ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

আগুনে দুই মেয়ের মৃত্যু 

মামলার অগ্রগতি নেই, হতাশ বেলাল হোসেন

মামলার অগ্রগতি নেই, হতাশ বেলাল হোসেন
×

আয়েশা আক্তার ও সালমা আক্তার স্মৃতি

লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২৫ ডিসেম্বর ২০২৫ | ২০:১১

লক্ষ্মীপুরে বিএনপি নেতা বেলাল হোসেনের বাড়িতে আগুন দেওয়ার ঘটনায় দগ্ধ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন তাঁর কলেজপড়ুয়া বড় মেয়ে সালমা আক্তার স্মৃতি (১৭) মারা গেছে। ঢাকার জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত বুধবার রাতে তার মৃত্যু হয়। এর আগে আগুনে দগ্ধ হয়ে বেলালের সাত বছরের মেয়ে আয়েশা আক্তার মারা যায়।

সালমা আক্তার লক্ষ্মীপুরের ভবানীগঞ্জ কলেজের একাদশ শ্রেণির ছাত্রী। গত ৫ ডিসেম্বর মোবাইল ফোনে তার বিয়ে হয়েছিল। সালমার স্বামী ওমানপ্রবাসী। 

ছোট মেয়ের পর বড় মেয়েকে হারিয়ে কান্না থামছে না বেলাল হোসেনের। তিনি লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার ভবানীগঞ্জ ইউনিয়নের চরমনসা গ্রামের সূতারগোপ্তা এলাকার বাসিন্দা। ওই ইউনিয়ন বিএনপির সহসাংগঠনিক সম্পাদক বেলাল। গত ১৯ ডিসেম্বর গভীর রাতে তাঁর বাড়িতে আগুন লাগে। বেলালের দাবি, দরজায় বাইরে থেকে তালা লাগিয়ে ও পেট্রোল ঢেলে ঘরে আগুন দেওয়া হয়। আগুনে পুড়ে ওই দিনই তাঁর ছোট মেয়ে আয়েশার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় বেলাল এবং তাঁর দুই মেয়ে বীথি আক্তার (১৪) ও সালমা আক্তার দগ্ধ হয়। এর মধ্যে বীথি চিকিৎসা নিয়ে বাসায় ফিরেছে।

আগুনের ঘটনায় নাশকতার কোনো ‘বিশ্বাসযোগ্য’ আলামত পায়নি বলে দাবি করেছে পুলিশ। যদিও সোমবার ঘটনাস্থলে তল্লাশি চালিয়ে তিনটি তালা উদ্ধার করে পুলিশের একটি দল। এ ঘটনায় মঙ্গলবার রাতে সদর থানায় অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে হত্যা মামলা করেন বেলাল হোসেন। তবে গতকাল পর্যন্ত কাউকে আটক করতে পারেনি পুলিশ। এতে হতাশ ও ক্ষুব্ধ বেলাল।

তিনি বলেন, ‘ছোট মেয়ের মৃত্যুর ঘটনায় করা মামলায় অগ্রগতি নেই। পুলিশ কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি। আমি পুরোপুরি সুস্থ হতে পারিনি। সুস্থ হয়ে বড় মেয়ের মৃত্যুর ঘটনায় আরেকটি মামলা করব।’

জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের আবাসিক সার্জন ডা. শাওন বিন রহমান জানান, লক্ষ্মীপুরের আগুনের ঘটনায় ভোরে বীথি ও সালমাকে শনিবার ভোরে হাসপাতালে আনা হয়। সালমার শরীরের ৯০ শতাংশ দগ্ধ হয়েছিল। বীথির হাত ও পায়ের সামান্য অংশ (৫ শতাংশ) দগ্ধ হয়েছিল। তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। সালমার অবস্থা প্রথম থেকেই আশঙ্কাজনক ছিল। তাকে আইসিইউতে ভর্তি রাখা হয়। সেখানে বুধবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে সে মারা যায়।

লক্ষ্মীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) হোসাইন মোহাম্মদ রায়হান কাজেমী বলেন, ঘটনার দিন আগুনে পুড়ে আয়েশার মৃত্যু হয়। এবার চিকিৎসাধীন অবস্থায় দগ্ধ সালমাও মারা গেল। তাদের বাবা বাদী হয়ে মামলা করেছেন। ঘটনাটির তদন্ত চলছে।
 

আরও পড়ুন

×