ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

সবজির ভান্ডার পাবনায় সংরক্ষণে নতুন প্রযুক্তি, কৃষকের মাঝে স্বস্তি

সবজির ভান্ডার পাবনায় সংরক্ষণে নতুন প্রযুক্তি, কৃষকের মাঝে স্বস্তি
×

ছবি : সমকাল

পাবনা অফিস

প্রকাশ: ২৪ ডিসেম্বর ২০২৫ | ০০:০৩

শীত ও গ্রীষ্ম—দুই মৌসুমেই বেগুন, টমেটো, শসা, ফুলকপি, বাঁধাকপি এবং মরিচসহ নানা সবজিতে ভরে ওঠে পাবনার মাঠ। উৎপাদনে সাফল্য থাকলেও একসঙ্গে অতিরিক্ত সবজি বাজারে আসায় অনেক সময় দাম পড়ে যায়। সংরক্ষণের সুযোগ না থাকায় কৃষক বাধ্য হয়ে কম দামে পণ্য বিক্রি করেন।

এই সংকট কাটাতে কৃষি মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে পাবনায় চালু হয়েছে ফার্মার্স মিনি কোল্ড স্টোরেজ সম্প্রসারণ কার্যক্রম। এতে পাবনার কৃষকদের মাঝেও নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে।

মঙ্গলবার পাবনা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের হলরুমে ফার্মার্স মিনি কোল্ড স্টোরেজ বিষয়ক এক প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।  

কর্মশালায় জানানো হয়, জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট ফান্ডের অর্থায়নে ‘জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় সাশ্রয়ী কোল্ড স্টোরেজ প্রযুক্তি সম্প্রসারণের মাধ্যমে কৃষকের আয় বৃদ্ধি’ শীর্ষক প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে কৃষি মন্ত্রণালয়। এই প্রকল্পের আওতায় সারাদেশে টিএসসিআর (ঘরভিত্তিক) ও টিএসসিসি (কনটেইনারভিত্তিক) দুই ধরনের ১০০টি ফার্মার্স মিনি কোল্ড স্টোরেজ চালু করা হয়েছে।

এগুলো সোলারচালিত, সেন্সর নিয়ন্ত্রিত ও বিদ্যুৎসাশ্রয়ী। মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে তাপমাত্রা ও আর্দ্রতা নিয়ন্ত্রণ করা যায়। ৮ থেকে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় কয়েক মাস পর্যন্ত ফল ও সবজি সতেজ রাখা সম্ভব। ঘরভিত্তিক স্টোরেজে প্রায় ১০ টন পণ্য সংরক্ষণ করা যায়।

কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে কৃষি মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মো. আলি কবির বলেন, দেশে কৃষি উৎপাদন বাড়লেও সংরক্ষণ ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতার কারণে কৃষক অনেক সময় ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হন। ফার্মার্স মিনি কোল্ড স্টোরেজ সেই দীর্ঘদিনের সমস্যার কার্যকর সমাধান। এতে ফসল নষ্ট কমবে এবং কৃষক বাজার ব্যবস্থাপনায় আরও সক্ষম হবেন।

সভাপতির বক্তব্যে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, পাবনার উপপরিচালক মো. জাহাঙ্গীর আলম প্রামাণিক বলেন, পাবনা একটি গুরুত্বপূর্ণ কৃষি উৎপাদন অঞ্চল। এখানে উৎপাদন ভালো হলেও সংরক্ষণের অভাবে কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হন। মিনি কোল্ড স্টোরেজ চালুর কারণে কৃষক নিজের উৎপাদিত পণ্য নিজের নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারবেন।

প্রকল্প পরিচালক তালহা জুবাইর মাসরুর বলেন, সংরক্ষণের সুযোগ থাকলে কৃষক সুবিধামতো সময়ে পণ্য বাজারজাত করতে পারবেন। এই প্রযুক্তি কৃষকের দোরগোড়ায় সংরক্ষণ সুবিধা পৌঁছে দেবে।

কর্মশালা শেষে অতিথি ও অংশগ্রহণকারীরা পাবনা সদর উপজেলার দাপুনিয়া এলাকায় স্থাপিত কনটেইনার ও সোলারভিত্তিক একটি মিনি কোল্ড স্টোরেজ পরিদর্শন করেন। সেখানে সংরক্ষিত ফুলকপি, কাঁচামরিচ, লাউ, বিটরুট ও ব্রোকলি ঘুরে দেখেন এবং স্থানীয় কৃষকদের অভিজ্ঞতা শোনেন।

স্থানীয় কৃষক সিদ্দিকুর রহমান বলেন, আগে বাজারে দাম কম থাকলে সবজি নষ্ট হয়ে যেত। এখন সংরক্ষণ করে ভালো সময়ে বিক্রি করতে পারছি। কৃষকদের স্বার্থে এমন কোল্ড স্টোরেজ আরও বাড়ানো দরকার।

আরও পড়ুন

×