালের ওপর দুটি সেতু নির্মাণের কাজ শুরু হয়। কিন্তু কাজ অর্ধসমাপ্ত রেখেই সেতুগুলো ফেলে রাখা হয়। নির্মিত হয়নি সংযোগ সড়কও। বিলের মধ্যে তিন দশক এভাবে পড়ে থেকে সেতু দুটির কাঠামো ভগ্নপ্রায়। অন্যদিকে সেতুর অভাবে বিলপাড়ের কয়েকটি গ্রামের বাসিন্দা দুর্ভোগ পোহাচ্ছে।
উপজেলার বৃহৎ বিলগুলোর মধ্যে মোয়াজ্জেমপুর ইউপির বাপাইল বিলটি অন্যতম। কয়েক হাজার একর জমির বিলটি ঘিরে রয়েছে ৪/৫টি গ্রাম। বন্যার সময় বিলের পানি যাতে উত্তর পাশে থাকা উঁচু জমিতে ঢুকতে না পারে সেজন্য বিলের পূর্বপাশ থেকে উত্তর দিক হয়ে আড়াই কিলোমিটার দৈর্ঘের প্রশস্ত একটি বেড়িবাঁধ নির্মাণ করা হয়। ১৯৯৫ সালে নির্মিত বেড়িবাঁধটি সাবেক এমপি খুররম খান চৌধুরীর বাড়ির পেছন থেকে শুরু হয়ে কাদিরপুর ফরিদখালী সেতুতে গিয়ে মিশেছে।
বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ হিসেবে নির্মিত হলেও এটির আরও দুটি উদ্দেশ্য ছিল। একটি হচ্ছে, উপজেলা সদরের সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ সহজ করা এবং অন্যটি হচ্ছে, বিলে উৎপাদিত ধান যানবাহনে করে দূরবর্তী বাড়িতে নিয়ে যাওয়া। নির্মাণের পরপরই বাঁধের মাঝখানে থাকা খয়রা খাল এবং ফুতারপুরী খালের ওপর দুটি সেতু নির্মাণের কাজ শুরু হয়। দুটি সেতুরই পিলারসহ পাটাতন নির্মিত হলেও সংযোগ সড়ক নির্মাণ করা হয়নি।
উপজেলা সদর থেকে ১৫ কিলোমিটার দূরে বিলের ওই বেড়িবাঁধে গিয়ে দেখা যায়, বেড়িবাঁধের মাঝখানে কাছাকাছি দূরত্বে দুটি খালের ওপর দাঁড়িয়ে আছে দুটি অর্ধসমাপ্ত সেতু। ফুতারপুরী খালের ওপর নির্মিত সেতুটি কিছু বড়। খয়রা খালের ওপর সেতুটি কিছুটা ছোট হলেও বাঁধ থেকে সেটি অনেকটা উঁচুতে। সেতু দুটি এবং বেড়িবাঁধের মধ্যে নেই কোনো সংযোগ সড়ক। তিন দশক পড়ে থেকে সেতু দুটির বর্তমানে ভগ্নদশা। পিলার এবং পাটাতনের ঢালাই ক্ষয়ে গিয়ে রড বের হয়ে গেছে।
সেতুর কাছে গরু চরাতে আসা কাদিরপুর গ্রামের সিদ্দিক মিয়া জানান, পানি কম থাকলে লোকজন কাদাপানি ভেঙে সেতুর নিচ দিয়ে চলাচল করে। বর্ষাকালে নৌকাই ভরসা। গ্রামের আলমগীর হোসেন, আয়নাল মিয়া ও বাবুল মিয়া জানান, বিলে উৎপাদিত ধান চাষিদের বাড়ি নেওয়ার রাস্তা এই বেড়িবাঁধ। দুটি সেতুর অভাবে সেসব ধান বাড়িতে নিতে তাদের দুর্ভোগ পোহাতে হয়।
অধিকার সমাজকল্যাণ সমিতি নামে স্থানীয় একটি সংগঠনের সভাপতি ব্যবসায়ী আব্দুল গনি জানান, সেতু দুটির নির্মাণকাজ হঠাৎ বন্ধ হয়ে যায়। এরপর দেখতে দেখতে ৩০ বছর পেরিয়ে গেছে। এগুলো কারা নির্মাণ করছিল, কেনইবা কাজ বন্ধ হয়ে গেল এখন আর তাদের মনেও নেই। সেতু দুটির জন্য কাবিখা প্রকল্পের আওতায় এক হাজার ১০০ টন গম বরাদ্দ হয়েছিল বলে তাঁর মনে আছে।
নান্দাইল উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আহসান উল্লাহ বলেন, ৩০ বছর আগের কথা, বিস্তারিত তথ্য দেওয়া সম্ভব নয়। বেড়িবাঁধটি তাদের অফিসের তত্ত্বাবধানেই নির্মিত হওয়ার কথা। সেতুগুলোর বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশল অফিস ভালো বলতে পারবে বলে জানান তিনি।
নান্দাইল উপজেলা প্রকৌশলী আব্দুল মালেক বিশ্বাস বলেন, অনেক দিন আগের হওয়াতে বিষয়টি জানা সম্ভব নয়। উঁচু সেতুর পিলার ভালো থাকলে পাটাতন কেটে ফেলে দিয়ে নতুন করে পাটাতনসহ রেলিং নির্মাণ করা যাবে। অন্য সেতুর ক্ষেত্রে কী করতে হবে তা সরেজমিন না দেখে বলা যাচ্ছে না।
