ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

পাংশায় গণপিটুনিতে ‘সম্রাট বাহিনী’র প্রধান নিহত

পাংশায় গণপিটুনিতে ‘সম্রাট বাহিনী’র প্রধান নিহত
×

প্রতীকী ছবি

রাজবাড়ী প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২৫ ডিসেম্বর ২০২৫ | ২১:০৮ | আপডেট: ২৫ ডিসেম্বর ২০২৫ | ২২:৫৬

রাজবাড়ীর পাংশায় গণপিটুনিতে নিহত হয়েছেন ‘সম্রাট বাহিনী’র প্রধান অমৃত মণ্ডল ওরফে সম্রাট। গত বুধবার রাত ১১টার দিকে পাংশার কলিমহর ইউনিয়নের হোসেনডাঙ্গা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। পুলিশ বলেছে, সম্রাট চাঁদাবাজি করতে গিয়ে গণপিটুনির শিকার হন।

এ সময় তাঁর সহযোগী সেলিম হোসেনকে আটক করে পুলিশে দেন স্থানীয়রা। তাঁর কাছ থেকে একটি পিস্তল ও একটি ওয়ান শুটারগান উদ্ধার করা হয়েছে। বর্তমানে তিনি পুলিশি হেফাজতে পাংশা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন। নিহত সম্রাট হোসেনডাঙ্গা গ্রামের অক্ষয় মণ্ডলের ছেলে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, ২০১৪ সালে সম্রাট ভারতে চলে যান। এর আগে দেশে থাকাকালে তিনি কামারের কাজ করতেন। ভারতে যাওয়ার পর তাঁর নামে এলাকায় ‘সম্রাট বাহিনী’ নামে সন্ত্রাসী দল গড়ে ওঠে। এ বাহিনীর বিরুদ্ধে হত্যা, চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অপরাধের অভিযোগ রয়েছে।

পাংশা থানা পুলিশ জানায়, রাত ১১টার দিকে অমৃত মণ্ডল ওরফে সম্রাট ১০-১২ সহযোগী নিয়ে কলিমহর ইউনিয়নের হোসেনডাঙ্গা গ্রামের শহীদ শেখের বাড়িতে চাঁদাবাজি করতে যান। এ সময় বাড়ির লোকজন ‘ডাকাত, ডাকাত’ বলে চিৎকার করলে প্রতিবেশীরা এগিয়ে আসেন। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে সম্রাট ও তাঁর সহযোগীরা পালানোর চেষ্টা করলে গ্রামবাসী একজোট হয়ে ধাওয়া দেয়। এক পর্যায়ে বাড়ি থেকে প্রায় এক কিলোমিটার দূরে বসুয়া গ্রামে স্থানীয়রা সম্রাট ও তাঁর সহযোগী সেলিমকে আটক করে গণপিটুনি দেয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে সম্রাটকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার এবং তাঁর সহযোগী সেলিমকে একটি পিস্তল ও একটি ওয়ান শুটার গানসহ আটক করে। আটক সেলিম কলিমহর ইউনিয়নের বসুয়া গ্রামের ইসলাম শেখের ছেলে।

শহীদ শেখের চাচাতো ভাই হানিফ শেখ জানান, এক মাস আগে সম্রাট তাঁর ভাইয়ের কাছে মোবাইল ফোনে দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। টাকা না দেওয়ায় নানা ধরনের হুমকি দিয়ে আসছিলেন। গত বুধবার রাতে তিনি দলবল নিয়ে আবার চাঁদা চাইতে আসেন। তখন গ্রামবাসী প্রতিরোধ গড়ে তোলেন।

সম্রাটের বড় ভাই অমিয় মণ্ডল জানান, ভোরে পুলিশ এসে তাঁকে ডেকে তোলে। এর আগে তিনি কিছুই জানতেন না। তাঁর ভাই ২০১৪ সালে ভারতে চলে যায়। এরপর ভাইয়ের সঙ্গে তাঁর কোনো যোগাযোগ ছিল না। ভারত থেকে কবে দেশে এসেছে, তিনি জানেন না। যেহেতু ভাই, এ জন্য পোস্টমর্টেম হলে শেষকৃত্য করবেন। 

পাংশা মডেল থানার ওসি শেখ মঈনুল ইসলাম জানান, অমৃত মণ্ডল ওরফে সম্রাটের বিরুদ্ধে একটি হত্যা ও একটি চাঁদাবাজির মামলা রয়েছে। 

রাজবাড়ীর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনজুর মোর্শেদ জানান, সম্রাট পাশের দেশে বসে চাঁদাবাজি করতেন। মাঝেমধ্যে দেশে আসতেন, আবার চলে যেতেন। কিছুদিন আগে এক ব্যক্তির কাছে চাঁদা দাবি করেন সম্রাট। কিন্তু ওই ব্যক্তি বিষয়টি নিয়ে কোনো অভিযোগ করেননি। গত বুধবার রাতে সম্রাট দলবল নিয়ে চাঁদা নিতে গেলে গণপিটুনিতে মারা যান। এ সময় তাঁর এক সহযোগীকে দুটি অস্ত্রসহ আটক করা হয়। 

তিনি জানান, এ ব্যাপারে মামলার প্রস্তুতি চলছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য রাজবাড়ী সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।

আরও পড়ুন

×